
চোখকে বলা হয় মনের আয়না। তবে শুধু মনের ভাবই নয়, শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা নানা সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিতও মিলতে পারে চোখের পরিবর্তনে। চোখের রং, মণির আকার, সাদা অংশে দাগ কিংবা চোখের পাতার অস্বাভাবিকতা কখনো কখনো শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সংকেত দিতে পারে।
তবে চোখে কোনো পরিবর্তন দেখলেই নির্দিষ্ট রোগ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘদিন কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
চোখের মণির পরিবর্তনে কী বোঝা যায়?
আলোর তীব্রতা অনুযায়ী চোখের মণি স্বাভাবিকভাবেই ছোট বা বড় হয়। তবে এই প্রতিক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা কিছু শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
গবেষণায় চোখের মণির প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে। আবার কিছু ওষুধ বা মাদক গ্রহণের কারণেও মণির আকারে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
অস্বাভাবিকভাবে বড় মণি কিছু ধরনের মাদক গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে কিছু মাদক গ্রহণে চোখের মণি অস্বাভাবিকভাবে ছোট হয়ে আসতে পারে।
চোখ লাল হলে অবহেলা নয়
চোখের সাদা অংশ অতিরিক্ত লাল হয়ে গেলে তার পেছনে সংক্রমণ বা প্রদাহের মতো কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় কয়েক দিনের মধ্যেই এ সমস্যা সেরে যায়।
তবে দীর্ঘদিন চোখ লাল থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। গুরুতর সংক্রমণ, প্রদাহ, দৃষ্টিসংক্রান্ত কিছু জটিলতা বা চোখের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণেও এমন হতে পারে।
চোখ হলুদ হলে হতে পারে জন্ডিসের ইঙ্গিত
চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে গেলে তা জন্ডিসের লক্ষণ হতে পারে। যকৃতের কার্যক্রমে সমস্যা, যকৃতে প্রদাহ, হেপাটাইটিস, ভাইরাস কিংবা অন্য কিছু রোগের কারণেও এমন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও চোখ হলুদ হয়ে যেতে পারে।
চোখে হঠাৎ রক্তের দাগ কেন?
চোখের সাদা অংশে হঠাৎ লাল রক্তের দাগ দেখা দিলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চোখের ভেতরের ছোট কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে এমন হতে পারে এবং অনেক সময় কয়েক দিনের মধ্যেই তা সেরে যায়।
তবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এমন দেখা দিতে পারে। বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাদা বা ধূসর বলয় কীসের সংকেত?
চোখের স্বচ্ছ অংশের চারপাশে সাদা বা ধূসর রঙের বলয় দেখা দিতে পারে। এটি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকা কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের চোখে স্বাভাবিকভাবেও এমন বলয় দেখা যায়।
চোখের সাদা অংশে হলুদাভ মাংসল অংশ
চোখের সাদা অংশে ছোট হলুদাভ অংশ দেখা দিলে সেটি এক ধরনের চর্বি ও প্রোটিন জমার কারণে হতে পারে। আবার গোলাপি ধরনের বাড়তি টিস্যুও তৈরি হতে পারে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো গুরুতর নয়। তবে চোখের স্বচ্ছ অংশের দিকে বাড়তে থাকলে দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে এ ধরনের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চোখ হঠাৎ ফুলে উঠলে সতর্ক হোন
কিছু মানুষের চোখ স্বাভাবিকভাবেই একটু উঁচু দেখাতে পারে। তবে হঠাৎ চোখ সামনে বেরিয়ে আসার মতো মনে হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এ ধরনের পরিবর্তন থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আবার একটি চোখ ফুলে গেলে আঘাত, সংক্রমণ বা অন্য জটিল কারণও থাকতে পারে।
চোখের পাতাও দিতে পারে সংকেত
চোখের পাতা ফুলে লাল হয়ে গেলে তা আঞ্জনির লক্ষণ হতে পারে। চোখের তেল সরবরাহকারী গ্রন্থি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণত এমন সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।
চোখের পাতায় কাঁপুনি বা অস্বস্তিকর অনুভূতি হলে মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি বা অতিরিক্ত কফি পানও ভূমিকা রাখতে পারে।
চোখ শরীরের নানা সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে পারলেও শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়। চোখের রং, আকার বা অন্য কোনো পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরটিভি/জেএমএ


