গরমের তাপমাত্রা বাড়লেই বাড়ির বিদ্যুৎ খরচও আকাশছোঁয়া মনে হয়? এসি ও ফ্যান চালাতে গিয়ে প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিল দেখে চোখ কপালে ওঠে? তবে কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশল মেনে চললে গরমে ঘর ঠাণ্ডা রাখা সম্ভব। আর বিদ্যুৎ বিলও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
১. এসির সঠিক ব্যবহার
এসির তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি নয়, ২৪–২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন।
তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়ানো মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়।
হালকা ফ্যান চালালে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা হয় এবং এসির চাপ কমে।
প্রতি ১৫ দিন অন্তর ফিল্টার পরিষ্কার করুন।
২. প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর ঠাণ্ডা রাখুন
দুপুর ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জানালার পর্দা টেনে রাখুন।
গাঢ় রঙের পর্দা রোদ কম ঢোকাতে সাহায্য করে।
সন্ধ্যা হলে জানালা খুলে বাইরে থেকে ঠাণ্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করান।
দিনের আলো ব্যবহার করুন, অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখুন।
৩. ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্কতা
ফ্রিজ দেয়াল থেকে অন্তত ছয় ইঞ্চি দূরে রাখুন।
বারবার ফ্রিজ খোলা থেকে বিরত থাকুন।
গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না।
গরমকালে ফ্রিজের সামার মোড ব্যবহার করুন।
৪. অপ্রয়োজনীয় প্লাগ খুলে রাখুন
টিভি, ল্যাপটপ চার্জার বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের পর সকেট থেকে প্লাগ খুলুন।
রিমোট দিয়ে বন্ধ করলেও এগুলো সামান্য বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে।
৫. এলইডি বাতির ব্যবহার
সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্ব বা টিউবলাইটের তুলনায় এলইডি বাতি কম বিদ্যুৎ খরচ করে।
বেশি আলো দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বিল কমায়।
গরমে ঘর ঠাণ্ডা রাখা আর বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা মোটেও জটিল নয়। এই সহজ পাঁচটি অভ্যাস মেনে চললে গরমের যন্ত্রণা কমবে, বিদ্যুৎ বিলও অনেক কমে যাবে।
আরটিভি/জেএমএ
আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে
Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন।
যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন।
তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।
সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/এসআর