ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সন্তানের সঙ্গে এক বিছানায় ঘুম, উপকার নাকি ঝুঁকি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ এএম
সন্তানের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে উপকার নাকি ঝুঁকি জানুন । ছবি: সংগৃহীত

সন্তানকে আলাদা ঘরে ঘুম পাড়ানো ভালো, নাকি মা–বাবার সঙ্গে একই বিছানায়? এই প্রশ্নে বহুদিন ধরেই চলছে আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নিরাপদ নিয়ম মেনে ছোট শিশুর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে তার মানসিক বিকাশ, নিরাপত্তাবোধ এবং মা–বাবার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে। তবে একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিয়মও মেনে চলা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর জীবনের প্রথম দিকে মা–বাবার কাছাকাছি থাকা তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। এতে শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং সে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। রাতে কান্না করলে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায় বলেও শিশুর মানসিক চাপ কমে।

বিশেষ করে যেসব মা বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের জন্য একই বিছানায় ঘুমানো অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হতে পারে। এতে রাতে বারবার উঠে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি মা ও শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপমাত্রা এবং হৃদস্পন্দনের মধ্যে স্বাভাবিক সমন্বয়ও তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

তবে অনেক দেশে শিশুকে ছোটবেলা থেকেই আলাদা ঘুমানোর অভ্যাস করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এতে শিশুর স্বাধীনতা বাড়ে। অন্যদিকে অনেক গবেষক মনে করেন, শিশুর কান্নাকে দীর্ঘ সময় উপেক্ষা করলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং তার আবেগগত বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা হলো জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মা–বাবার একই ঘরে আলাদা খাটে বা দোলনায় ঘুমানো। তবে বাস্তবে অনেক পরিবারই কখনো না কখনো একই বিছানায় ঘুমায়। তাই তাদের নিরাপদ উপায়ে এটি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই বিছানায় ঘুমালে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। নরম সোফা বা আরামকেদারায় কখনোই শিশুকে নিয়ে ঘুমানো উচিত নয়। বিছানা শক্ত ও সমতল হওয়া প্রয়োজন। শিশুর মুখের কাছে বালিশ, মোটা কম্বল বা অন্য কোনো জিনিস রাখা যাবে না। মদ্যপান, ধূমপান বা ঘুমের ওষুধ সেবনের পর শিশুর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানো ঝুঁকিপূর্ণ।

একটি জরিপে দেখা গেছে, অনেক অভিভাবকই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে শিশুর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমান। তবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে একই বিছানায় ঘুমানোর ঘটনাই শিশুর জন্য সবচেয়ে বেশি বিপদ ডেকে আনে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকদের দোষারোপ না করে নিরাপদ ঘুমের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করাই সবচেয়ে জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ঘুমের ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার নিরাপত্তা, বয়স এবং পরিবারের বাস্তব পরিস্থিতি। সচেতনতা ও নিরাপদ নিয়ম মেনে চললে শিশুর সুস্থ বিকাশ এবং নিরাপদ ঘুম—দুটিই নিশ্চিত করা সম্ভব।

সূত্র: লন্ডন স্কুল অফ চাইল্ড কেয়ার স্টাডিজ


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় সন্তানদের যা শেখাচ্ছেন বাবা-মায়েরা
বাবা-মাকে হারানো এতিম ৫ কন্যার পাশে প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরল ইতিহাস
জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়িছাড়া ছেলে ও পুত্রবধূ