ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সিসমোফোবিয়া কী, ভূমিকম্প না হলেও কেন কম্পনের ভয়?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের পর অনেকেই হঠাৎ করেই আশপাশে কম্পনের অনুভূতি পাচ্ছেন, যদিও প্রকৃত কোনো ভূমিকম্প ঘটেনি। এই পরিস্থিতিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে “সিসমোফোবিয়া” বা ভূমিকম্প ভীতি বলা হয়। এটি এক ধরনের ক্লিনিক্যাল ফোবিয়া, যেখানে ভূমিকম্প শেষ হলেও মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত অযৌক্তিক ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর মাত্র বিশ দিনের মধ্যে অন্তত ছয়টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দু’টি ভূমিকম্প ঘটে, যার মধ্যে একটি মাত্র ৫ দশমিক নয় মাত্রার ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা মানসিক ট্রমার প্রকাশ। সামান্য শব্দ বা পরিবেশগত পরিবর্তনও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কেন হয় সিসমোফোবিয়া?

ভূমিকম্পের তীব্র অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কের ভয়ের কেন্দ্র ‘অ্যামিগডালা’কে অতিসক্রিয় করে তোলে। এর ফলে সামান্য কম্পন বা শব্দেই শরীর বিপদের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ তানভীর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের ট্রমা মস্তিষ্কে স্থায়ী বিপদ সংকেত তৈরি করে এবং ভবন ভেঙে পড়ার ভয় মানুষের মধ্যে মৃত্যুর আতঙ্ক জাগিয়ে তোলে।

শারীরিক কারণও রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন জানান, কানের ভিতরের এন্ডোলিম্ফ তরলের অস্থিরতা ভারসাম্য নষ্ট করে, যার ফলে কম্পনের অনুভূতি দীর্ঘায়িত হতে পারে। এছাড়াও মিডিয়ার গ্রাফিকাল কভারেজ মানুষের মধ্যে ভয় আরও বাড়িয়ে তোলে।

প্রতিকার

সিসমোফোবিয়া সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য। মনোবিজ্ঞানীরা কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি এবং এক্সপোজার থেরাপির মাধ্যমে অযৌক্তিক ভয় ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন।

সেফটি কিট, ভূমিকম্প-ড্রিল এবং প্রস্তুতিমূলক জ্ঞান মানুষকে সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ভূমিকম্প-প্রবণ দেশের মতো জাপানে যারা অভ্যস্ত, তাদের মধ্যে স্থায়ী ট্রমা কম দেখা যায়। তাই বাংলাদেশের জন্যও প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা ভয় কমাতে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সিসমোফোবিয়া বা ভূমিকম্প ভীতি মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রভাব ফেলে থাকলেও সচেতনতা, চিকিৎসা এবং অভ্যাসের মাধ্যমে এর ভয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ভানুয়াতুর উপকূলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৬