
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণ প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে।
মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের টেড রসম্যান বলেন, ঋণসংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের শুরুর তুলনায় আর্থিক পরামর্শ নেওয়ার সেশনও বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ।
রসম্যানের মতে, এই আর্থিক চাপের বড় কারণ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া। তিনি বলেন, মানুষ এখন প্রায় সবকিছুর জন্য আগের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছে। ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শুধু খাবার নয়, গাড়ি, জ্বালানি, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিশুদের দেখাশোনার খরচও মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান রসম্যান। ফলে অনেক পরিবারকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে, সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে এবং কোন বিল আগে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
তবে ঋণের কারণে অনেকে লজ্জায় সাহায্য চাইতে চান না। রসম্যান বলেন, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক সংকোচ কাজ করে। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতাদের কাছে অনেকেই জানতে চান, তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ কি না।
রসম্যানের মতে, এই লজ্জা দূরে রাখা দরকার, কারণ একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন লাখো মানুষ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেকই প্রতি মাসে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না এবং এক মাসের ঋণ পরের মাসে বহন করেন।
আরটিভি/ এসকেডি


