
শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে অনেক সময় তা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাই আমরা। ত্বকে র্যাশ, চুল পড়া কিংবা চুলের রং পরিবর্তনের মতো নখের রং, আকৃতি ও গঠনের পরিবর্তনও হতে পারে শরীরের ভেতরের কিছু সমস্যার ইঙ্গিত।
সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নখের রং, আকৃতি, গঠন, শক্তি ও বৃদ্ধির ধরনে পরিবর্তন কখনো কখনো কিছু শারীরিক সমস্যার সংকেত দিতে পারে। তবে নখে কোনো পরিবর্তন হলেই গুরুতর রোগ হয়েছে এমনটা ভাবার কারণ নেই। হঠাৎ বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
নখ মূলত কেরাটিন নামের একটি শক্ত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। সুস্থ নখ সাধারণত মসৃণ, স্বাভাবিক রঙের ও শক্ত থাকে। তবে কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে নখের স্বাভাবিক আকৃতি ও গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে।
এর একটি উদাহরণ হলো ক্লাবিং। এ ক্ষেত্রে নখ অস্বাভাবিকভাবে আঙুলের ডগার দিকে বাঁকতে থাকে। হৃদ্যন্ত্রের রোগ, প্রদাহজনিত অন্ত্রের সমস্যা কিংবা লিভারের কিছু সমস্যার সঙ্গে এ ধরনের নখের পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে।
আবার নখ যদি চামচের মতো মাঝখান থেকে দেবে যায় এবং তুলনামূলকভাবে সমতল হয়ে ওঠে, তাকে বলা হয় স্পুন নেইল। অনেক ক্ষেত্রে এটি আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
নখের রং পরিবর্তনও স্বাস্থ্যের কিছু বিষয় জানান দিতে পারে। নখ হলুদ হওয়ার সাধারণ কারণের মধ্যে রয়েছে ছত্রাকের সংক্রমণ ও ধূমপান। তবে কিছু ক্ষেত্রে কিডনি বা লিভারের সমস্যার সঙ্গেও নখের হলুদ ভাবের সম্পর্ক থাকতে পারে। শ্বাসতন্ত্রের কিছু রোগ কিংবা আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রেও নখের রং পরিবর্তিত হতে পারে।
অন্যদিকে, নখ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে হয়ে গেলে তা রক্তস্বল্পতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আবার পুরো নখ সাদা হয়ে যাওয়ার সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস বা লিভারের রোগের সম্পর্ক পাওয়া যায়।
নখে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা গেলেই অবশ্য আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আঘাত, অ্যালার্জি, কিছু ওষুধ কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণের কারণেও এ ধরনের দাগ দেখা দিতে পারে। আঘাতের কারণে হওয়া সাদা দাগ সাধারণত সময়ের সঙ্গে নখ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়।

কখনো নখ নীলচে বা লালচে হয়ে যেতে পারে। নখের গোড়ার অর্ধচন্দ্রাকৃতির অংশে লালচে দাগ দেখা গেলে কিছু ক্ষেত্রে অটোইমিউন রোগ, আর্থ্রাইটিস বা হৃদ্রোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
অন্যদিকে, নখের বড় অংশ নীলচে হয়ে গেলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। এর পেছনে ফুসফুস বা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নখ সবুজ বা কালচে হয়ে যাওয়াও কখনো সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। আবার নখে শক্ত বাদামি বা কালো দাগ কিংবা রেখা দেখা দিলে, বিশেষ করে সেটি নতুন করে তৈরি হলে বা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিরল ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন মেলানোমার মতো গুরুতর সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অনেকের নখ সহজেই ভেঙে যায়। বিষয়টি অনেক সময় স্বাভাবিক হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-ভিটামিন, আয়রন, জিংক ও প্রোটিনের ঘাটতির সঙ্গে ভঙ্গুর নখের সম্পর্ক থাকতে পারে।
এ ছাড়া থাইরয়েডের সমস্যাও নখের গঠন ও শক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হাইপারথাইরয়েডিজমের সঙ্গে ভঙ্গুর নখ দেখা যায়। আবার হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে নখ পাতলা হয়ে যেতে পারে।
তবে নখে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলেই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আঘাত, সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা দৈনন্দিন নানা কারণেও নখের রং, আকৃতি ও গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে।
তাই নখে সামান্য পরিবর্তন দেখেই আতঙ্কিত না হয়ে পরিবর্তনটি হঠাৎ হয়েছে কি না, দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে কি না এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ রয়েছে কি না সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরটিভি/এসকে




