
নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়। এই বাস্তবতায় ২০২৬ অর্থবছরে শহরজুড়ে ১৮ হাজার ২৬১টি গাছ লাগানোর তথ্য জানিয়েছে পার্কস বিভাগ - ২০১৬ সালের পর এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ।
সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন গাছের বেশির ভাগ লাগানো হয়েছে প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে। তালিকায় আছে ব্রাউনসভিল, মট হেভেন, ইস্ট হারলেম ও সাউথ ওজোন পার্ক। ব্রাউনসভিল ও ইস্ট হারলেমে গরমের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য এ বছর নতুন শীতল আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
কেন এসব এলাকায় গাছ জরুরি, তার ব্যাখ্যা মিলেছে সিটির কম্পট্রোলারের এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের সব এলাকায় গাছের ছায়া সমান নয়। সাউথ ব্রঙ্কস ও সেন্ট্রাল ব্রুকলিনের কিছু এলাকায় গাছের আচ্ছাদন কম, আর সেখানে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি।
তবে গাছ লাগানোর সংখ্যা বাড়লেই দ্রুত বেশি ছায়া মিলবে, এমন নয়। কম্পট্রোলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরে গাছের আচ্ছাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে আগে লাগানো গাছের বেড়ে ওঠা। নতুন গাছ টিকিয়ে রাখতে প্রথম কয়েক বছর নিয়মিত পানি দেওয়া, মাটি ও গোড়ার পরিচর্যা জরুরি। পরিচর্যায় কর্মী ও অর্থের ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
নিউইয়র্কের লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের ৩০ শতাংশ জমি গাছের ছায়ার আওতায় আনা। তাই ১৮ হাজার গাছ লাগানোর পরের প্রশ্ন হলো - গাছগুলো কতটা টিকে থাকবে এবং যেসব পাড়ায় ছায়ার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেখানকার বাসিন্দারা কতটা সুফল পাবেন।
আরটিভি/ এসকেডি



