ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দানের সম্পত্তি নিয়ে আসছে নতুন আইন

বাসস

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
ছবি প্রতীকী

জীবনের দীর্ঘ সঞ্চয়ে গড়া একটি বাড়ি। উঠানে সন্তানের শৈশবের স্মৃতি, দেয়ালে পরিবারের অসংখ্য গল্প। বয়সের ভারে একসময় সেই বাবা-মাই হয়তো সম্পত্তিটি সন্তানের নামে লিখে দিতে চান। কিন্তু মনের ভেতরে থেকে যায় একটি অদৃশ্য ভয়-সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর যদি একদিন নিজের ঘরেই নিজের জায়গা না থাকে?

বাংলাদেশের বহু পরিবারের পরিচিত এই বাস্তবতায় এবার আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা স্বামী-স্ত্রী সম্পত্তি দান করার পরও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যাতে সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি পাবে।

আরও পড়ুন

আইনটির পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভাবনা—সম্পত্তি হস্তান্তর করলেই যেন একজন বাবা-মাকে তার পরিচিত ঘর, বসতভিটা কিংবা জীবনযাপনের নিরাপত্তা হারাতে না হয়।

বর্তমানে সম্পত্তি দানের বিভিন্ন আইনি পদ্ধতি থাকলেও দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার নিজের কাছে রেখে দান করতে পারবেন—এ বিষয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে সন্তান বা নিকটজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রবীণ বাবা-মাকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়।

প্রস্তাবিত আইনে সেই জায়গাটিতেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

বিলে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন ১২২ক ও ১২২খ ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘আজীবন ভোগদখলের অধিকার’ সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানকে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, কোনো বাবা-মা তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন, আবার নাতি-নাতনিরাও তাদের পিতা-মাতা কিংবা দাদা-দাদি ও নানা-নানিকে এ ধরনের সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও একই ধরনের হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুন

তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ দান করতে হবে।

আইনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারবেন। অর্থাৎ সন্তান বা অন্য কোনো নিকটজনের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও বাবা-মা তাদের বসতবাড়ি কিংবা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না।

ধরা যাক, একজন বাবা তার একমাত্র বাড়িটি সন্তানের নামে দান করলেন। নতুন আইনের আওতায় দলিলে যদি তার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষিত থাকে, তাহলে মালিকানা হস্তান্তরের পরও জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতে বসবাস ও সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। সন্তানের মৃত্যু হলেও সেই অধিকার শেষ হবে না।

বিলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে; কিন্তু দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে এবং তা সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

অর্থাৎ উত্তরাধিকার পরিবর্তিত হলেও একজন বৃদ্ধ বাবা কিংবা মা তার জীবনকালীন নিরাপত্তা হারাবেন না।

আরও পড়ুন

শুধু তাই নয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ অধিকার পরিবর্তন, প্রত্যাহার বা অন্যভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে।

কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আবেদনটি সৎ বিশ্বাসে করা হয়েছে কি না- এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সরকারের মতে, প্রস্তাবিত আইনটি কোনো প্রচলিত দান বা হেবা ব্যবস্থাকে বাতিল কিংবা সীমিত করবে না।

সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা এবং আইনস্বীকৃত অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি আগের মতোই বহাল থাকবে। নতুন ব্যবস্থা হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক পদ্ধতি এবং এটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

সম্পত্তি শুধু ইট-পাথর, জমি কিংবা অর্থের হিসাব নয়। একটি বাড়ি অনেক সময় একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। সেই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সন্তান পালনের স্মৃতি, দাম্পত্য জীবনের গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং শেষ বয়সে একটু নিশ্চিন্তে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

আরও পড়ুন

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন সেই নিরাপত্তাটুকু হারিয়ে না যায়-প্রস্তাবিত আইনের মানবিক দিকটি মূলত সেখানেই।

সরকারের উদ্যোগ সফল হলে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দাতা তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।

ফলে ‘সম্পত্তি দিয়ে দিলেই সব হারাতে হবে’-এমন আশঙ্কার জায়গায় তৈরি হতে পারে আইনি নিশ্চয়তা।

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলটি এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায়। আইনটি পাস হলে সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রচলিত ব্যবস্থায় যুক্ত হবে একটি নতুন মানবিক সুরক্ষা-সম্পত্তি যাবে উত্তরসূরির কাছে, কিন্তু জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু থাকবে দাতার নিরাপদ হাতে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ ইসমাইল। তুমুল আন্দোলনের সময় ছেলে নিখোঁজ হওয়ায় দিশেহারা ছিলেন মা। হঠাৎ ফোনে খবর এলো, গুলি লেগেছে তার ছেলের।
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. নুরনবী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অপর দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার।  আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নুর নবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব সাজা একইসঙ্গে চলবে। অন্যদিকে একই মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগীর বাবা লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানায় মামলা করেন। মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন কু-প্রস্তাব দেয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে হাতিবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এ বিষয়ে রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার দিয়েছেন। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভিক্টিমকে তার বাবা শাকক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিল, সেখান থেকে ভিক্টিমকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় আসামি নুরনবী। পরে পাসুন (জমিতে ছোটখাটো চাষ দিতে এবং ফসল বা বাগানের আগাছা পরিষ্কার বা নিড়ানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়) নামক অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ মামলার রায় দিয়েছে আদালত। এ রায়ে সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। এ ঘটনায় বাদীপক্ষ নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এমএইচজে
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
সরকারবিরোধী চক্রান্তে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
দেশে সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংসতার উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
সরকারবিরোধী চক্রান্তে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
আরও পড়ুন
সম্পত্তি হেবা-হস্তান্তরে নতুন বিধান
শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত: ডা. জুবাইদা রহমান
শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী