ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রেমের শুরু কোথায়, কেন অনেক সম্পর্ক থেমে যায়?

তেছা জাহান তন্বী, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
কোন বয়সে প্রেমের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি জাগে । ছবি: প্রতীকী

ভালোবাসা মানুষের জীবনের সবচেয়ে স্বাভাবিক ও সুন্দর অনুভূতিগুলোর একটি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুভূতি সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়ে ওঠে কৈশোর ও তারুণ্যে। সাধারণত ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কাউকে ভালো লাগা, আকর্ষণ অনুভব করা এবং সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ বেশি দেখা যায়।

এই বয়সে নতুন অভিজ্ঞতা, আবেগ ও কৌতূহল বেশি কাজ করে। তাই অনেক সময় প্রথম দেখাতেই কাউকে ভালো লেগে যেতে পারে। কারও হাসি, চেহারা, কথা বলার ধরন, ব্যক্তিত্ব বা আচরণ মুহূর্তেই আকর্ষণ তৈরি করে।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অনুভূতিকে আকর্ষণ বলা হয়। এটি খুব দ্রুত তৈরি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকর্ষণ আর ভালোবাসা এক বিষয় নয়। সত্যিকারের ভালোবাসা তৈরি হয় সময়ের সঙ্গে। একজন মানুষের চরিত্র, মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মান এবং একে ওপরকে বোঝার মধ্য দিয়েই সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়।

আরও পড়ুন

তাই প্রথম দেখার ভালো লাগা সব সময় ভালোবাসায় পরিণত হয় না। সময়ের সঙ্গে অনেকেই বুঝতে পারেন, দুজনের চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য কিংবা জীবনযাত্রায় মিল নেই। আবার অনেক ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও বোঝাপড়া গড়ে উঠলে সেই প্রথম ভালো লাগাই দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসায় রূপ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ-তরুণীদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনেও কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আবেগের বশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া। অনেকেই মানুষটিকে ভালোভাবে না জেনেই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে বাস্তবতার সঙ্গে প্রত্যাশার মিল না থাকায় হতাশা তৈরি হয়।

এছাড়া পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব, ভুল বোঝাবুঝি, পর্যাপ্ত যোগাযোগ না থাকা, একে অপরের প্রতি সম্মান কমে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে গুরুত্ব না দেওয়াও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বড় কারণ। অনেক সময় পারিবারিক বাধা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অমিল, মানসিক অপরিপক্বতা এবং সামাজিক চাপও সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস, সততা, সম্মান, ধৈর্য এবং খোলামেলা যোগাযোগ। শুধু আবেগ দিয়ে কোনো সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সম্পর্ককে সফল করতে হলে দুই পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে এবং একে অপরকে বোঝার মানসিকতা রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম দেখায় কাউকে ভালো লাগা একেবারেই স্বাভাবিক। তবে সেই অনুভূতি সত্যিকারের ভালোবাসায় রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করে সময়, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস এবং সম্মানের ওপর। একইভাবে প্রেমে ব্যর্থ হওয়াও জীবনের শেষ নয়। প্রতিটি অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও পরিণত হতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলার শিক্ষা দেয়।

তাই ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানোর আগে আবেগের চেয়ে মানুষটিকে সময় নিয়ে জানা, বাস্তবতা বোঝা এবং ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
প্রথম প্রেম দিবস আজ
জিন্নাহকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ, হাদির ইনকিলাব মঞ্চের কাণ্ডে সমালোচনার ঝড়
ভালোবাসা নাকি সম্পর্কটা এখন শুধু অভ্যাসের, সঙ্গীর যে আচরণে মিলবে উত্তর
শুরুতেই গদগদ প্রেম? চিনে নিন ‘ভালোবাসার ফাঁদ’