
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ ও মাদক খাওয়ানোর অভিযোগের তদন্তে স্থানীয় জেলা অ্যাটর্নিকে সরিয়ে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল এ নিয়োগের ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রাতৃসংঘের একটি ভবনে ২০২৪ সালে ধর্ষণ ও মাদক খাওয়ানোর অভিযোগ তোলা ওই শিক্ষার্থীর মামলার তদন্ত নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
গভর্নর হকুল বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য তদন্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর ফলে তদন্তের প্রতি তার এবং সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, অভিযোগকারী নারী সত্যের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের চেষ্টা করা হচ্ছে—এটি জানার অধিকার রাখেন।
অভিযোগকারী নারীকে মামলায় জেন ডো নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ভ্রাতৃসংঘের সাত সদস্যসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালে ভ্রাতৃসংঘের একটি ভবনে তাকে গণধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং মাদক খাওয়ানো হয়। অভিযোগের ঘটনায় এখনো কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।
ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পরে টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় বিষয়টি তদন্ত করে। ওই সময় জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন জানিয়েছিলেন, ফৌজদারি অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে চলতি সপ্তাহে ভ্যান হাউটেনের কার্যালয় মামলাটি আবারও পর্যালোচনা করার কথা জানায়। একই সঙ্গে তিনি আগের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ২০২৪ সালে পুলিশের কাছে দেওয়া ওই নারীর বক্তব্যে মাদক গ্রহণ ও যৌন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণকে স্বেচ্ছায়, সচেতন ও সম্মতিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
এদিকে অভিযোগকারীর আইনজীবী থমাস গুইফ্রা বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জেলা অ্যাটর্নি ভ্যান হাউটেনের মাধ্যমে মামলাটি সক্রিয়ভাবে তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে তাদের আস্থা ছিল না।
গুইফ্রার দাবি, ভ্যান হাউটেনের কার্যালয় যে নথি পেয়েছিল, সেখানে অভিযোগকারী নারী পুলিশের কাছে নিজেকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটি তিনি পর্যালোচনা করেননি। এ বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী।
তবে ভ্যান হাউটেন বুধবার জানিয়েছেন, ওই নির্দিষ্ট অভিযোগটি কর্নেল পুলিশের কাছ থেকে তার কার্যালয়ে পাওয়া লিখিত বক্তব্যে ছিল না। অভিযোগকারীর পুলিশের কাছে দেওয়া সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম।
গভর্নর হকুল জানিয়েছেন, বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে লেটিশিয়া জেমস পুরো ঘটনা তদন্ত করবেন। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করতে এবং গ্র্যান্ড জুরির কাছে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন।
লেটিশিয়া জেমস বলেন, কোনো অপরাধের অভিযোগ জানালে তা পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়সংগতভাবে তদন্ত করা হবে—এমন আস্থা প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর থাকা উচিত। গভর্নর তার কার্যালয়কে এই তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলেও জানান তিনি।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ও স্বাধীন তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গভর্নর হকুলের সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের হাতে মামলাটি দেওয়ার বিষয়েও তাদের সমর্থন রয়েছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের জাতীয় সংগঠন জানিয়েছে, মামলা চলমান থাকায় নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে তারা মন্তব্য করতে পারবে না। তবে অভিযোগগুলোকে তারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভ্রাতৃসংঘটির স্থানীয় শাখার কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ




