
আত্মবিশ্বাসী হও বললেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় না। সন্তানের কথা শোনা, নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং পছন্দের কাজে দক্ষ করে তোলার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে তার আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠতে পারে।
প্রত্যেক বাবা-মায়েরই চাওয়া, সন্তান যেন আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠে। নতুন মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে, নিজের কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেকে সামলে নিতে পারে।
তবে শুধু ‘আত্মবিশ্বাসী হও’ বললেই শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় না। এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাস, নতুন অভিজ্ঞতা এবং নিজের কাজ নিজে করার সুযোগ সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন
সন্তান কোনো ভুল করলে বারবার এটা কেন করেছ? বা ওটা কেন করলে?—এ ধরনের প্রশ্ন না করে আগে তার কথা মন দিয়ে শুনুন।
সবসময় ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা না করে সন্তান কী ভাবছে, কেন এমন করেছে এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি কী—সেটিও বোঝার চেষ্টা করুন।
সন্তান যখন বুঝবে তার কথা বাবা-মা গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন, তখন তার মধ্যে নিজের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হবে। সে মনে করবে, ‘আমার কথারও গুরুত্ব আছে।’ এই অনুভূতিই ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।
ঘরের গণ্ডির বাইরে মেশার সুযোগ দিন
শুধু বাড়ি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশের মধ্যে সন্তানের জীবন সীমাবদ্ধ রাখবেন না। পরিচিত পরিবেশের বাইরে নতুন মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিন।
যেমন কোথাও খেতে গেলে সন্তানকে নিজের খাবার নিজে পছন্দ করে বলতে বা খাবারের কথা জানাতে উৎসাহ দিতে পারেন। প্রতিবেশী বা পরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দিতে পারেন।
তবে সন্তান যদি স্বভাবগতভাবে লাজুক হয়, তাকে জোর করে সবার সামনে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। ধীরে ধীরে তার জন্য নতুন মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ তৈরি করাই ভালো।
পছন্দের কাজে দক্ষ করে তুলুন
শুধু পড়াশোনায় ভালো করলেই আত্মবিশ্বাসী হওয়া যায় না। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুর পছন্দ ও আগ্রহের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সন্তান যদি সাঁতার, সাইকেল চালানো, ছবি আঁকা, নাচ কিংবা ফুটবল খেলতে পছন্দ করে, তাহলে তাকে সেই কাজে উৎসাহ দিন।
কোনো একটি কাজে ধীরে ধীরে দক্ষতা তৈরি হলে সন্তানের নিজের প্রতি বিশ্বাসও বাড়তে থাকে। সে বুঝতে শেখে, চেষ্টা করলে কোনো একটি কাজে সে ভালো করতে পারে। এই অভিজ্ঞতা অন্য ক্ষেত্রেও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যান
মাঝেমধ্যে সন্তানকে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ দিন। প্রয়োজনে তাকে প্রকৃতিনির্ভর শিবির বা ভ্রমণে নিয়ে যেতে পারেন।
এ ধরনের পরিবেশে শিশুকে নিজের কিছু কাজ নিজেকেই করতে হয়। পাশাপাশি অপরিচিত পরিবেশ ও ছোটখাটো প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হয়।
নিজের কাজ নিজে করা এবং নতুন পরিস্থিতি সামলানোর এসব অভিজ্ঞতা শিশুকে ধীরে ধীরে আরও স্বনির্ভর করে তুলতে পারে। এর সঙ্গে বাড়তে পারে আত্মবিশ্বাসও।
ভুল করলে শুধু বকাঝকা নয়
সন্তানের ভুল হলে শুধু বকাঝকা বা ভুল ধরিয়ে দেওয়ার বদলে কেন ভুল হলো, সে কী ভাবছিল—তা বোঝার চেষ্টা করুন।
শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দিলে সে নিজের কথা বলতে শিখবে। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ভুল থেকে শেখার অভ্যাসও তৈরি হবে।
আত্মবিশ্বাসী সন্তান গড়ে তোলার জন্য তাই প্রতিদিনের আচরণেই কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। তার কথা শুনতে হবে, নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ দিতে হবে এবং নিজের পছন্দের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য উৎসাহ দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, আত্মবিশ্বাস একদিনে তৈরি হয় না। বাবা-মায়ের ভালোবাসা, বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং সন্তানের নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে এই গুণটি গড়ে ওঠে।
আরটিভি/জেএমএ




