ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সকালে না বিকেলে, কখন হাঁটলে বেশি উপকার

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
সকাল-বিকেল নয়, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসই সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি । ছবি: সংগৃহীত

হাঁটা শরীর সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি। বয়স বা ব্যস্ততা—কোনোটিই নিয়মিত হাঁটার পথে বড় বাধা হতে হয় না। প্রতিদিন হাঁটলে শরীর সক্রিয় থাকে, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, হাঁটার জন্য সকাল ভালো, নাকি বিকেল?

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার জন্য সবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সেরা সময় নেই। বরং যে সময় নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস ধরে রাখা সম্ভব, সেটিই সবচেয়ে ভালো। তবে সকাল, বিকেল ও খাবারের পর হাঁটার কিছু আলাদা সুবিধা রয়েছে।

সকালে হাঁটলে যেসব উপকার

সকালে হাঁটলে দিনের শুরুতেই শরীর সক্রিয় হয়ে ওঠে। দিনের ব্যস্ততা শুরুর আগেই হাঁটা শেষ করা যায় বলে পরে কাজের চাপে ব্যায়াম বাদ পড়ার আশঙ্কাও কম থাকে। তাই যাদের সকালে সময় বের করা সহজ, তাদের জন্য এই সময়টি নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে বেশ কার্যকর।

অনেকে মনে করেন, খালি পেটে হাঁটলেই দ্রুত ওজন কমে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীর কিছুটা বেশি সঞ্চিত চর্বি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে—এমন প্রমাণ রয়েছে। তবে শুধু খালি পেটে হাঁটলেই ওজন কমবে, এমন নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারের ধরন, মোট খাবার গ্রহণ ও জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।

খালি পেটে হাঁটার সময় মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

ওজন কমাতে কোন সময় হাঁটবেন?

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে হাঁটার নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে নিয়মিত হাঁটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সকাল হোক বা বিকেল—যে সময় নিয়মিত হাঁটা সম্ভব, সেই সময়টিই বেছে নেওয়া ভালো।

ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের পর হাঁটা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খাবারের পর অল্প সময় হাঁটা উপকারী হতে পারে। খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্বাভাবিক বা আরামদায়ক গতিতে হাঁটলে খাবারের পর রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে যারা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাদের খাবার ও হাঁটার সময় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কোন সময় ভালো?

হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে হাঁটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুতগতিতে নিয়মিত হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রের সক্ষমতা, রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

যারা দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন, তারা বিকেল বা সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ হাঁটতে পারেন। এতে দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার অভ্যাসও কমে।

সন্ধ্যার হাঁটা কাদের জন্য উপকারী?

সকালে যাদের ব্যস্ততা বেশি, তাদের জন্য বিকেল বা সন্ধ্যার হাঁটা হতে পারে সহজ সমাধান। সারাদিনের কাজের পর কিছুক্ষণ হাঁটলে শরীর সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মনও সতেজ হতে পারে।

তবে ঘুমানোর ঠিক আগে খুব দ্রুতগতির বা দীর্ঘ সময়ের ব্যায়াম না করাই ভালো। এতে কারও কারও ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

রাতের খাবারের পরও হাঁটতে পারেন

রাতের খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা দৈনন্দিন শরীরচর্চার সহজ উপায়। এতে খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে এবং খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও কমে।

সপ্তাহে কতক্ষণ হাঁটা ভালো?

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চার পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রায় ৩০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটা একটি ভালো লক্ষ্য হতে পারে।

তাই সকালে, বিকেলে কিংবা খাবারের পর—সময় নিয়ে বেশি চিন্তা না করে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে সময়টি আপনার জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই এবং নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারবেন, সেই সময়টিই হাঁটার জন্য বেছে নিন।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
সকালের মিষ্টি রোদে মিলবে যে ৮ উপকার
সকালে এই ৫ ভুলেই বাড়তে পারে সুগার