ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ করবে যে ১০ কথা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ এএম
প্রথম সাক্ষাতে আন্তরিক কিছু কথা ও মনোযোগী আচরণই তৈরি করতে পারে সুন্দর সম্পর্কের শুরু । ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

প্রথমবার কারও সঙ্গে দেখা হলে কী বলবেন, তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। অচেনা মানুষের সঙ্গে কথা শুরু করার মুহূর্তে অস্বস্তি হওয়াটাও স্বাভাবিক। তবে কথোপকথন জমাতে সব সময় বড় বা চমকপ্রদ কিছু বলার প্রয়োজন নেই। বরং ছোট, সহজ ও আন্তরিক কিছু কথাই অপর মানুষকে স্বস্তি দিতে পারে এবং প্রথম সাক্ষাতেই সুন্দর একটি ছাপ তৈরি করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রথম পরিচয়ে ভালো সম্পর্ক তৈরির অন্যতম উপায় হলো অন্য ব্যক্তির কথা মন দিয়ে শোনা, তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করানো। তাই কথার ধরন ও আচরণে আন্তরিকতা থাকলে অল্প সময়ের পরিচয়ও হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়।

‘আপনার দিনটা এখন পর্যন্ত কেমন যাচ্ছে?’

খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন হলেও এর মধ্যে আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ পায়। এতে বোঝানো হয়, শুধু আনুষ্ঠানিক পরিচয় নয়, এই মুহূর্তে মানুষটির সময় কেমন কাটছে, সেটিও জানতে আগ্রহী আপনি। এতে অপর ব্যক্তিও নিজের দিনের ভালো লাগা, ব্যস্ততা কিংবা নানা অভিজ্ঞতার কথা সহজে বলতে পারেন।

আরও পড়ুন

‘এটা বেশ মজার, এটা নিয়ে আরও বলতে পারেন?’

কেউ যখন নিজের কোনো অভিজ্ঞতা বা পছন্দের বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তখন মন দিয়ে শোনা তাকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার অনুভূতি দেয়। এই কথাটি সেই আগ্রহই প্রকাশ করে। এতে কথোপকথন একতরফা না হয়ে আরও স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অপর ব্যক্তিও নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও খোলামেলা কথা বলার সুযোগ পান।

‘আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি’

সহানুভূতি প্রকাশের জন্য এই কথাটি বেশ কার্যকর। কাউকে বিচার না করে তার অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করা হলে তার মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হয়। ফলে অচেনা মানুষটিও নিজের কথা আরও সহজে বলতে পারেন।

‘আপনার উপস্থিতিটা দারুণ’

চেহারা, পোশাক বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রশংসার চেয়ে ব্যক্তির উপস্থিতি ও আচরণ নিয়ে প্রশংসা অনেক বেশি আন্তরিক মনে হতে পারে। এতে বোঝানো হয়, মানুষটির ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতি আপনার ভালো লেগেছে। প্রথম সাক্ষাতে এমন একটি ইতিবাচক মন্তব্য সুন্দর আবহ তৈরি করতে পারে।

‘কাজের বাইরে কী করতে পছন্দ করেন?’

পরিচয়ের শুরুতে সাধারণত নাম, পড়াশোনা বা পেশা নিয়ে কথা হয়। কিন্তু মানুষের ব্যক্তিত্বের আরও অনেকটা প্রকাশ পায় তার শখ ও পছন্দের মধ্যে। অবসরে কী করতে ভালোবাসেন, কী নিয়ে আনন্দ পান—এমন প্রশ্ন কথোপকথনকে আরও ব্যক্তিগত ও স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।

‘এটা আমাকে একটা গল্পের কথা মনে করিয়ে দিল’

শুধু প্রশ্ন করলেই কথোপকথন সব সময় জমে ওঠে না। নিজের জীবনের ছোট কোনো অভিজ্ঞতা যুক্ত করলে আলাপ আরও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। অপর ব্যক্তির কথার সঙ্গে নিজের কোনো গল্পের মিল খুঁজে পেলে দুজনের মধ্যে সহজেই একটি সংযোগ তৈরি হতে পারে।

‘আমি সত্যিই এটা প্রশংসা করি’

অন্যের কোনো কাজ, গুণ বা আচরণ ভালো লাগলে তা প্রকাশ করা উচিত। এই কথাটি অপর ব্যক্তিকে বোঝায় যে তার কোনো একটি বিষয় আপনার নজরে এসেছে এবং আপনি সেটিকে মূল্য দিচ্ছেন। এমন স্বীকৃতি পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

‘এটা শুরু করলেন কীভাবে?’

কোনো কাজ, শখ বা আগ্রহের শুরু কীভাবে হয়েছিল—এমন প্রশ্ন মানুষকে নিজের গল্প বলার সুযোগ দেয়। নিজের পথচলার কথা অন্য কেউ আগ্রহ নিয়ে শুনতে চাইছে, এই অনুভূতিই পরিচয়কে আরও আন্তরিক করে তুলতে পারে।

‘আপনার দৃষ্টিভঙ্গিটা ভালো লেগেছে’

কারও মতামতকে সম্মান করা সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এই কথার মাধ্যমে বোঝানো যায়, শুধু তার কথা শোনা হয়নি, তার চিন্তার ধরনও আপনার ভালো লেগেছে। এতে অপর ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং আরও গভীর আলোচনা করার আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

‘আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে সত্যিই ভালো লাগল’

প্রথম সাক্ষাতের শেষ কথাটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিদায়ের সময় আন্তরিকভাবে এই কথা বললে অপর ব্যক্তির মনে সুন্দর একটি অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এতে বোঝা যায়, পরিচয়টি আপনার কাছে মূল্যবান ছিল এবং মানুষটির সঙ্গে দেখা করে আপনি আনন্দ পেয়েছেন।

প্রথম দেখায় কাউকে মুগ্ধ করার জন্য মুখস্থ করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। বরং কথাগুলো আন্তরিকভাবে বলা এবং অপর ব্যক্তির কথা মন দিয়ে শোনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট একটি প্রশ্ন, মনোযোগ দিয়ে শোনা কিংবা আন্তরিক প্রশংসা—এসবই কখনও কখনও নতুন একটি সম্পর্কের শুরু হতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
‘টাকার লোভ দেখিয়ে’ শিশুকে বাড়ি নিয়ে যান বৃদ্ধ, অতঃপর...
বিয়ের আগে হবু স্বামী-স্ত্রীর ফোনালাপ কি জায়েজ?
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
হাঁস নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর তুমুল মারামারি