ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিদিন দই খেলে শরীরে কী বদল আসে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
প্রতিদিন দই খাওয়ার অভ্যাসে শরীরে কী হয়? জানুন উপকার ও ক্ষতির দিক । ছবি: সংগৃহীত

দই শুধু সুস্বাদু খাবার নয়, এতে রয়েছে আমিষ, ক্যালশিয়াম ও উপকারী জীবাণু। প্রতিদিন দই খাওয়ার অভ্যাস হজম, পেট ভরা অনুভূতি ও হাড়ের স্বাস্থ্যে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, জানুন।

দই অনেকেরই পছন্দের খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার কিংবা বিকেলের হালকা খাবার—বিভিন্নভাবেই দই খাওয়া যায়। শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও দইকে স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় রাখা হয়।

একজন পুষ্টিবিদ এক সপ্তাহ প্রতিদিন দই খেয়ে নিজের শরীরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। তার অভিজ্ঞতায় পেট ফাঁপা কিছুটা কমেছে, দিনের বিভিন্ন সময়ে ক্ষুধাও তুলনামূলক কম অনুভূত হয়েছে। পাশাপাশি খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সচেতনতা বেড়েছে।

তবে সবার শরীরে একই ধরনের পরিবর্তন হবে, এমন নয়। দই খাওয়ার উপকার ব্যক্তি ও দইয়ের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে দই

দইয়ে থাকা উপকারী জীবাণু অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে হজমের প্রক্রিয়া ভালো থাকতে পারে এবং গ্যাস বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তি কমতে পারে।

প্রতিদিন দই খাওয়ার অভিজ্ঞতায় পেট ফাঁপা কম অনুভূত হওয়ার একটি কারণ হতে পারে খাবারের ধরনে পরিবর্তন। লবণযুক্ত অস্বাস্থ্যকর নাশতার বদলে দই খেলে শরীরে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণও কমতে পারে। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমিয়ে ফোলাভাব তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন

দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে

বিশেষ করে ঘন দইয়ে আমিষের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। দইয়ে থাকা আমিষ ও চর্বি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে খাবারের মাঝখানে অপ্রয়োজনীয় নাশতা খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

যারা বিকেলে বারবার বিভিন্ন খাবার খেয়ে ফেলেন, তাঁদের জন্য সাধারণ চিনি ছাড়া দই একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

হাড় ও পেশির জন্যও উপকারী

দই ক্যালশিয়ামের ভালো উৎস। ক্যালশিয়াম হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দইয়ের আমিষ পেশির বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত পেশি পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

তাই নিয়মিত খাবারের তালিকায় পরিমাণমতো দই রাখলে হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যের জন্যও উপকার মিলতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে

দই খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। এ কারণে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে দই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

তবে শুধু দই খেলেই ওজন কমবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরো খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সব দই কি সমান উপকারী?

না। দইয়ের ধরন বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। চিনি ছাড়া সাধারণ দই সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে। অনেক স্বাদযুক্ত দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে, যা নিয়মিত খেলে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের কারণ হতে পারে।

চিনি ছাড়া দইয়ের সঙ্গে তাজা ফল, বাদাম বা সামান্য মধু যোগ করে খাওয়া যেতে পারে।

ঘন দইও ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এতে আমিষের পরিমাণ বেশি এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।

বেশি দই খেলেও কি সমস্যা হতে পারে?

স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত দই খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে চিনি মেশানো দই বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি ঢুকতে পারে।

যাদের দুধের চিনি হজমে সমস্যা হয়, তাদের কেউ কেউ দুধের তুলনায় দই সহজে সহ্য করতে পারেন। তবে দই খাওয়ার পর পেট ব্যথা, গ্যাস বা অন্য কোনো অস্বস্তি হলে পরিমাণ কমানো বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া যাদের নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে আমিষ বা ক্যালশিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে খেতে হয়, তারা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দই যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

দই বেছে নেওয়ার সময় যা দেখবেন

দই কেনার সময় অতিরিক্ত চিনি রয়েছে কি না, তা খেয়াল করা জরুরি। সম্ভব হলে চিনি ছাড়া সাধারণ দই বেছে নেওয়া ভালো।

দুধজাত খাবার খেতে না চাইলে বাদাম, সয়া বা নারকেল থেকে তৈরি বিকল্প দইও নেওয়া যায়। তবে সেগুলোতে উপকারী জীবাণু, আমিষ ও ক্যালশিয়াম যুক্ত আছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

তাহলে প্রতিদিন দই খাওয়া যাবে?

পরিমাণমতো এবং সঠিক ধরনের দই খেলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। দই হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে, পেট ভরা রাখতে পারে এবং হাড় ও পেশির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি দিতে পারে।

তবে দই খাওয়ার পর শরীরে কোনো অস্বস্তি হলে জোর করে প্রতিদিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাবারের পরিমাণ ও ধরন ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো।

সবশেষে, দই স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিমাণমতো দই খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
রাতে বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে।
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
শিয়ালের মাংস খেলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা নানা রোগের চিকিৎসা হয়, আবার জোঁকের তেল নাকি সারিয়ে দেয় বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে এমন নানা লোকবিশ্বাস। তবে এসব দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
আজ সিঙ্গেল দিবস
কারও জীবনে ভালোবাসার মানুষটি পাশে আছে, আবার কেউ নিজের মতো করেই জীবন কাটাচ্ছেন।
আজ সিঙ্গেল দিবস
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
সম্পর্ক শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে। জীবনও নিজের মতো এগিয়ে চলছে। আপনি জানেন, মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না।
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একসময় চুল পড়া বা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে অনেক তরুণের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
আরও পড়ুন
টানা ৩০ দিন টক দই খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে
স্বাস্থ্য ভালো রাখে দই নাকি ঘোল?
গরমে ডাবের পানি নাকি মাঠা, কোনটা শরীরের জন্য বেশি উপকারী
দই-চানাচুর একসঙ্গে খেলে কী হয়