
বয়স্ক মা-বাবা কিংবা অসুস্থ স্বজনের দেখাশোনা করতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়ছেন অনেক মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক ও অসুস্থ স্বজনের যত্ন নেওয়া কেয়ার গিভারদের নিজস্ব পকেট থেকে খরচ গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নতুন এক সমীক্ষা বলছে, বর্তমানে একজন কেয়ার গিভারকে বছরে গড়ে ১১ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত ও বয়স্ক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা এএআরপির সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় কেয়ার গিভিংয়ের খরচ বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। বছরে ৪০ হাজার ডলারের কম আয় করা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই খরচ গড়ে বার্ষিক আয়ের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি।
সমীক্ষাটি ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে প্রাপ্তবয়স্ক স্বজন বা বন্ধুর কেয়ার গিভিংয়ের দায়িত্ব পালন করা আড়াই হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত হয়।
কানেকটিকাটের ৪৪ বছর বয়সী ওয়েন্ডি মায়ো এর বাস্তব উদাহরণ। তিনি দুই ভাইবোনের সঙ্গে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত মায়ের কেয়ার গিভিং করেন। মায়ের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের জন্য পেশাদার কেয়ার গিভার নিয়োগ, বাসাভাড়া এবং ঘরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে তাদের ব্যয় করতে হয়। মায়োর নিজের হিসাবে, মায়ের কেয়ার গিভিংয়ে বছরে তার প্রায় ১৫ হাজার ডলার খরচ হয়। তিন ভাইবোন মিলে ব্যয় করেন ৪৫ হাজার ডলার।
এএআরপির তথ্য অনুযায়ী, কেয়ার গিভারদের সবচেয়ে বড় ব্যয় আবাসন ও অন্যান্য পারিবারিক খাতে। এর মধ্যে খাবার, বাসাভাড়া, বাড়ির ঋণের কিস্তি ও সম্পত্তিকর রয়েছে। এ খাতে বছরে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ ডলার ব্যয় হয়। দ্বিতীয় বড় ব্যয়ের খাত চিকিৎসা, যার মধ্যে বিমার কিস্তি, হাসপাতালের খরচ ও চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া নার্সিং হোম, চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং ওষুধ কিনতেও অর্থ ব্যয় করতে হয়।
কেয়ার গিভিংয়ের দায়িত্ব শুধু আর্থিক চাপই বাড়ায় না, কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া কর্মজীবী কেয়ার গিভারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জানিয়েছেন, স্বজনের দেখাশোনার দায়িত্ব তাদের পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলেছে। কেউ বাড়তি সময় কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ কেয়ার গিভিংয়ের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়েছেন বা চাকরি ছেড়েছেন।
এএআরপির স্বাস্থ্য ও পারিবারিক বিষয়ক কর্মকর্তা মেগান ও’রেইলি বলেন, স্বজনের কেয়ার গিভিংয়ে ব্যয় করা অর্থ তাদের নিজেদের অবসরজীবনের সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। চিকিৎসকের খোঁজ করা, সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ এবং রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কাজেও কেয়ার গিভারদের অনেক সময় ব্যয় করতে হয়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


