
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি আবাসিক এলাকায় অন্ধ এক হরিণকে খাবার খুঁজে পেতে প্রতিদিন সাহায্য করত ১০ বছরের এক শিশু। সকালে হরিণটিকে ঘাসে ঢাকা জায়গাগুলোর কাছে নিয়ে যেত সে, যাতে প্রাণীটি সহজে খাবার খুঁজে পায়। কয়েক দিন ধরে শিশুটির এমন মমতাপূর্ণ আচরণ দেখে মুগ্ধ হন এলাকার এক দম্পতি। পরে তাদের তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত হলে ঘটনাটি মানুষের নজরে আসে।
রেশেয়ারওয়ার্দি নামের একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দম্পতি কয়েক দিন ধরে শিশুটিকে হরিণটির পাশে দেখছিলেন। প্রাণীটি চোখে দেখতে না পাওয়ায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা। বিশেষ করে সড়কে যানবাহনের মধ্যে হরিণটির দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে দম্পতির স্ত্রী কাছাকাছি এলাকার একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ছবিটি রেডিটে প্রকাশ করা ব্যক্তি জানান, উদ্ধারকারী দল হরিণটিকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। দলটির সঙ্গে একজন পশুচিকিৎসক রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ থেকে অনুমোদিত একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন দল হরিণটিকে উদ্ধার করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, হরিণটিকে বনাঞ্চল সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে গিয়ে দেখাশোনা করা, যাতে সেটি সড়কের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে পারে।
হরিণটিকে উদ্ধার করার সময় আশপাশের অনেক বাসিন্দা সেখানে উপস্থিত হন। শিশুটিও তার মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে। ওই ব্যক্তি জানান, হরিণটির সঙ্গে শিশুটির আচরণ ছিল বেশ পরিণত। কয়েক দিন ধরে প্রাণীটিকে সাহায্য করলেও সে হরিণটিকে পোষা প্রাণী হিসেবে নিজের করে নেওয়ার চেষ্টা করেনি। বরং প্রাণীটি যেন নিরাপদে থাকে, সেটিই ছিল তার মূল চিন্তা।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি হরিণটিকে ঘরে আশ্রয় দেয়নি বা বাইরে খাবার রেখে তাকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেনি। হরিণটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকারী দল এগিয়ে আসায় শিশুটি স্বস্তি পেয়েছিল। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তারা জানতে পারেন, শিশুটি এগিয়ে আসার আগে থেকেই প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা হরিণটিকে খাবার দিচ্ছিলেন এবং সড়কের কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে সাহায্য করছিলেন।
শিশুটির এই উদ্যোগে মুগ্ধ হয়ে ওই দম্পতি তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাকে পুরস্কৃত করার একটি উপায় খুঁজে বের করার পরিকল্পনা করেন। তারা শিশুটির পরিবারের জন্য ছবিটি বাঁধাই করে উপহার দিতে চান। পাশাপাশি শিশুটি চাইলে তাকে স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়ার কথা জানান।
ঘটনাটি শুধু একটি শিশুর মমতার উদাহরণ নয়, বিপদে পড়া বন্যপ্রাণীর পাশে দাঁড়াতে একটি এলাকার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেরও চিত্র তুলে ধরে। তবে হরিণটির পরবর্তী শারীরিক অবস্থা বা পুনর্বাসন শেষে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে মূল প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আরটিভি/ এসকেডি




