ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা নাকি ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনা, কোনটি লাভজনক 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেট এখন প্রায় অধরা লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট গড়ে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় অনেকেই সুদের হার কমার অপেক্ষা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিগগিরই হার আবার ৩ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

মহামারির সময় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট প্রায় ৩ শতাংশের আশপাশে নেমে গিয়েছিল। ২০২১ সালে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬৫ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু ২০২২ সালের মার্চ থেকে ফেড সুদের হার বাড়াতে শুরু করলে মর্টগেজ রেটও আবার বাড়তে থাকে। রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেলের মতে, অদূর ভবিষ্যতে ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।

এই পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের সামনে বিকল্প হিসেবে আসতে পারে প্রস্তাবিত প্রপোজিশন ৩৭। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা এই প্রস্তাবের ওপর সিদ্ধান্ত দেবেন। এটি অনুমোদিত হলে মধ্যম আয়ের যোগ্য বাসিন্দারা নতুন নির্মিত বাড়ির দামের সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ফলে ক্রেতার নিজস্ব ডাউন পেমেন্ট নেমে আসতে পারে মাত্র ৩ শতাংশে।

তবে এটি সরাসরি অনুদান নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি এই কর্মসূচি চালু করতে পারবে এবং সহায়তার অর্থ দ্বিতীয় মর্টগেজ হিসেবে দেওয়া হবে। অর্থাৎ বাড়ির মূল মর্টগেজের পাশাপাশি ক্রেতাকে আরেকটি ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে হবে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ বন্ড বিক্রির মাধ্যমে কর্মসূচিটির অর্থায়ন করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা এবং নির্দিষ্ট দামের মধ্যে থাকা নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। বাড়ির মূল্যসীমা কাউন্টিভেদে আনুমানিক ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ ডলারের মধ্যে হতে পারে। ক্রেতাকে অন্তত ৩ শতাংশ নিজস্ব অর্থ দিতে হবে এবং বাকি অর্থের জন্য মূল মর্টগেজ নিতে হবে। প্রস্তাবে সহায়তার ঋণের সুদের খরচ যতটা সম্ভব কম রাখার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট সুদের হার বা ঋণের শর্ত এখনো নির্ধারিত হয়নি।

রিয়েল্টর ডটকমের জুলাই ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫০ ডলার। এই দামে ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট হলে প্রয়োজন হবে প্রায় ২২ হাজার ৩৪০ ডলার। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও মন্টেরির মতো এলাকায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ১০ লাখ ডলারেরও বেশি হওয়ায় বাস্তব পরিস্থিতি এলাকাভেদে অনেকটা ভিন্ন হতে পারে।

প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে যোগ্য হতে ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্তত এক বছর ধরে বসবাস করতে হবে, বাড়িটির প্রথম ক্রেতা হতে হবে এবং ক্লোজিংয়ের ৬০ দিনের মধ্যে বাড়িটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের দ্বিগুণের বেশি হতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালের আয়সীমা অনুযায়ী লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে চার সদস্যের পরিবারের যোগ্যতার সর্বোচ্চ আয় প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২০০ ডলার হতে পারে। তবে চূড়ান্ত আয়সীমা ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি নির্ধারণ করতে পারে।

তাহলে ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের জন্য অপেক্ষা করা ভালো, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সুযোগ নেওয়া ভালো?

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু সুদের হার দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। বাড়ির দাম, মাসিক কিস্তি, ডাউন পেমেন্ট এবং ভবিষ্যতে ঋণ পুনঃঅর্থায়নের সুযোগও বিবেচনায় নিতে হবে। ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার কমে গেলে এবং ক্রেতা অপেক্ষা করার মতো আর্থিক অবস্থায় থাকলে মাসিক খরচের দিক থেকে তারা বেশি সুবিধা পেতে পারেন।

অন্যদিকে, প্রপোজিশন ৩৭-এর মতো কর্মসূচি ব্যবহার করে কম ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনার সুযোগ পেলেও দুটি মর্টগেজের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ভবিষ্যতে মূল মর্টগেজ রিফাইন্যান্স করতে চাইলে দ্বিতীয় ঋণদাতার অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। ফলে সুদের হার কমে গেলেও দুটি ঋণ একত্র করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

রিয়েল্টর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে শুধু কম মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা না করে নিজের আর্থিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি বাস্তবসম্মত। সম্ভাব্য ক্রেতাদের একাধিক ঋণদাতার অফার তুলনা করা, ক্রেডিট ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় গুছিয়ে নেওয়া এবং সম্ভব হলে বেশি ডাউন পেমেন্টের জন্য সঞ্চয় করা উপকারী হতে পারে। মাসিক কিস্তি বেশি হলে তুলনামূলক কম দামের এলাকায় বাড়ি খোঁজার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেট ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে থাকার চেয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়াই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ৩৭ অনুমোদিত হলে কিছু যোগ্য ক্রেতার জন্য কম ডাউন পেমেন্টে বাড়ির মালিক হওয়ার নতুন একটি পথ তৈরি হতে পারে। তবে এটি দ্বিতীয় মর্টগেজভিত্তিক কর্মসূচি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঋণের পূর্ণ শর্ত, সুদের হার এবং ভবিষ্যৎ রিফাইন্যান্সের প্রভাব ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আমেরিকায় যে ৭ ভুলে বছরে বাড়তে পারে হাজার ডলারের খরচ
অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থামা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, টোল বা পার্কিংয়ের জরিমানা সময়মতো পরিশোধ না করা এবং বীমার মূল্য তুলনা না করার কারণে বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
আমেরিকায় যে ৭ ভুলে বছরে বাড়তে পারে হাজার ডলারের খরচ
নিউইয়র্কে অ্যাপার্টমেন্ট লটারির শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, আবেদন করবেন যেভাবে
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে ২৪টি অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্টের লটারি চলছে। ২৯০৫ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটের নতুন আবাসিক ভবনের এসব অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৬৮১ ডলার থেকে। যোগ্য আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
নিউইয়র্কে অ্যাপার্টমেন্ট লটারির শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, আবেদন করবেন যেভাবে
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মহড়া, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কাছে বর্তমানে কক্ষপথে থাকা ‘অন-অরবিট স্পেস কন্ট্রোল উইপনস’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র রয়েছে। তার ভাষ্য, এসব অস্ত্র শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম। 
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মহড়া, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বহু বিমান ধ্বংস
ইরানের ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক বিমান, ড্রোন ও ঘাঁটি ধ্বংস কিংবা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) পর্যবেক্ষণ সংস্থার এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বহু বিমান ধ্বংস
সংগ্রহে তার দুই হাজার জোড়া মোজা
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের নর্থ অগাস্টার বাসিন্দা ড্যারিল পার্কারের শখ মোজা জমানো। জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকী—উপহার হিসেবে তার প্রথম পছন্দ মোজা। পার্কারের পরিবারের সদস্যরা তার এই পছন্দের কথাটি খুব ভালো করেই জানেন। তাই উপহার হিসেবে পার্কারের জন্য মোজা আনতে তারা ভোলেন না। নিজের এই শখ থেকেই পার্কার এখন বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চলেছেন। তার সংগ্রহে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি জোড়া মোজা রয়েছে এবং এই সংগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। পেশায় অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও প্যারামেডিক পার্কার এখন অবসরজীবন কাটাচ্ছেন। মোজার এই বিশাল সংগ্রহের শুরুটা হয়েছিল সাধারণ একটি বাবা দিবসের উপহার থেকে। এরপর জন্মদিন, পদোন্নতি কিংবা বিবাহবার্ষিকীর মতো নানা উপলক্ষে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে মোজাই পেতে থাকেন তিনি। এভাবে মোজার পাহাড় জমে উঠলে একদিন তার স্ত্রী ও নাতি-নাতনিরা পার্কারকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য চেষ্টা করার পরামর্শ দেন। স্বজনদের কথায় উৎসাহিত হয়ে পার্কার তাতে সায় দেন। এরপর তার রেকর্ড গড়ার অভিযান শুরু করেন। বর্তমানে মোজার সর্ববৃহৎ সংগ্রহের গিনেস রেকর্ডটির মালিক ফিলাডেলফিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সংবাদ পাঠক জিম ডনোভানের দখলে। ২০২৫ সালে তার সংগ্রহে থাকা অনন্য নকশার ১ হাজার ৫৩১ জোড়া মোজা গণনা করে তাকে এই খেতাব দেওয়া হয়। ড্যারিল পার্কার এরই মধ্যে ২ হাজার জোড়ার বেশি মোজা সংগ্রহ করে ফেলেছেন। তাই তিনি যে জিম ডনোভানের রেকর্ড ভেঙে দিতে যাচ্ছেন, তা একরকম নিশ্চিত। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক গণনা ও স্বীকৃতি পাওয়া বাকি। আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন ও গিনেস কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে পার্কার এ বছরের শেষ পর্যন্ত মোজা সংগ্রহ করবেন। এরপর তার লক্ষ্য নিজের এই বিপুল পরিমাণ মোজা তিনি কোনো স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে দান করে দেবেন। সমাজসেবাকে নিজের রক্তে মিশে থাকা তাগিদ হিসেবে দেখা এই সাবেক অগ্নিনির্বাপণকর্মী বলেন, নতুন সংগৃহীত প্রতিটি মোজাই দিন শেষে পৌঁছে দেওয়া হবে আশ্রয়হীন মানুষের কাছে। পার্কার বলেন, শুধু রেকর্ড গড়াই তার একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সমাজে আনন্দ ও খুশির জোগান দিতে চান। আরটিভি/এসএস
সংগ্রহে তার দুই হাজার জোড়া মোজা
আরও পড়ুন
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মহড়া, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
মহাকাশেও প্রস্তুত যুদ্ধক্ষেত্র, অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের 
কানাডার পণ্যের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক ও ছাড় কার্যকর
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: কলেজশিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ