
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অর্থনৈতিক সুরক্ষাবলয় মজবুত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গচ্ছিত থাকা নিজেদের প্রায় ৮৬ টন সোনা লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। সংকটকালীন মুহূর্তে দ্রুত লেনদেনের সক্ষমতা বাড়াতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক’ (ডিএনবি) এই বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতির তথ্য উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলো জানায়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সফলভাবে এই সোনা স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।
স্থানান্তরের আগে নেদারল্যান্ডসের মোট সোনা মজুতের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ জমা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ রক্ষিত ছিল কানাডার অটোয়ায়। সোনা সরিয়ে নেওয়ার পর বর্তমানে দুটি ব্যাংকেই মজুতের পরিমাণ কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বিপরীতে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয়ে ডাচদের সংরক্ষিত সোনার পরিমাণ দাঁড়াল মোট মজুতের ৩২ দশমিক ১ শতাংশে।
ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাণিজ্যে সোনা বেচাকেনা ও বিনিময়ের অন্যতম শীর্ষ কেন্দ্র হলো লন্ডন। আন্তর্জাতিক এই অর্থনৈতিক কেন্দ্রে সোনা সঞ্চিত থাকলে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে তা তরল সম্পদে রূপান্তর বা লেনদেন করা সহজ হয়। এ ছাড়া একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে একাধিক সুরক্ষিত স্থানে সম্পদ ছড়িয়ে রাখলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
তবে অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য বিদেশি ভল্ট থেকে সোনা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ফ্রান্স ও জার্মানিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ফিরিয়ে আনে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে ফ্রান্স নিউইয়র্কে থাকা ১২৯ টন সোনা বিক্রি করে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে নতুন মানের সোনা সংগ্রহ করে। অন্যদিকে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিউইয়র্ক ও প্যারিস থেকে প্রায় ৬৭৪ টন সোনা নিজেদের ফ্রাঙ্কফুর্ট ভল্টে স্থানান্তর করেছিল।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি অনাস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। মূলত নিজেদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো, ভৌগোলিক ঝুঁকি কমানো এবং সংকটকালে দ্রুত ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই দেশগুলো এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
আরটিভি/এআর


