ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রিন কার্ড পেতে নতুন নিয়ম জানালো ট্রাম্প প্রশাসন 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের সরকারি সহায়তা গ্রহণ নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে যাওয়া অভিবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়মে সরকারি সহায়তা নেওয়া বা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে তা বিবেচনায় নিতে পারবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। নিয়মটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটি ঠেকাতে আদালতে মামলা হয়েছে।

নতুন নিয়মের ফলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক অভিবাসী ও তাদের পরিবার সরকারি সহায়তা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের একজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং অন্য সদস্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন, তাদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

‘জনস্বার্থের বোঝা’ বলতে কী বোঝায়

গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাইয়ের সময় আবেদনকারী নিজের খরচ নিজে চালাতে পারবেন কি না, তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনা করে আসছেন। সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন ব্যক্তিকে ‘জনস্বার্থের বোঝা’ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান দেশটির অভিবাসন আইনে রয়েছে।

১৯৯৯ সালে বিল ক্লিনটন প্রশাসন এই ধারণার একটি সীমিত ব্যাখ্যা দেয়। তখন মূলত নগদ সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য দেওয়া সহায়তা বিবেচনায় নেওয়া হতো।

তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়। খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা ও আবাসন সহায়তার মতো নগদ নয়—এমন সুবিধাকেও বিবেচনায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের সিদ্ধান্তের পর জো বাইডেন প্রশাসন সেই নিয়ম বাতিল করে ২০২২ সালে নতুন নিয়ম চালু করে।

এবার কী বদলাচ্ছে

নতুন নিয়মটি ২০২২ সালের বিধান বাতিল করে সরকারি সহায়তা বিবেচনার পরিধি আবার বাড়িয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারী সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন কি না, ভবিষ্যতে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। কোন কোন সুবিধা অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে, তার নির্দিষ্ট তালিকা না দিয়ে নিয়মে বলা হয়েছে, আয় ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে দেওয়া সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

এর মধ্যে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, শিশুদের চিকিৎসা কর্মসূচি, আবাসন সহায়তা, শিশুদের যত্নে সহায়তা এবং শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি কর্মসূচির মতো সুবিধা পড়তে পারে।

এমনকি আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের জন্য নেওয়া সরকারি সুবিধাও বিবেচনায় আসতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সন্তানদের জন্য নেওয়া সুবিধাও রয়েছে।

বছরে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার আবেদনকারী

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে ‘জনস্বার্থের বোঝা’ সংক্রান্ত যাচাইয়ের আওতায় পড়তে হয়।

তবে নতুন নিয়মের প্রভাব এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ গ্রিন কার্ড না পাওয়ার ভয়ে আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বৈধভাবে পাওয়ার যোগ্য সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন।

স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ছয় ধরনের সরকারি সুবিধা থেকে সরে যেতে পারেন বা এসব সুবিধায় নতুন করে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, শিশুদের স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও কেন্দ্রীয় আবাসন সহায়তা রয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য নয়, কারণ তারা এসব সরকারি সুবিধার জন্য সাধারণত যোগ্য নন।

শিশু ও পরিবারের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা

অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, নতুন নিয়মের কারণে যোগ্য পরিবারগুলোও সরকারি সহায়তা নিতে ভয় পেতে পারে। এর মধ্যে স্কুলের খাবার ও গর্ভবতী নারী, নতুন মা এবং ছোট শিশুদের পুষ্টি সহায়তার মতো কর্মসূচিও রয়েছে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নিয়মের কারণে অভিবাসী পরিবারের প্রায় ৩৭ লাখ সদস্য চিকিৎসা, খাদ্য, আবাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা হারাতে পারেন। এর প্রভাব অঙ্গরাজ্যগুলোর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। গবেষণাটিতে প্রায় ২৭৪০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ১২ হাজার কর্মসংস্থান হারানোর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

২২ অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মামলা

নতুন নিয়ম ঠেকাতে নিউইয়র্কের নেতৃত্বে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি আদালতে মামলা করেছে। নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একদল শহরও আলাদা মামলা করেছে।

অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, অভিবাসীরা ভয় পেয়ে সরকারি সহায়তা নেওয়া বন্ধ করলে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ হারাতে পারে। এতে মিশ্র নাগরিকত্বের পরিবারগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে শহরগুলোর দাবি, নিয়মটি কার্যকর হলে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও আবাসনের ব্যয় তাদের ওপর আরও বেশি চাপতে পারে এবং স্থানীয় শ্রমবাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।

নিউইয়র্কের মামলায় আদালত প্রাথমিক শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছে। আদালত থেকে নিয়মটি স্থগিত করা না হলে এটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: সিএনএন, গালফ কোস্ট নিউজ

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন
জালিয়াতি রোধ এবং আমেরিকানদের চাকরি সুরক্ষার পদক্ষেপ জোরদার করে মাইক্রোসফট, শীর্ষস্থানীয় আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এবং সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডোবিকে গ্রিন-কার্ড কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা কমাতে এবং তাদের স্থায়ী বাসস্থান ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সংকুচিত করতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।  তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন কর্মসূচির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আঘাত—যা বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার সাধারণ পথ বন্ধ করে দিতে পারে—পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সতর্কবার্তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। জেডি ভ্যান্স বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা সিস্টেম বা ব্যবস্থার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের চেয়ে এগিয়ে।  তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, অথচ অন্যদিকে ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি অস্থায়ী কর্মী ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ডের সুবিধা গ্রহণ করেছে। আমেরিকায় বিশেষ অবদানের জন্য ট্রাম্প যখন মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলাসহ অন্যান্য প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নেয়ারদের সম্মানিত করেন, তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ভ্যান্স এই মন্তব্যগুলো করেন।  সংবর্ধিত হওয়া ইলন মাস্কের মতো নাদেলাও একসময় এইচ-১বি ভিসাধারী ছিলেন। এছাড়া সম্মানিত হওয়া অন্য সিইওদের মধ্যে তিনজনও ছিলেন অভিবাসী। পুরস্কার গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নাদেলা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তিনি প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং আমেরিকার সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ চালিয়ে যাবেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার (মার্কিন শ্রম বিভাগ)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী শ্রম প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া বা 'পিইআরএম' আবেদনের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট সবচেয়ে বড় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য পার্ম প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়, যার অধীনে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হয় যে কোনো বিদেশী কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের বেতন বা কর্মসংস্থানে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তারা যেসব এইচ-১বি আবেদন জমা দিয়েছিল, তার প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল তাদের বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য, নতুন কোনো কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। গত জুলাই মাসে কোম্পানিটি জানায় যে তারা ৪,৮০০টি পদ বিলুপ্ত বা ছাঁটাই করবে, যা তাদের মোট বিশ্বব্যাপী জনবলের প্রায় ২.১ শতাংশ। শ্রম সচিব কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, এই স্থগিতাদেশ কগনিজেন্ট , ইনফোসিস , টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো , এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সন্ডারলিং বলেন, 'আমরা এই কোম্পানিগুলোর সাথে জড়িত কোনো নতুন স্থায়ী শ্রম প্রত্যয়ন (পিইআরএম) আবেদন গ্রহণ করব না এবং পেন্ডিং বা প্রক্রিয়াধীন থাকা কোনো আবেদনও আর প্রসেস করব না।' তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এই কোম্পানিগুলো প্রায় ৩০ লাখ বিদেশী কর্মী নিয়োগ করতে চেয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ২,৩০,০০০-এরও বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং ১ লাখেরও বেশি স্থায়ী শ্রম প্রত্যয়ন (পিইআরএম) সনদ পেয়েছে। মার্কিন অভিবাসন তথ্যানুসারে, ২০২৬ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি সুবিধাভোগীদের সবচেয়ে বড় নিয়োগকর্তা ছিল অ্যামাজন ডটকম। এরপরের স্থানগুলোতে রয়েছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট। ভ্যান্স বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন বহাল থাকবে এবং প্রশাসন চায় কোম্পানিগুলো যেন তাদের কর্মী নিয়োগ পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটায়।  তিনি বলেন, কিছু কোম্পানি অকার্যকর চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে এবং পরবর্তীতে কম বেতনে বিদেশী কর্মী নিয়োগের যুক্তি হিসেবে আবেদনকারীর অভাবকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায়। এদিকে মাইক্রোসফট তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের এইচ-১বি কর্মীদের সমমানের কাজ করা অন্যান্য কর্মীদের মতোই একই হারে বেতন প্রদান করে। ভারতের আইটি শিল্পের সংগঠন নাসকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় টেক কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর তাদের নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে এনেছে এবং পার্ম (পিইআরএম) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড চাওয়া তাদের কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশ কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শ্রম বিভাগ প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল নামক একটি প্রয়োগকারী অভিযান শুরু করে, কারণ হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় বিদেশ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের নতুন এইচ-১বি আবেদনের ওপর এককালীন ১ লাখ ডলার ফি আরোপ করা হয়েছিল। এ ছাড়াও আমেরিকান কর্মীদের বেতন কমানোর উদ্দেশ্যে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আরটিভি/এসআর
মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ / যুক্তরাষ্ট্রের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।  বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ তদন্তের ঘোষণা দেন। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসি ডেভিস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। তার অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি গবেষকদের জন্য নির্ধারিত ভিসা কর্মসূচি অতিরিক্ত ব্যবহার করে মার্কিন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কর্মসংস্থান এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করছে। ভ্যান্স বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জে-১ ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। বিদেশি গবেষকদের নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম ব্যয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।  এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো প্রতিষ্ঠান ভিসা জালিয়াতি করেছে বলে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পের কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ বিদেশি নাগরিক।  তাদের দাবি, জাতীয় পর্যায়ে এই হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান কীভাবে হিসাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি গবেষকদের উপস্থিতির হার বেশি হওয়ার অর্থ নিজে থেকেই ভিসা জালিয়াতির প্রমাণ নয়।  তদন্তে মূলত ভিসার শর্ত, নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইতিমধ্যে তদন্তের অংশ হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে। বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্কের অনিয়ম এবং ভিসার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ইউসি ডেভিস কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভিসাসংক্রান্ত সব কেন্দ্রীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলে।  ফক্স৪০-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তদন্তের বিষয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তে কী ধরনের নথি পরীক্ষা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জে-১ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিনিময় কর্মসূচির আওতাভুক্ত অস্থায়ী ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশটিতে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক গবেষক ও পোস্টডক্টরাল গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ক্ষেত্রে এই ভিসা ব্যবহার করে থাকে।  অন্যদিকে, এইচ-১বি ভিসা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ দেয়। দুটি ভিসার উদ্দেশ্য ও শর্ত আলাদা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে উভয় কর্মসূচির ব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জে-১ ভিসার মাধ্যমে বিদেশি গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করাচ্ছে।  তার মতে, এতে স্থানীয় গবেষকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিদেশি গবেষকদের বেতন তুলনামূলক কম কি না, কিংবা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভিসার শর্ত ভেঙেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগের শর্ত, কাজের ধরন ও আর্থিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই তদন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। বিদেশি শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  ফলে ভিসা ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগ এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হতে পারে। শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক ডি’এসপোসিটি বলেছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরিচিতি বা মর্যাদার কারণে তদন্তের বাইরে রাখা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে ভিসার অপব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশি প্রভাব এবং আর্থিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।  তবে তদন্ত চলাকালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আরটিভি/এসআর ‎  
যুক্তরাষ্ট্রের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোতে মারামারি নিয়ে নিরাপত্তাশঙ্কায় অভিভাবকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ৬ হাজার ১৩১টি মারামারির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা চার বছর আগের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোতে মারামারি নিয়ে নিরাপত্তাশঙ্কায় অভিভাবকেরা
শান্তিতে নোবেল জয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক ছিলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
শান্তিতে নোবেল জয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
মেক্সিকোতে উপকূলে ধেয়ে আসছে হারিকেন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন ‘ইসাইয়াস’।
মেক্সিকোতে উপকূলে ধেয়ে আসছে হারিকেন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা
আরও পড়ুন
মেক্সিকোতে উপকূলে ধেয়ে আসছে হারিকেন, ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা
প্রচারণার পোস্টার ঠিক করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার প্রার্থী, তদন্তে পুলিশ
বন্দুক-ছুরি নিয়ে ন্যাশভিলের আদালতে হামলার চেষ্টা
মিশিগানে সিরিয়াল কিলারের আতঙ্ক, সতর্ক করলেন পুলিশপ্রধান