ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মোবাইল নিয়ে বাথরুমে, ডেকে আনতে পারে যেসব সমস্যা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ এএম
প্রতীকী ছবি

সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাতে মোবাইল, আর বাথরুমেও সেটি সঙ্গে নেওয়া— এ অভ্যাস এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা কিংবা চ্যাট করতে করতে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় বাথরুমে কাটান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাথরুমে মোবাইল ব্যবহারের এই অভ্যাস শুধু সময় নষ্টই করে না, বরং ডেকে আনতে পারে নানা শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যাও।

জীবাণুর আঁতুড়ঘরে পরিণত হয় মোবাইল

বাথরুম এমন একটি স্থান যেখানে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু থাকে। ফ্লাশ করার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া অণুজীব মোবাইল ফোনের গায়ে লেগে যেতে পারে। পরে সেই ফোন হাতে নিয়ে খাওয়া, মুখে হাত দেওয়া বা বিছানায় ব্যবহার করার মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে।

বাড়তে পারে পাইলসের ঝুঁকি

মোবাইল নিয়ে বাথরুমে গেলে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় কমোডে বসে থাকেন। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকার ফলে মলদ্বারের শিরাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে পাইলস বা হেমোরয়েডের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য আরও জটিল হতে পারে

মোবাইল স্ক্রল করতে করতে অনেকেই শরীরের স্বাভাবিক সংকেত উপেক্ষা করেন। এতে মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে।

ঘাড় ও মেরুদণ্ডে চাপ

আরও পড়ুন

বাথরুমে বসে দীর্ঘ সময় মাথা নিচু করে মোবাইল ব্যবহারের কারণে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে ঘাড়ব্যথা, কাঁধে অস্বস্তি কিংবা দীর্ঘমেয়াদে মাংসপেশির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

সময়ের অপচয় ও মানসিক নির্ভরতা

অনেকেই কয়েক মিনিটের কাজ করতে গিয়ে মোবাইল ব্যবহারের কারণে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাথরুমে কাটিয়ে দেন। এতে দৈনন্দিন কাজের সময়সূচি ব্যাহত হয়। পাশাপাশি মোবাইল ছাড়া অল্প সময়ও থাকতে না পারার প্রবণতা ডিজিটাল আসক্তির লক্ষণ হতে পারে।

দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে

বাথরুমে মোবাইল ব্যবহার করতে গিয়ে হাত ফসকে ফোন পানিতে পড়ে যেতে পারে। এছাড়া ভেজা হাতে চার্জিং ডিভাইস বা বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যায়।

কী করবেন?

বাথরুমে যাওয়ার আগে মোবাইল বাইরে রেখে যান।

মলত্যাগের সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।

নিয়মিত মোবাইল ফোন জীবাণুমুক্ত করুন।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের বদলে দৈনন্দিন কাজগুলো আগে সম্পন্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার নানা সমস্যার কারণও হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে বাথরুমে মোবাইল ব্যবহার সীমিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব
এবার পুলিশ ইন্সপেক্টরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকা-মোবাইল ছিনতাই
খুন হওয়ার আগে বাবার মোবাইলে যে মেসেজ পাঠিয়েছিল তাজমিন
সুন্দরবনের গহীনে পাওয়া গেল ১৪ মোবাইল, ঘটনা কী?