
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও সারভাইভার সুবিধার জন্য গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে। কংগ্রেস সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ২০৩২ সালে এই তহবিলের অর্থ পুরোপুরি শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)।
প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কর্মীদের বেতন থেকে সংগৃহীত পে-রোল ট্যাক্সের আয় এবং বর্তমান সুবিধা দেওয়ার খরচের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ ব্যবহার করা হলেও তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তহবিল শূন্য হয়ে গেলে বর্তমান আইন অনুযায়ী সংগৃহীত রাজস্ব দিয়েই শুধু সুবিধা পরিশোধ করতে হবে, যা পুরো অর্থ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নয়।
তহবিলের অর্থ ফুরিয়ে গেলে অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও ডিক ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। তাদের হিসাব মতে, মাসে গড়ে ২ হাজার ৮৬ ডলার পান এমন এক ব্যক্তি ভবিষ্যতে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত কম সুবিধা পেতে পারেন।
তবে কংগ্রেস যদি আইন সংশোধন করে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এই চিত্র বদলে যেতে পারে। সংকট সমাধানে ক্যাসিডি ও ডারবিন ‘প্রমিজ অ্যাক্ট’ (PROMISE Act) নামের একটি দ্বিদলীয় প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এর মূল লক্ষ্য সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের মাধ্যমে এমন একটি প্রস্তাব তৈরি করা, যা ট্রাস্ট ফান্ডকে অন্তত ৫০ বছর টেকসই রাখবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে নানা মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে, আবার কেউ অবসরের বয়সসীমা বা সুবিধার কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলছেন। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশটির লাখ লাখ অবসরপ্রাপ্ত মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা।
আরটিভি/এআর


