
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি সরকারি গলফ মাঠের গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ফেডারেল আদালতের এক বিচারক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের গলফ মাঠ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে চলমান মামলার মধ্যেই এ আদেশ দেন বিচারক আনা রেয়েস।
৭০ পৃষ্ঠার আদেশে বিচারক বলেন, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গলফ মাঠের কোনো গাছ কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। এছাড়া মাঠে বড় ধরনের অপরিবর্তনীয় পরিবর্তন আনার আগে সরকারকে অন্তত ১০ দিন আগে আদালতকে জানাতে হবে।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত গাছ কাটার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন বিচারক। তবে এর মধ্যেই চলতি মাসের শুরুতে মাঠটির ৪৩০টিরও বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় সরকারি আইনজীবীদের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারক।
আদেশে বিচারক রেয়েস বলেন, আদালত আগেও বলেছিল, আমি গাছের পক্ষে কথা বলি না। আদালত এখনো গাছের পক্ষে কথা বলে না। আদালত শুধু আইনের শাসনের পক্ষে কথা বলে।
তিনি জানান, সরকার যে কাজ করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল, পরে সেটিই করায় তাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। পরিবেশের ওপর প্রভাব যাচাই না করে সংস্কার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগে করা মামলায় বাদীপক্ষের জয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন বিচারক।
গলফ মাঠটির সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডিসি সংরক্ষণ লীগ। তাদের অভিযোগ, পরিবেশের ওপর প্রকল্পটির প্রভাব যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করে ট্রাম্প প্রশাসন আইন লঙ্ঘন করেছে। তবে সরকার গাছ কাটার ঘটনাকে সংস্কার পরিকল্পনার অংশ নয়, বরং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হিসেবে তুলে ধরেছিল। বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
আদালতের আদেশের সমালোচনা করে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এটি অসাংবিধানিক। তার প্রশাসন এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে গলফ মাঠটি বন্ধ করে সংস্কারকাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানান ট্রাম্প।
পোটোম্যাক নদীর পাশে অবস্থিত মাঠটিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে চান তিনি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্কার শেষে ১৫ মাসের মধ্যে মাঠটি আবার খুলে দেওয়া হবে।
বিচারক বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে সরকারি আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি রয়েছে। সরকার একদিকে সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি করছে, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে কাজ শুরুর ঘোষণা দিচ্ছেন।
এর আগে ট্রাম্প বিচারক রেয়েসকে উন্মাদ বলে আক্রমণ করেন। অন্যদিকে, বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সেই আবেদন নাকচ করে দেন রেয়েস।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


