
হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। বুকে ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে আগে থেকেই হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় হঠাৎ এমন লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
১. দ্রুত কাছের কাউকে জানান
বুকে হঠাৎ ব্যথা বা চাপ অনুভব করলে প্রথমেই কাছের এমন কাউকে ফোন করুন, যিনি দ্রুত আপনার কাছে পৌঁছাতে পারবেন। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবায় ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করুন।
হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ হলে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা না করে জরুরি চিকিৎসাসেবার সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ। হঠাৎ বা অজানা বুকে ব্যথা কয়েক মিনিটের বেশি থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
২. দরজা-জানালা খুলে সাহায্যের অপেক্ষা করুন
একা থাকলে সম্ভব হলে ঘরের দরজা এমনভাবে খুলে রাখুন, যাতে সাহায্য করতে আসা ব্যক্তি দ্রুত ভেতরে ঢুকতে পারেন। জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
তবে অযথা হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রম না করে নিরাপদ জায়গায় থেকে সাহায্যের অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. নিরাপদ অবস্থানে থাকুন
মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ জায়গায় বসে বা শুয়ে থাকুন। নিজের অবস্থা খারাপ হলে একা উঠে হাঁটাচলা না করে সাহায্যের অপেক্ষা করুন।
বুকে ব্যথা হলে কী কারণে হচ্ছে তা নিজে নিশ্চিত করার চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ হৃদ্রোগের ব্যথা ও অন্য ধরনের বুকে ব্যথার পার্থক্য সবসময় সহজে বোঝা যায় না।
অ্যাসপিরিন কি খাওয়া যাবে?
প্রাথমিক চিকিৎসার বর্তমান নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির অজানা কারণে বুকে ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করার পর, ব্যক্তি সচেতন থাকলে এবং অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি না থাকলে ১৬২ থেকে ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। তবে আগে থেকেই কোনো চিকিৎসক অ্যাসপিরিন না খেতে বলে থাকলে তা নেওয়া উচিত নয়। অ্যাসপিরিন নেওয়া নিয়ে সন্দেহ থাকলেও জরুরি চিকিৎসাসেবার কর্মীদের পরামর্শের জন্য অপেক্ষা করা নিরাপদ।
অ্যাসপিরিন খাওয়ার জন্য কখনোই জরুরি চিকিৎসা নেওয়া বা অ্যাম্বুল্যান্স ডাকতে দেরি করা উচিত নয়।
বুকে ব্যথা হলেই অপেক্ষা করবেন না
বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা শরীরের অন্য অংশে ব্যথা হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের হৃদ্রোগের লক্ষণ তুলনামূলক অস্পষ্টও হতে পারে।
তাই বাড়িতে একা থাকলেও হঠাৎ বুকে ব্যথা বা হৃদ্রোগের সন্দেহজনক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/জেএমএ


