ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণ মামলায় নতুন তদন্তকারী নিয়োগ  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ ও মাদক খাওয়ানোর অভিযোগের তদন্তে স্থানীয় জেলা অ্যাটর্নিকে সরিয়ে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল এ নিয়োগের ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রাতৃসংঘের একটি ভবনে ২০২৪ সালে ধর্ষণ ও মাদক খাওয়ানোর অভিযোগ তোলা ওই শিক্ষার্থীর মামলার তদন্ত নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

গভর্নর হকুল বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য তদন্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর ফলে তদন্তের প্রতি তার এবং সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, অভিযোগকারী নারী সত্যের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের চেষ্টা করা হচ্ছে—এটি জানার অধিকার রাখেন।

অভিযোগকারী নারীকে মামলায় জেন ডো নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ভ্রাতৃসংঘের সাত সদস্যসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালে ভ্রাতৃসংঘের একটি ভবনে তাকে গণধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং মাদক খাওয়ানো হয়। অভিযোগের ঘটনায় এখনো কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পরে টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় বিষয়টি তদন্ত করে। ওই সময় জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন জানিয়েছিলেন, ফৌজদারি অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে চলতি সপ্তাহে ভ্যান হাউটেনের কার্যালয় মামলাটি আবারও পর্যালোচনা করার কথা জানায়। একই সঙ্গে তিনি আগের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ২০২৪ সালে পুলিশের কাছে দেওয়া ওই নারীর বক্তব্যে মাদক গ্রহণ ও যৌন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণকে স্বেচ্ছায়, সচেতন ও সম্মতিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

এদিকে অভিযোগকারীর আইনজীবী থমাস গুইফ্রা বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জেলা অ্যাটর্নি ভ্যান হাউটেনের মাধ্যমে মামলাটি সক্রিয়ভাবে তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে তাদের আস্থা ছিল না।

গুইফ্রার দাবি, ভ্যান হাউটেনের কার্যালয় যে নথি পেয়েছিল, সেখানে অভিযোগকারী নারী পুলিশের কাছে নিজেকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটি তিনি পর্যালোচনা করেননি। এ বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী।

তবে ভ্যান হাউটেন বুধবার জানিয়েছেন, ওই নির্দিষ্ট অভিযোগটি কর্নেল পুলিশের কাছ থেকে তার কার্যালয়ে পাওয়া লিখিত বক্তব্যে ছিল না। অভিযোগকারীর পুলিশের কাছে দেওয়া সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম।

গভর্নর হকুল জানিয়েছেন, বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে লেটিশিয়া জেমস পুরো ঘটনা তদন্ত করবেন। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করতে এবং গ্র্যান্ড জুরির কাছে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন।

লেটিশিয়া জেমস বলেন, কোনো অপরাধের অভিযোগ জানালে তা পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়সংগতভাবে তদন্ত করা হবে—এমন আস্থা প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর থাকা উচিত। গভর্নর তার কার্যালয়কে এই তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলেও জানান তিনি।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ও স্বাধীন তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গভর্নর হকুলের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের হাতে মামলাটি দেওয়ার বিষয়েও তাদের সমর্থন রয়েছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের জাতীয় সংগঠন জানিয়েছে, মামলা চলমান থাকায় নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে তারা মন্তব্য করতে পারবে না। তবে অভিযোগগুলোকে তারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভ্রাতৃসংঘটির স্থানীয় শাখার কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গার্লফ্রেন্ডকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন র‍্যাপার রিক রস
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র‌্যাপার রিক রসকে গার্লফ্রেন্ডকে মারধর ও শ্বাসরোধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
গার্লফ্রেন্ডকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন র‍্যাপার রিক রস
দুই দফা বিষ প্রয়োগেও মৃত্যু হয়নি, গুরুতর অবস্থায় ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্রিস্টা পাইক গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুই দফা বিষ প্রয়োগেও মৃত্যু হয়নি, গুরুতর অবস্থায় ক্রিস্টা পাইক
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ভিসার আবেদন করা বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই শুরুর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ১ অক্টোবর থেকে ‘আই’ ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে যুক্তরাষ্ট্র যেতে আগ্রহী বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ‘আই’ ভিসা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া সহজ করতে আই, টিডি ও টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিং ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিকমাধ্যমের প্রোফাইল উন্মুক্ত বা দৃশ্যমান রাখতে হবে। তবে আবেদনকারীদের কতদিন আগের অ্যাক্টিভিটি পর্যালোচনা করা হবে, কতদিন প্রোফাইল 'পাবলিক' রাখতে হবে কিংবা কোন ধরনের অনলাইন কনটেন্ট দেখা হবে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকেই অধিকাংশ ভিসাপ্রার্থীর কাছ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া আইডির তথ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আই, টিডি এবং টিএন নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার আবেদনকারীদেরও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হলো। টিএন ভিসা মূলত ‘ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্টের’ অধীনে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কানাডা ও মেক্সিকোর পেশাজীবীদের জন্য এবং টিডি ভিসা দেওয়া হয় তাদের স্ত্রী বা নির্ভরশীল সন্তানদের। আরটিভি/এসআর
মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বিদেশি সাংবাদিকদের স্যোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল যাচাই শুরু
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
২১ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টি বা লাস ভেগাসে ভ্রমণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন মিরিয়াম হারেগোট। নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও চালু করেছেন এই তরুণী। মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মিরিয়াম বলেন, মানুষকে মানবিকতার ছোঁয়া দিতে পেরে দারুণ লাগছে, কারণ বর্তমান বিশ্বে এর বড্ড অভাব। আপনি নিজে সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, সেই পরিবর্তনের সূচনা আপনার নিজেকে দিয়েই করা উচিত। এই আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পরপরই মিরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য প্যাক প্রজেক্ট’ (P.A.C.K. - People Advocating Community Kinship) নামের একটি সংগঠন।  সাউথ সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলেসের একদল তরুণ, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি মূলত গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই প্রজেক্টের আওতায় ‘ফিড দ্য হোমিস’ (Feed The Homies) নামের একটি মাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিড রো এলাকায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।  সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি, বড় তহবিল বা অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মিরিয়াম যেভাবে নিজেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। আরটিভি/এসআর
লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ সঙ্গে নিলে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)।  ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও জরুরি। তবে শুধু প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া যায় না। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য।  সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, সঙ্গে থাকা ওষুধ নিজের চিকিৎসায় কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। ওষুধ মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না।  বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ নিয়ে যাওয়ার আগে যা জানা খুবই জরুরি
আরও পড়ুন
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ মামলায় সামনে এলো নতুন তথ্য
কর্নেলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, দুই বছর পর ফের তদন্ত
ধর্ষণ মামলার আসামিকে স্বামী হিসেবে পেতে আদালতে যে কাণ্ড ঘটালেন নারী
লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন