
নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ছাত্রীদের ক্লাস বর্জন ও আন্দোলনের মুখে থানা-পুলিশ ওই শিক্ষককে হেফাজতে নেয়।
এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এরপর প্রধান শিক্ষক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন। তখন ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও থানা-পুলিশ বিদ্যালয়ে যান। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে।
মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তছিরুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোববার আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। এরপর সোমবার ভুক্তভোগী ছাত্রী ইংরেজি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়। ছাত্রীর অভিযোগ, ওই শিক্ষক তার শরীর স্পর্শ করেছে।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, এর আগেও ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেয়ে তাকে ওই ক্লাসের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তাকে ভেতরগতভাবে শুধরানোর চেষ্টা চলছিল। সোমবার বিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ায় বিষয়টি ইউএনও সম্রাট হোসেনকে জানানো হয়েছে। পরে ইউএনও গিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক কমরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন।
মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন সমালোচনা চলছিল। সোমবার সকালে সমাবেশ শেষে ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়। পরে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কয়েকজন ছাত্রী কথা বলে। এরপরপরই ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও পুলিশ স্কুলে যায়। পরে পুলিশ ইকরামুলকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় যায়। সেখান থেকে ল্যাপটপসহ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করেছে।
স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, প্রাইভেট পড়ানোর ছলে ইকরামুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে টার্গেট করেন। এরপর অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়েন। যার ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করে নিয়মিত ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করতেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি করলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন ওই শিক্ষক। এমনকি তাকে স্কুলের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ভয় দেখান তিনি।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম আমাদের হেফাজতে আছেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেবেন।
এই বিষয়ে জানতে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনকে একাধিকবার কল করা হয়েছে। তিনি ফোন ধরেননি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনিস-আর-রেজা বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে তলব করেছি। প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তাকে বহিষ্কার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএস


