হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বছরে একবার করুন এই ৪ পরীক্ষা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:০৪ এএম


হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বছরে একবার করুন এই ৪ পরীক্ষা
৪০ বছরের পর নিয়মিত পরীক্ষা করলে আগেভাগেই মিলতে পারে হৃদরোগের সতর্ক সংকেত, বলছেন হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ । ছবি: সংগৃহীত

হৃদরোগ এখন বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সময়মতো কিছু রক্তপরীক্ষা করালে অনেক ক্ষেত্রেই আগেই ধরা পড়তে পারে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি কিছু নির্দিষ্ট রক্তপরীক্ষা হৃদযন্ত্রের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের পর বছরে অন্তত একবার চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করানো উচিত। এতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আগে থেকেই চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতে পারে। 

কেন শুধু সাধারণ রক্তপরীক্ষা যথেষ্ট নয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্যাকেজে থাকা রক্তপরীক্ষাগুলো সব সময় হৃদ্‌রোগের প্রকৃত ঝুঁকি নির্ণয় করতে পারে না। তাই অতিরিক্ত কিছু বিশেষ পরীক্ষা করালে হৃদযন্ত্র, রক্তনালি এবং শরীরের প্রদাহজনিত সমস্যার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি জানতে যে ৪টি পরীক্ষা জরুরি

১. প্রদাহ নির্ণয়ের পরীক্ষা

এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে প্রদাহের মাত্রা জানা যায়। শরীরে দীর্ঘদিন প্রদাহ থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই এই পরীক্ষা ভবিষ্যতের ঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

আরও পড়ুন

২. উন্নত কোলেস্টেরল পরীক্ষা

এই পরীক্ষায় রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের কণার সংখ্যা, আকার এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কোলেস্টেরল পরীক্ষার তুলনায় এটি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আরও নির্ভুলভাবে বোঝাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা বিপাকজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি বেশি কার্যকর।

৩. প্রস্রাবে অ্যালবুমিন ও ক্রিয়েটিনিনের অনুপাত পরীক্ষা

এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তনালির প্রাথমিক ক্ষতি শনাক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে কিডনির স্বাস্থ্যের অবস্থাও জানা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক সময় এই পরীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৪. হৃদযন্ত্রের চাপ নির্ণয়ের পরীক্ষা

এই রক্তপরীক্ষায় হৃদ্‌যন্ত্র থেকে নিঃসৃত একটি বিশেষ প্রোটিনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ বেড়ে গেলে এই প্রোটিনের মাত্রাও বেড়ে যায়।

যাদের শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কাদের জন্য এই পরীক্ষাগুলো বেশি জরুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ এবং যাদের পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের বছরে অন্তত একবার এসব পরীক্ষা করানো উচিত।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

চিকিৎসকদের মতে, শুধু পরীক্ষা করালেই হবে না। হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান থেকে বিরত থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো সঠিক পরীক্ষা করানো গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission