
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে পড়তে যাচ্ছে। এই সংকটের সমাধান হিসেবে এতদিন ধরে কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করে আসা কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও এবার পে-রোল বা বেতনভিত্তিক কর বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলছেন। সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতি এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছে যে শুধু ভবিষ্যৎ সুবিধা কমিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। মার্কিন কংগ্রেস দ্রুত কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিলে আগামী ছয় বছরের মধ্যে লাখ লাখ সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থপ্রদান প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের সঙ্গে যৌথভাবে বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কর্মসূচিতে আরও বেশি অর্থ দিতে হবে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান টম কোলও করের হার এবং করের আওতাভুক্ত আয়ের পরিমাণ উভয়ই বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
টম কোলের মতে, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কাটছাঁট করার রাজনৈতিক ক্ষতি কর বাড়ানোর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। তহবিল ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করবেন।
উল্লেখ্য, সোশ্যাল সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটির বেশি মানুষকে মাসিক নগদ সুবিধা দেয়, যা দেশটির ৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ। কর্মীরা তাদের বেতনের ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং নিয়োগকর্তা সমপরিমাণ কর দিয়ে এই তহবিলে অর্থায়ন করেন। তবে বেবি বুম প্রজন্ম (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মে জন্ম নেওয়া জনগোষ্ঠী) ক্রমান্বয়ে অবসরে যাওয়ার পর থেকে এই তহবিলে টান পড়েছে। বর্তমানে কর আয়ের চেয়ে সুবিধা দেওয়ার খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ ভেঙে ঘাটতি মেটাতে হচ্ছে।
বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেস কোনো ব্যবস্থা না নিলে সুবিধাভোগীদের মাসিক প্রাপ্তি গড়ে ৪৪০ ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সংকট কাটাতে ২০৩৩ সাল নাগাদই অতিরিক্ত ৪৫৯ বিলিয়ন ডলারের নতুন রাজস্ব কিংবা সমপরিমাণ ব্যয় সংকোচনের প্রয়োজন হবে।
দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটির মতে, উচ্চ আয়ের মানুষের করের সীমা তুলে দেওয়া গেলে ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব। রিপাবলিকানদের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থকই বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেওয়ার পক্ষে।
যদিও রিপাবলিকানদের একটি অংশ এখনো সব ধরনের কর বাড়ানোর বিরোধিতা করে বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে কর বাড়ালে ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সইতে হতে পারে। তবে ১৯৮৩ সালেও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে এমন সংকট তৈরি হলে আলোচনার মাধ্যমে কর বৃদ্ধি ও অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছিল। এবারও দীর্ঘমেয়াদি এই অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/এআর


