
লিঙ্গের আকার ও পরিধি বাড়াতে ফিলার নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় সংক্রমণ, রক্তনালির ক্ষতি, এমনকি লিঙ্গের ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকিও রয়েছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নিজের শরীর নিয়ে সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায় অনেক পুরুষ এ পথে হাঁটছেন।
এমন তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের জেসন নামের এক ব্যক্তি লিঙ্গের পরিধি বাড়াতে ফিলার নিয়েছেন। এতে তার লিঙ্গের পরিধি প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি। জেসনের দাবি, এতে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং তিনি ও তার সঙ্গী দুজনই ফলাফলে সন্তুষ্ট।
জেসন জানান, লিঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন। তবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অবয়বের জন্য তিনি পরিধি বাড়াতে চেয়েছিলেন। এক বছর বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে ভাবার পর তিনি অস্ত্রোপচার না করে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড নামের একটি সাময়িক ফিলার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
চাহিদা বাড়ছে, তবে নেই কঠোর নিয়ন্ত্রণ
লিঙ্গের আকার বাড়াতে অস্ত্রোপচার এবং অস্ত্রোপচার ছাড়া বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন অন্যতম। এই উপাদান শরীরে স্বাভাবিকভাবেই থাকে এবং এটি পানি ধরে রাখে।
ম্যানচেস্টারের চিকিৎসক জাভেদ হুসেইন এক বছরের বেশি সময় ধরে লিঙ্গে ফিলার দেওয়ার কাজ করছেন। তার মতে, এ ধরনের প্রক্রিয়ার চাহিদা বাড়ছে। তার রোগীদের বয়স মধ্য বিশ থেকে শুরু করে ৭২ বছর পর্যন্ত।
এই প্রক্রিয়ায় লিঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ফিলার প্রবেশ করানো হয়। পরে তা সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ছয় থেকে নয় মাসের জন্য লিঙ্গের পরিধি প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে দাবি করা হয়।
তবে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় খরচও কম নয়। সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পাঁচ লাখ ৮১ হাজার টাকার বেশি।
ভুল হলে কালো হয়ে যেতে পারে লিঙ্গ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলার নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যথা, কালশিটে দাগ এবং অসমভাবে ফিলার ছড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংক্রমণ বা রক্তনালির ক্ষতিও হতে পারে।
ম্যানচেস্টারের ইউরোলজিক্যাল সার্জন প্রফেসর বৈভব মোদগিল জানিয়েছেন, ব্যর্থ প্রক্রিয়ার কারণে এমন রোগীও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের লিঙ্গের ত্বক কালো হয়ে মারা যেতে শুরু করেছিল। পরে সেই ত্বক খসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, অনেক পুরুষ হয়তো ভাবেন প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য ভালো ফল আনবে। কিন্তু জটিলতা দেখা দিলে তারা আগের চেয়েও বেশি অসন্তুষ্ট হয়ে যেতে পারেন।
সমাজ ও পর্নোগ্রাফির প্রভাব
অ্যালেক্স নামের আরেক ব্যক্তি লিঙ্গ বড় করার অস্ত্রোপচার করাতে জার্মানিতে গিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর তিনি তীব্র ব্যথা ও শরীরে ব্যাপক কালশিটের সমস্যায় পড়েন। প্রায় এক মাস তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারেননি।
অ্যালেক্সের ভাষ্য, আগে কখনো নিজের লিঙ্গকে ছোট মনে না হলেও সমাজ ও পর্নোগ্রাফির প্রভাবে তার মনে হয়েছিল, বড় লিঙ্গই বেশি পুরুষালি ও আকর্ষণীয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন এবং অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা নানা ধারণা পুরুষদের শরীর নিয়ে অনিরাপত্তাবোধ বাড়াতে পারে।
সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা
ব্রিটিশ ইউরোলজিক্যাল সার্জনদের সংগঠন এ ধরনের প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্ক করেছে। তিন হাজার ৭৫০ জন পুরুষকে নিয়ে করা ৩৬টি গবেষণা পর্যালোচনার পর সংগঠনটি জানিয়েছে, লিঙ্গ বড় করার এসব পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট তথ্য নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই খাতে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ছাড়াই এ ধরনের সেবা দেওয়া সম্ভব।
তাদের আহ্বান, লিঙ্গে ফিলার দেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এতে পুরুষেরা সম্ভাব্য উপকার ও ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আরটিভি/জেএমএ

