ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাচ্ছেন হাকিম জেফরিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ এএম
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হবেন ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস।। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হলে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে এই পদে বসবেন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা হাকিম জেফরিস। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে স্পিকার নির্বাচনের পথে রয়েছেন তিনি। তবে দলের ভেতরের মতপার্থক্য ও নতুন নেতৃত্বের দাবি সামলে দায়িত্ব পালন করাই হবে তার বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

২০১৩ সালে প্রতিনিধি পরিষদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই জেফরিসকে ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু করেন দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ নেতা। তাদের লক্ষ্য ছিল, ন্যান্সি পেলোসি অবসরে গেলে হাকিম জেফরিস যেন স্পিকার হতে পারেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার সেই লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্পিকার নির্বাচিত হলে প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার নির্ধারণের তালিকায় ভাইস প্রেসিডেন্টের পরই থাকবে হাকিম জেফরিসের অবস্থান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

তবে দলের বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক ঘরানার নেতাদের সমর্থন ধরে রাখা সহজ হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিষয়ে হাকিম জেফরিসের মধ্যপন্থী অবস্থান নিয়ে তাদের একাংশের আপত্তি রয়েছে। পাশাপাশি দলের দীর্ঘদিনের নেতাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মতপার্থক্যও সামলাতে হবে তাকে।

হাকিম জেফরিসের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ধনীদের ওপর কর বাড়ানো, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, সুপ্রিম কোর্টের জন্য কঠোর নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি করতে পারে—এমন বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় ভোটাভুটি এড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি।

ব্রুকলিনের বাসিন্দা হাকিম জেফরিস ২০১৩ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার অভিশংসন প্রক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পরিচিতি পান তিনি। ২০২২ সালে দলের নেতা হওয়ার পর থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছেন।

সংবাদসংস্থা এপির তথ্য মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে হাকিম জেফরিস ৭৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী লুইস মিজরাহি পেয়েছেন ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট।


সূত্র: সিএনএন, এপি

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচনে এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচনে এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প 
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প 
৯৪ বছর পর কানসাসে সিনেট আসন পেল ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কানসাস অঙ্গরাজ্যের সিনেটে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন।
৯৪ বছর পর কানসাসে সিনেট আসন পেল ডেমোক্র্যাটরা
আমি নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি অবশ্যই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত। আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব। আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার কোনো পথ বের করতে পারব। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ট্রাম্প দায়ী করেছেন নিজের নাম ব্যালটে না থাকাকে। অর্থাৎ, তিনি নিজে প্রার্থী না হওয়ায় দলের প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পাননি বলে মনে করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ব্যালটে আমি ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম! নির্বাচনে নিজের সমর্থন দেওয়া পরাজিত প্রার্থীদের নিয়েও কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।  তবে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘দেখলাম ডারলিন হেরে গেছেন। বাহ, এটা তো অবিশ্বাস্য!’ এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পদে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ; দুটির নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের হাতে।  যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ। সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সাধারণত আইন প্রণয়নের প্রস্তাব প্রথমে এই কক্ষে উত্থাপন ও আলোচনা করা হয়, পরে তা সিনেটে পাঠানো হয়। আরটিভি/এসআর
আমি নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত: ট্রাম্প
আরও পড়ুন
কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচনে এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প 
৯৪ বছর পর কানসাসে সিনেট আসন পেল ডেমোক্র্যাটরা