
খাবারের দাম নির্ধারণে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খাবার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ডসের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন দেশটির পাঁচ আইনপ্রণেতা। গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম আদায় এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানটি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) ম্যাকডোনাল্ডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস কেম্পচিনস্কির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রশ্ন তোলেন আইনপ্রণেতারা। চিঠিতে নেতৃত্ব দেন ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। অন্য চারজন হলেন প্রতিনিধি গ্রেগ কাসার, বেকা বালিন্ট, জেসুস গার্সিয়া ও মেরি গে স্ক্যানলন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাকডোনাল্ডস খাবারের দাম নির্ধারণে যন্ত্রশিক্ষাভিত্তিক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে প্রতিটি খাবারের জন্য সম্ভাব্য উপযুক্ত দাম নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। কোন এলাকার ক্রেতারা কত দাম দিতে আগ্রহী, সেই হিসাবও এতে বিবেচনা করা হয়।
আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায় করা হতে পারে। পাশাপাশি একই এলাকার বিভিন্ন শাখার মধ্যে দাম নির্ধারণে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
চিঠিতে আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন, ম্যাকডোনাল্ডসের গ্রাহক আনুগত্য কর্মসূচির ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে খাবারের দাম নির্ধারণ করা হয় কি না। এ ছাড়া বিভিন্ন শাখাকে এই প্রযুক্তির সুপারিশ অনুসরণে কীভাবে উৎসাহিত করা হয় এবং এটি চালুর আগে প্রতিযোগিতা আইন পর্যালোচনা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বরের মধ্যে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তবে ম্যাকডোনাল্ডস আগের এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, তাদের দাম নির্ধারণের সুপারিশে কোনো নির্দিষ্ট গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হয় না। শাখার মালিকেরা নিজেদের মতো খাবারের দাম নির্ধারণ করতে পারেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে দেওয়া দাম অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, ম্যাকডোনাল্ডসের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দুটি দলগত মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শাখার খাবারের দাম নির্ধারণে অবৈধ সমন্বয় করছে। তবে ম্যাকডোনাল্ডসের দাবি, তাদের কোনো প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্গার বা অন্য খাবারের দাম নির্ধারণ করে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন শাখার মালিকেরাই।
সূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/জেএমএ


