
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে এটি নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এর পর সাময়িক স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই বোটক্স নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানা জরুরি।
বোটক্সে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে
বোটক্স শরীরের নির্দিষ্ট পেশিতে স্নায়ুর সংকেত সাময়িকভাবে আটকে দিয়ে কাজ করে। এর ফলে ওই পেশি কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই কিছু স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
সম্ভাব্য সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে, তা বোটক্স শরীরের কোন স্থানে দেওয়া হয়েছে এবং কী পরিমাণে দেওয়া হয়েছে—তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। বেশি মাত্রার বোটক্স প্রয়োজন হয় এমন চিকিৎসা বা সংবেদনশীল স্থানের কাছাকাছি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
ঝুঁকি কমাতে কী করবেন
বোটক্সের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পুরোপুরি ঠেকানো সবসময় সম্ভব নয়। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে ঝুঁকি কমানো যায়।
অভিজ্ঞ চিকিৎসক বেছে নিন:
যোগ্য ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে বোটক্স নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পদ্ধতিতে ও সঠিক স্থানে প্রয়োগ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমতে পারে।
আগের অসুস্থতা ও ওষুধের কথা জানান:
বোটক্স নেওয়ার আগে আপনার শারীরিক সমস্যা এবং নিয়মিত কোন কোন ওষুধ খান, তা চিকিৎসককে জানানো উচিত। কিছু অসুস্থতা ও ওষুধ বোটক্সের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সঠিক মাত্রা নিশ্চিত করুন:
বোটক্সের পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আগে আলোচনা করুন। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রা ব্যবহার করলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
শরীরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে জানান:
বোটক্স নেওয়ার পর চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, গিলতে সমস্যা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক পেশি দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।
পরেরবারের চিকিৎসায় পরিবর্তন আনা যেতে পারে:
আগেরবার বোটক্স নেওয়ার পর স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা জরুরি। প্রয়োজনে বোটক্সের মাত্রা, প্রয়োগের স্থান বা চিকিৎসার ব্যবধান পরিবর্তন করা যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুর ক্ষতি হয় কি
সঠিকভাবে বোটক্স ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা খুব কম। বোটক্সের কারণে স্নায়ুর ক্ষতিও বিরল।
বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাময়িক। সাধারণত বোটক্সের প্রভাব কমে যাওয়ার সঙ্গে এসব সমস্যাও চলে যায়। একটি প্রয়োগের পর বোটক্সের প্রভাব সাধারণত তিন থেকে চার মাসের মধ্যে কমে আসে।
তবে দীর্ঘদিন বারবার বোটক্স নিলে অন্য কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন, নির্দিষ্ট পেশিতে দীর্ঘ সময় কাজ কম হওয়ায় সেই পেশি দুর্বল বা ছোট হয়ে যেতে পারে। আবার খুব কম ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর শরীরে এমন কিছু প্রোটিন তৈরি হতে পারে, যা বোটক্সের কার্যকারিতার বিরুদ্ধে কাজ করে।
বোটক্সে কি স্ট্রোক হতে পারে
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বোটক্সের কারণে স্ট্রোক হওয়ার কোনো প্রতিবেদন নেই।
বোটক্সে কি স্মৃতিভ্রংশ বা মস্তিষ্কে ঝাপসা ভাব হয়
বোটক্সের কারণে স্মৃতিভ্রংশ বা মস্তিষ্কে ঝাপসা ভাব হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। বোটক্স মস্তিষ্কে এমন প্রভাব ফেলে—এমন তথ্যও গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
বোটক্স নেওয়ার আগে যা মনে রাখবেন
বোটক্স নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলুন। কোন ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করতে হবে কি না, সেটিও চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।
বোটক্স নেওয়ার পর শরীরে বা মুখে পরিবর্তন কত সময়ের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, সেটিও খেয়াল রাখা ভালো। এতে পরবর্তী চিকিৎসার সময় নির্ধারণে চিকিৎসককে তথ্য দেওয়া সহজ হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু সৌন্দর্যচর্চার জন্য হলেও বোটক্সকে হালকা কোনো বিষয় হিসেবে না দেখা। সঠিক চিকিৎসক, সঠিক মাত্রা এবং সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি বেছে নেওয়াই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।
সূত্র: হেলথলাইন
আরটিভি/জেএমএ



