ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

রান্নার পর মাংস সবুজ হয়ে যায় কেন? জানুন রহস্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ এএম
রান্না করা মাংস সবুজ হয়ে গিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সবুজ দেখালেই মাংস নষ্ট, বিষয়টি এমন নয়। খাদ্যবিজ্ঞানীদের মতে, মাংসের রং বিভিন্ন কারণে বদলে যেতে পারে। কখনো লাল থেকে বাদামি, কখনো গোলাপি, আবার বিশেষ পরিস্থিতিতে সবুজাভ বা রংধনুর মতো ঝিলমিল রংও দেখা যেতে পারে।

এর একটি কারণ হলো মাংসের নিজস্ব রঞ্জক পদার্থ (মায়োগ্লোবিন)। এই প্রোটিনই মূলত মাংসের লাল রঙের জন্য দায়ী। রান্নার সময় তাপ, অক্সিজেন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে মায়োগ্লোবিনের গঠন বদলাতে পারে। তখন মাংসে সবুজাভ আভা দেখা দিতে পারে।

কখন দেখা যায় সবুজ আভা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজে রাখা মাংস, আগে থেকে সংরক্ষিত মাংস বা রান্নার সময় উচ্চ তাপে কিছু রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কখনো কখনো এমন হতে পারে। মাংস কাটার ধরন, আলোর প্রতিফলন এবং পেশির সূক্ষ্ম গঠনও এতে ভূমিকা রাখে।

এ কারণে অনেক সময় রোস্ট বিফ, হ্যাম বা পাতলা করে কাটা গরুর মাংসে সবুজ, বেগুনি কিংবা রংধনুর মতো ঝিলমিল রং দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা একে ইরিডেসেন্স বা বর্ণচ্ছটা বলেন। এটি মূলত আলোর প্রতিফলনের একটি ভৌত ঘটনা, কোনো রং মেশানোর ফল নয়।

তাহলে কি রং বদলে যাওয়া মাংস খাওয়া নিরাপদ

শুধু সবুজাভ রং দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি মাংসের গন্ধ স্বাভাবিক থাকে, পিচ্ছিল না হয়, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ না হয়, তাহলে শুধু রং পরিবর্তন মানেই সেটি অনিরাপদ, এমন বলা যায় না।

তবে সবুজ রংয়ের আরেকটি কারণও থাকতে পারে। যদি ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা অন্যান্য অণুজীবের কারণে মাংস নষ্ট হতে শুরু করে, তাহলেও সবুজ বা ধূসর রং দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাধারণত দুর্গন্ধ, পিচ্ছিল ভাব বা অস্বাভাবিক চটচটে অনুভূতিও থাকে।

অর্থাৎ শুধু রং নয়, গন্ধ, স্পর্শ এবং সংরক্ষণের অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে।

আরও পড়ুন

রান্না হয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে

অনেকে মনে করেন, মাংস পুরো বাদামি হয়ে গেলেই সেটি নিরাপদ। কিন্তু এটিও সব সময় ঠিক নয়। খাদ্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, কখনো মাংস পুরোপুরি সেদ্ধ হওয়ার আগেই বাদামি দেখাতে পারে, আবার ভালোভাবে রান্না হওয়ার পরও কিছুটা গোলাপি বা লালচে রং থেকে যেতে পারে।

তাই মাংস নিরাপদভাবে রান্না হয়েছে কি না, সেটি বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো খাবারের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা। বিশেষ করে কিমা বা গরুর মাংস রান্নার ক্ষেত্রে ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সতর্কতা

মাংসের রং বদলে যাওয়া অবশ্যই অস্বাভাবিক। কিন্তু সবুজ দেখলেই যে সেটি বিষাক্ত বা রাসায়নিক মেশানো, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আবার উল্টোভাবে শুধু এই ভেবে নিশ্চিন্ত হওয়াও ঠিক নয় যে সবই স্বাভাবিক।

মাংসে যদি দুর্গন্ধ থাকে, পিচ্ছিল লাগে, দীর্ঘদিন ভুল তাপমাত্রায় রাখা হয় বা ছত্রাকের মতো দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ। আর কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে, খুলনার ঘটনার মতো, নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব।

সূত্র: সেন্টার ফর ফুড সেফটি, বিফ রিসার্চ ডটওআরজি, আমেরিকাস টেস্ট কিচেন ও অজি মিট

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, জানাল গবেষণা
বিয়ে না করার সঙ্গে কি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক আছে?
অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, জানাল গবেষণা
বাথরুমে কেন ঘটে স্ট্রোকের ঘটনা, কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান?
বাথরুমে গোসল করতে গিয়ে কিংবা শৌচকর্মের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কখনও এমন পরিস্থিতিতে স্ট্রোকের খবরও সামনে আসে। এ কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বাথরুমের সঙ্গে স্ট্রোকের কোনো বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে কি না।
বাথরুমে কেন ঘটে স্ট্রোকের ঘটনা, কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান?
আজ খিটখিটে মেজাজ দিবস, গোমড়ামুখোদের জন্যই বিশেষ দিন!
সব সময় হাসিখুশি থাকা কি সম্ভব? কাজের চাপ, ক্লান্তি কিংবা মনের অশান্তিতে কখনো কখনো বিরক্তি প্রকাশ পেতেই পারে।
আজ খিটখিটে মেজাজ দিবস, গোমড়ামুখোদের জন্যই বিশেষ দিন!
আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস: প্রতিদিনের এই অভ্যাসেই কমবে সংক্রমণের ঝুঁকি
প্রতিদিনের ছোট্ট একটি অভ্যাস কমাতে পারে নানা রোগের ঝুঁকি। অভ্যাসটি হলো সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া।
আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস: প্রতিদিনের এই অভ্যাসেই কমবে সংক্রমণের ঝুঁকি
খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যে ৪ সমস্যা হতে পারে
চায়ের সঙ্গে গরম গরম শিঙাড়া খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। রাস্তার পাশের দোকান থেকে অফিসের নাশতার টেবিল—সবখানেই জনপ্রিয় এই মুখরোচক খাবার।
খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যে ৪ সমস্যা হতে পারে