
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের রহস্যজনকভাবে ম্যানহোলের নর্দমায় প্রবেশের করার দায়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে দুজন নর্দমার ভেতরে গয়না খুঁজতে নেমেছিলেন। অন্য একজন তাদের গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ম্যানহোল দিয়ে ভূগর্ভস্থ স্থানে প্রবেশের ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্তের মধ্যেই নতুন গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ম্যানহাটনের আপার ম্যানহাটন এলাকায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে ন্যাগল অ্যাভিনিউ ও ডাইকমান স্ট্রিটের কাছের একটি ম্যানহোলে দুজনকে প্রবেশ করতে দেখেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছানো পুলিশ সদস্যরা কাছাকাছি একটি গাড়িতে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে আশপাশের এলাকা তল্লাশি করে ভেজা অবস্থায় আরও দুজনকে দেখতে পান তারা। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ২৩ বছর বয়সী উইলফ্রেডো তেরান ব্রিসেনো, ৩৩ বছর বয়সী গুয়েনিস মার্তিনেস এবং ২৪ বছর বয়সী জাভিয়ের গুয়েভারা লিসকানো। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্তিনেস ও ব্রিসেনো জিজ্ঞাসাবাদে নর্দমার ভেতরে ‘গয়না খুঁজতে’ যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, লিসকানো তাদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০০ ডলার পেয়েছিলেন। তবে নর্দমার ভেতরে কী ধরনের গয়না খোঁজা হচ্ছিল বা সেখানে আগে থেকে কোনো মূল্যবান বস্তু থাকার তথ্য ছিল কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ২১৮তম স্ট্রিট ও ইন্ডিয়ান রোডের সংযোগস্থলের কাছে আরও দুজনকে ম্যানহোলে প্রবেশ করতে দেখেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩১ বছর বয়সী জ্যাঁ রোসা ও ২৮ বছর বয়সী লুইস চাপারোকে গ্রেপ্তার করে তাঁদের বিরুদ্ধেও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটি ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনকেই নিজেদের মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য না হওয়ায় তাদের মুক্তির জন্য জামিনের অর্থ জমা দিতে হয়নি।
নিউইয়র্কে ভূগর্ভস্থ নর্দমা ও ম্যানহোল ব্যবহার করে লোকজনের প্রবেশের ঘটনা এ বছর একাধিকবার সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সের মিডল ভিলেজ, ব্রুকলিনের উইলিয়ামসবার্গ ও গ্রেভসেন্ড, ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইড এবং পেন স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের কাছেও এমন ব্যক্তিদের দেখা গেছে। কোথাও একাধিক ব্যক্তিকে ম্যানহোল থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। এসব ঘটনার সবগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
আরটিভি/ এসকেডি




