
নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকা কয়েকজন স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এ ধরনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা বা কারাদণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই ডজনের বেশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে ভুল বিবৃতি দেওয়া কিংবা অভিবাসন আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির নিজের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
কিছু অভিযুক্তের বক্তব্য, গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র নেওয়া বা নবায়নের সময় ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা যথেষ্ট পরিষ্কার ধারণা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে গাড়িচালকের অনুমতিপত্রের আবেদন বা নবায়নের সঙ্গে ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ যুক্ত থাকে। ফলে নাগরিকত্বের যোগ্যতা, ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নিবন্ধনের নিয়ম না বুঝে কোনো ফরম পূরণ করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সাধারণভাবে কেবল মার্কিন নাগরিকরাই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। তবে ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি ভুলবশত নিবন্ধিত হয়েছেন কি না, তিনি ভোট দিয়েছেন কি না এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় মামলার বাস্তবতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই সব অভিযোগকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়।
নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি ফরম পূরণের সময় নিজের পরিচয়, নাগরিকত্বের অবস্থা এবং ভোট দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া। কোনো ফরমের ভাষা বুঝতে অসুবিধা হলে অনুমান করে উত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত। আগে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে বা নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে বিষয়টি গোপন না রেখে আইনি পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা—তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, এমন তথ্য নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিজের আইনি অবস্থান ও সরকারি নথি যাচাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নাগরিকত্বের আবেদন, ভোটার নিবন্ধন বা গাড়িচালকের অনুমতিপত্রসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা পড়া এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরটিভি/এমএম


