
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চলন্ত গাড়িতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে কামড়ে তার কানের একটি অংশ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে ৪৩ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাদের এক ও সাত বছর বয়সী দুই সন্তান গাড়ির পেছনের আসনেই বসা ছিল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার নারীর নাম অ্যামি আরলিন বেকার। ফ্লোরিডা হাইওয়ে টহল পুলিশ জানিয়েছে, একটি বোট পার্টি শেষে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আই-৯৫ মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন বেকার। পথেই তাদের পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
তদন্তকারীদের কাছে ভুক্তভোগী স্বামী অভিযোগ করেন, তর্কের একপর্যায়ে বেকার হঠাৎ তার মুখে আঘাত করেন। এরপর তার মাথা শক্ত করে চেপে ধরে সোজা কানে কামড় বসিয়ে দেন এবং কানের একটি অংশ ছিঁড়ে আলাদা করে ফেলেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে নিকটস্থ ওয়েস্ট বোকা মেডিকেল সেন্টারে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাকর্মীদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বেকার। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানান এবং কামড়ে ছিঁড়ে যাওয়া কানের টুকরো অংশটি অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেন।
তবে বেকারের দাবি, তর্ক চলাকালে তার স্বামীই প্রথমে তাকে আঘাত করেছিলেন। যদিও তার স্বামী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা অ্যামি বেকারকেই মূল হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত করেন। তার বিরুদ্ধে অঙ্গহানি ঘটানোর উদ্দেশ্যে মারাত্মক শারীরিক আঘাত ও শিশুদের উপস্থিতিতে দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকেও অবহিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর অ্যামি আরলিন বেকারকে ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি প্রধান কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে তার স্বামী ছিঁড়ে যাওয়া কানের অংশটি পুনঃসংযোজনের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
আরটিভি/এআর




