নিয়মিত শরীরচর্চা শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, মনও ভালো রাখে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, পর্যাপ্ত শরীরচর্চা না করার কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এমনকি অকাল মৃত্যুর আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা, নাচ বা দৈনন্দিন যেকোনো ধরনের নড়াচড়াই শরীরচর্চার অংশ। নিয়মিত এসব অভ্যাস শরীর ও মন—দুইয়ের জন্যই উপকারী।
শরীরচর্চার যেসব উপকারিতা রয়েছে
নিয়মিত শরীরচর্চা করলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গও কমতে পারে। ঘুম ভালো হয়, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ে এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে নিয়মিত শরীরচর্চা হাড় ও পেশি শক্তিশালী করে। পাশাপাশি তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গর্ভবতী ও সন্তান জন্মের পর মায়েদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত শরীরচর্চা উপকারী। এতে গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি এবং সন্তান জন্মের পর মানসিক বিষণ্নতার ঝুঁকি কমতে পারে।
অতিরিক্ত বসে থাকাও ক্ষতিকর
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা খুব কম নড়াচড়া করার অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পর্দা দেখার অভ্যাস স্থূলতা, কম ঘুম এবং আচরণগত সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক চিত্র
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৩১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৮০ শতাংশের বেশি কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় পরিমাণ শরীরচর্চা করেন না। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার হার তুলনামূলক বেশি।
সংস্থাটির আশঙ্কা, বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে আগামী বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফলে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
কতটা শরীরচর্চা প্রয়োজন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা করা উচিত। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার অভ্যাস কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সুস্থ জীবনের সহজ উপায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তোলাই যথেষ্ট। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, নিয়মিত হাঁটা, খেলাধুলা বা হালকা ব্যায়াম—এসবই শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। মনে রাখতে হবে, একটু শরীরচর্চাও না করার চেয়ে অনেক ভালো। নিয়মিত নড়াচড়া দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
আরটিভি/জেএমএ



