
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববারের এ আয়োজনে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিরা অংশ নেন।
নতুন মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনতলা ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদটি নির্মিত হলে ওজন পার্ক ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মুসল্লিদের নামাজ আদায়, ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের জন্য আরও বড় পরিসরের সুযোগ তৈরি হবে।
আল ফুরকান জামে মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে ওজন পার্কের মুসলিম কমিউনিটিতে ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সালে একটি ছোট বেসমেন্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, ঈদের নামাজ, জানাজা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ইসলামি স্কুল, কোরআন তাফসির ও ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।
মসজিদটির বর্তমান ঠিকানা ৭৬-১৮ গ্লেনমোর অ্যাভিনিউ, ওজন পার্ক, কুইন্স। স্থানীয় বিভিন্ন তথ্যসূত্রেও এটিকে ওই এলাকার মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ১০-এর ২০২৬ সালের জুনের সভার নথিতেও আল-ফুরকান-সংক্রান্ত নতুন ভবনের জন্য খননকাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন ভবনের জন্য খননকাজের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় আসে।
রোববারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের আয়োজনে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ নতুন মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হলে নতুন ভবনটি শুধু নামাজের স্থান হিসেবে নয়, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্যও ব্যবহৃত হবে।
ওজন পার্ক কুইন্সের একটি বহুজাতিক এলাকা, যেখানে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। আল ফুরকান জামে মসজিদও দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মুসলিমদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। মসজিদের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন।
নতুন তিনতলা মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের যে তহবিল প্রয়োজন হবে, তা সংগ্রহে কমিউনিটির সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে নতুন ভবনের মোট আয়তন, আসনসংখ্যা এবং নির্মাণের নির্দিষ্ট সমাপ্তির তারিখ সম্পর্কে মসজিদের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব বিষয়ে আয়োজকদের ঘোষণাকেই প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরটিভি/ এসকেডি



