
ভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে বড় ধরনের বিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা অবাধ নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। তবে মাদুরোর উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য এখনও কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রদ্রিগেজ নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন।
বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নেতৃত্বাধীন ভেন্তে ভেনেজুয়েলা আন্দোলন এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। কারাকাস ছাড়াও ভ্যালেন্সিয়া, মারাকাই, সান ক্রিস্তোবাল ও মারাকাইবো শহরে বিক্ষোভ হয়। মাচাদো বলেছেন, ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর প্রায় এক বছর ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন তিনি।
১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লিওসমারি হার্নান্দেজ বলেন, পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখে তিনি আশাবাদী। ডলারের কারণে সৃষ্ট সমস্যা ও পড়াশোনার নানা বাধার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আশার কথা জানান। আগেও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার নিজের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ক্ষমতায় এখনও মাদুরোর দল
১৯৯৯ সাল থেকে প্রয়াত হুগো চাভেজ ও পরে মাদুরোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতায় রয়েছে সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি। মাদুরো আটক হওয়ার পরও তার দল ভেনেজুয়েলার ঐক্যবদ্ধ সমাজতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার, কারাবন্দি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অতীতে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হলেও বৃহস্পতিবারের (২২ অক্টোবর) কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। অনেক ছোট শহরে সন্ধ্যার আগেই বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
বিরোধীদের কর্মসূচির আগে ক্ষমতাসীন দলও রাজধানীতে মিছিল করে। স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত ওই মিছিলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেইয়ো। বিরোধী সমর্থকেরা পরে কাছাকাছি অন্য স্থানে বিক্ষোভ করেন।
নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে
নির্বাচনের পথ তৈরি করতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ও নির্বাচন পরিষদ পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে বিরোধীদের একটি অংশের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে অনুষ্ঠিত এসব আলোচনায় মাচাদোর রাজনৈতিক আন্দোলন অংশ নিচ্ছে না। তবে আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা দেবেন না বলে জানিয়েছেন মাচাদো।
২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়া নিজেদের প্রকাশ করা ভোটের হিসাব অনুযায়ী বিজয়ী হওয়ার দাবি করেছেন। তবে সরকার পূর্ণাঙ্গ ভোটের হিসাব প্রকাশ করেনি এবং মাদুরোকেই বিজয়ী হিসেবে সমর্থন করেছিল দেশটির আইনি ও নির্বাচনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো।
মাচাদো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়ে আসছেন। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টরপন্থীদের সমর্থনও পেয়েছেন তিনি। মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও নির্যাতনসংক্রান্ত অভিযোগের মুখোমুখি। তারা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং রদ্রিগেজ সরকারের ওপর সংস্কারের চাপ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দেশটির বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নির্বাচন কবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: আল জাজিরা
আরটিভি/জেএমএ


