
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসেবা দেওয়ার নামে প্রতারণা, ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধভাবে বিদেশিদের কাজে নিয়োগের অভিযোগে ব্রাজিল ও কিউবার ১৩ নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনজীবীর দপ্তর এ তথ্য জানায়। তদন্তে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থাও সহায়তা করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত ‘লিগ্যাসি ইমিগ্রা সলিউশনস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতারণার কর্মকাণ্ড চলে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিলেন ৫৪ বছর বয়সী ভ্যাগনার সোয়ারেস ডি আলমেইদা। অভিযুক্তদের কয়েকজন সেখানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী নিয়োজিত পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিত। অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি সহায়তার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। পরে তাদের ভুল ও অসম্পূর্ণ আইনি পরামর্শ দেওয়া এবং জাল নথি তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করা হতো।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি নেই—এমন বিদেশি নাগরিকদের বিষয়টি জেনেও নিয়মিত নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও এ-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছর, ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে ১০ বছর এবং বিয়ের জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অবৈধভাবে বিদেশিদের কাজে নিয়োগের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা, কর তদন্ত বিভাগ, শ্রম ও কৃষি বিভাগের তদন্ত শাখাসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে মামলাটি তদন্ত করছে।
তবে আদালতে অভিযোগ গঠন মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকেই নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)
আরটিভি/জেএমএ


