ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

পাঁচ নিয়ম মানলেই পালাবে ডায়রিয়া

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
ডায়রিয়া হলে অবহেলা নয়, জেনে নিন লক্ষণ, কারণ ও করণীয় । ছবি: সংগৃহীত

পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া খুবই সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক—যেকোনো বয়সের মানুষেরই এটি হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই ডায়রিয়া ভালো হয়ে যায়। তবে কখনও কখনও এটি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই ডায়রিয়ার লক্ষণ, কারণ ও করণীয় সম্পর্কে সবার সচেতন থাকা জরুরি।

ডায়রিয়া কী?

ডায়রিয়া হলো এমন একটি অবস্থা, যখন স্বাভাবিকের তুলনায় বারবার পাতলা বা পানির মতো পায়খানা হয়। সাধারণত ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে এটি বেশি দেখা যায়। তবে ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী, দূষিত খাবার, কিছু ওষুধ কিংবা হজমের সমস্যার কারণেও ডায়রিয়া হতে পারে।

ডায়রিয়ার ধরন

ডায়রিয়া সাধারণত তিন ধরনের হতে পারে।

স্বল্পমেয়াদি: এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সেরে যায়।
দীর্ঘস্থায়ী: দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
অতি দীর্ঘস্থায়ী: চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

কেন হয় ডায়রিয়া?

ডায়রিয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন—

  • ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবীর সংক্রমণ
  • দূষিত বা নষ্ট খাবার খাওয়া
  • খাদ্যে বিষক্রিয়া
  • কিছু অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • দুধ বা নির্দিষ্ট খাবার হজমে সমস্যা
  • অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ
আরও পড়ুন

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

ডায়রিয়ার সঙ্গে সাধারণত দেখা দিতে পারে— পাতলা পায়খানা, পেটে ব্যথা বা মোচড়, পেট ফাঁপা, বারবার পায়খানার চাপ, বমিভাব।

তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি— উচ্চ জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা অতিরিক্ত শ্লেষ্মা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ।

পানিশূন্যতার লক্ষণ

ডায়রিয়ায় শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বের হয়ে যায়। ফলে দেখা দিতে পারে— অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, গা দুর্বল লাগা, প্রস্রাব কম হওয়া বা গাঢ় রঙের হওয়া।

শিশুদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখে পানি না আসা এবং প্রস্রাব কম হওয়া পানিশূন্যতার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

ঘরে বসে কী করবেন?

হালকা ডায়রিয়ায় কিছু নিয়ম মেনে চললে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।

১. পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
২. খাবার স্যালাইন বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানিশূন্যতা পূরণ করুন।
৩. অল্প অল্প করে বারবার তরল খাবার গ্রহণ করুন।
৪. সহজপাচ্য খাবার যেমন কলা, সাদা ভাত, টোস্ট, আলু ও হালকা স্যুপ খেতে পারেন।
৫. অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, কোমল পানীয়, মদ্যপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন।

শিশুর ডায়রিয়ায় করণীয়

শিশুর ডায়রিয়া হলে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজন হলে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়াতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

ডায়রিয়া কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে, জ্বর বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে, তীব্র দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডায়রিয়া প্রতিরোধে যা করবেন

ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুলুন—

১. নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
২. বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
৩. ভালোভাবে রান্না করা খাবার খান।
৪. নষ্ট বা দূষিত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৫. ভ্রমণে নিরাপদ খাবার ও বোতলজাত পানি ব্যবহার করুন।
৬. শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো নিশ্চিত করুন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ডায়রিয়া কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। তবে শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি। সময়মতো সঠিক যত্ন ও প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিলে ডায়রিয়ার জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব।


সূত্র: ক্লেভেল এন্ড ক্লিনিক অর্গানাইজেশন


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
টাইফয়েড জ্বর হলে কীভাবে বুঝবেন?
রাজবাড়ীতে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর চাপ, মেঝেতে চিকিৎসা
পঞ্চগড়ে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী