ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিজের ‘সর্বনাশ’ স্কুলছাত্রীর, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর পৌনে একটায় ফরিদপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের কারাগারে নেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মাগুরার মহম্মদপুর থানার বাবুখালী গ্রামের বাবু মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লংকারচর গ্রামের তারক চন্দ্র মণ্ডল (২৬) এবং সোরাপ মোল্যার ছেলে নাসির মোল্যা (৩৬)। এ মামলায় শিশু আদালতে অন্য দুই আসামির বিচার কার্যক্রম চলমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা দ্বাদশ শ্রেণি পড়ুয়া নাসির মোল্যার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নাসির মোল্যা ওই ছাত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে চায়।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাসির মোল্যা ওই ছাত্রীর গ্রামে এসে তার বাড়ির পাশে একটি বাগানে অপেক্ষা করতে থাকে। কিছু সময় পর ছাত্রী সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, নাসিরের সঙ্গে আরও দুই যুবক রয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ছাত্রী সেখানে পৌঁছানোর পর নাসিরসহ তিন যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নৌকায় করে মধুমতি নদীর একটি চরে নেয়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় তারা ধর্ষণের ভিডিওধারণ ও ছবি তোলেন। পরে ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তিন যুবক।

পরদিন ভুক্তভোগী ছাত্রী বোয়ালমারী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলা দায়েরের দুই দিনের মধ্যে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ মার্চ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আহাদুজ্জামান শেখ।

আদালত সূত্র জানায়, সাক্ষ্য গ্রহণ ও উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। তখন আসামিরা সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে রাখে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন এবং আসামিদের কাছ থেকে ধারণকৃত ভিডিও উদ্ধার করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঘটনাটি আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। এই রায়ে আমরা খুশি। এই রায়ের ফলে সমাজে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করি।’

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এমপি নজরুলের দায়মুক্তিসহ যা আছে মরিয়মের বাবার আপসনামায়
আপসনামার নথি থেকে জানা যায়, প্রথম পক্ষ এস এম মাসুম বিল্লাহ (নিহত মরিয়মের বাবা) এবং দ্বিতীয় পক্ষ আব্দুল হামিদ মোড়ল (আসামির স্বজন)। এদের মধ্যে এই সমঝোতা দলিলটি স্বাক্ষরিত হয়।  
এমপি নজরুলের দায়মুক্তিসহ যা আছে মরিয়মের বাবার আপসনামায়
মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়ে গেল এমপি গাজী নজরুলের!
‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের আপস রফা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান।
মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়ে গেল এমপি গাজী নজরুলের!
ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে ‘খারাপ ব্যবহারের’ শাস্তি পেলেন দুইজন
রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে (পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে) উল্টো পথে আসা মোটরসাইকেল থামাতে গিয়ে দুই আরোহীর অসদাচরণের শিকার হন কর্তব্যরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। 
ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে ‘খারাপ ব্যবহারের’ শাস্তি পেলেন দুইজন
১৩০ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য  করেন।
১৩০ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় কিশোরীকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ: সেই আসামির মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জামাল নামে একজনের মৃত্যুদণ্ডের ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় কিশোরীকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ: সেই আসামির মৃত্যুদণ্ড
আরও পড়ুন
দিনদুপুরে ফিল্মি স্টাইলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে উধাও দুই যুবক, অতঃপর...
ছাত্রীকে বাগে পেয়ে ‘সর্বনাশ’ করেন শিক্ষক, অতঃপর...
স্কুলছাত্রীর ‘সর্বনাশ’ করে বাড়ির সামনে ফেলে যান রুবেল, অতঃপর...
বাসচাপায় স্কুলছাত্রী নিহত, জনতার সড়ক অবরোধ