ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

লাজুক সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
সন্তান আত্মবিশ্বাসী নয়? বাবা-মায়ের এই অভ্যাসগুলোই বদলে দিতে পারে তাকে । ছবি: সংগৃহীত

আত্মবিশ্বাসী হও বললেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় না। সন্তানের কথা শোনা, নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং পছন্দের কাজে দক্ষ করে তোলার মাধ্যমেই ধীরে ধীরে তার আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠতে পারে।

প্রত্যেক বাবা-মায়েরই চাওয়া, সন্তান যেন আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠে। নতুন মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে, নিজের কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেকে সামলে নিতে পারে।

তবে শুধু ‘আত্মবিশ্বাসী হও’ বললেই শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় না। এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাস, নতুন অভিজ্ঞতা এবং নিজের কাজ নিজে করার সুযোগ সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন

সন্তান কোনো ভুল করলে বারবার এটা কেন করেছ? বা ওটা কেন করলে?—এ ধরনের প্রশ্ন না করে আগে তার কথা মন দিয়ে শুনুন।

সবসময় ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা না করে সন্তান কী ভাবছে, কেন এমন করেছে এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি কী—সেটিও বোঝার চেষ্টা করুন।

সন্তান যখন বুঝবে তার কথা বাবা-মা গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন, তখন তার মধ্যে নিজের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হবে। সে মনে করবে, ‘আমার কথারও গুরুত্ব আছে।’ এই অনুভূতিই ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন

ঘরের গণ্ডির বাইরে মেশার সুযোগ দিন

শুধু বাড়ি ও বিদ্যালয়ের পরিবেশের মধ্যে সন্তানের জীবন সীমাবদ্ধ রাখবেন না। পরিচিত পরিবেশের বাইরে নতুন মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিন।

যেমন কোথাও খেতে গেলে সন্তানকে নিজের খাবার নিজে পছন্দ করে বলতে বা খাবারের কথা জানাতে উৎসাহ দিতে পারেন। প্রতিবেশী বা পরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দিতে পারেন।

তবে সন্তান যদি স্বভাবগতভাবে লাজুক হয়, তাকে জোর করে সবার সামনে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। ধীরে ধীরে তার জন্য নতুন মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ তৈরি করাই ভালো।

পছন্দের কাজে দক্ষ করে তুলুন

শুধু পড়াশোনায় ভালো করলেই আত্মবিশ্বাসী হওয়া যায় না। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুর পছন্দ ও আগ্রহের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সন্তান যদি সাঁতার, সাইকেল চালানো, ছবি আঁকা, নাচ কিংবা ফুটবল খেলতে পছন্দ করে, তাহলে তাকে সেই কাজে উৎসাহ দিন।

কোনো একটি কাজে ধীরে ধীরে দক্ষতা তৈরি হলে সন্তানের নিজের প্রতি বিশ্বাসও বাড়তে থাকে। সে বুঝতে শেখে, চেষ্টা করলে কোনো একটি কাজে সে ভালো করতে পারে। এই অভিজ্ঞতা অন্য ক্ষেত্রেও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যান

মাঝেমধ্যে সন্তানকে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ দিন। প্রয়োজনে তাকে প্রকৃতিনির্ভর শিবির বা ভ্রমণে নিয়ে যেতে পারেন।

এ ধরনের পরিবেশে শিশুকে নিজের কিছু কাজ নিজেকেই করতে হয়। পাশাপাশি অপরিচিত পরিবেশ ও ছোটখাটো প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হয়।

নিজের কাজ নিজে করা এবং নতুন পরিস্থিতি সামলানোর এসব অভিজ্ঞতা শিশুকে ধীরে ধীরে আরও স্বনির্ভর করে তুলতে পারে। এর সঙ্গে বাড়তে পারে আত্মবিশ্বাসও।

ভুল করলে শুধু বকাঝকা নয়

সন্তানের ভুল হলে শুধু বকাঝকা বা ভুল ধরিয়ে দেওয়ার বদলে কেন ভুল হলো, সে কী ভাবছিল—তা বোঝার চেষ্টা করুন।

শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দিলে সে নিজের কথা বলতে শিখবে। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ভুল থেকে শেখার অভ্যাসও তৈরি হবে।

আত্মবিশ্বাসী সন্তান গড়ে তোলার জন্য তাই প্রতিদিনের আচরণেই কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। তার কথা শুনতে হবে, নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ দিতে হবে এবং নিজের পছন্দের কাজে দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য উৎসাহ দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, আত্মবিশ্বাস একদিনে তৈরি হয় না। বাবা-মায়ের ভালোবাসা, বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং সন্তানের নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে এই গুণটি গড়ে ওঠে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
চালক-যাত্রীদের সহায়তায় বাসেই নারীর সন্তান প্রসব
চার সন্তানকে একা রেখে লাস ভেগাসে, ফিরে গ্রেপ্তার মা
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ: বাবার লাশ দাফনে সন্তানদের বাধা, দিনভর পড়ে রইল মরদেহ
কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআন যা বলেছে