
শিশু হাঁটার সময় একদিকে হেলে থাকে, বসার সময় শরীর বেশি ঝুঁকে যায় কিংবা দুই কাঁধ সমান দেখায় না—এমন লক্ষণ দেখা গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ, এগুলো মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যাওয়ার রোগের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে স্কোলিয়োসিস বলা হয়।
শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ে অনেক সময় এই সমস্যা ধীরে ধীরে তৈরি হয়। শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ চোখে পড়ে না। তাই বাবা-মায়ের সচেতন থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।
মেরুদণ্ড বাঁকা হয় কেন?
স্কোলিয়োসিসের সঠিক কারণ সব সময় জানা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। পরিবারে কারও এই সমস্যা থাকলে শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে এটি জন্মগত হতে পারে। গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুর মেরুদণ্ডের হাড় ঠিকভাবে তৈরি না হলে জন্মের পর থেকেই হাড় বাঁকা হয়ে বাড়তে পারে।
আবার ১০ বছর বয়সের পরও কিছু শিশুর মধ্যে স্কোলিয়োসিস দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে শিশুর হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে মেরুদণ্ডের গঠন বদলে যেতে পারে।
স্নায়ু ও পেশির কিছু সমস্যায়ও স্কোলিয়োসিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেমন, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কিছু জটিলতা কিংবা পেশির ক্ষয়জনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের গঠনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা হাড়ে টিউমার থাকলেও এই সমস্যা হতে পারে।
যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন
স্কোলিয়োসিসের শুরুতে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে শিশুকে হাঁটতে ও বসতে দেখার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা যায়।
শিশুর ক্ষেত্রে—
এসব লক্ষণের এক বা একাধিক দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দেরি হলে বাড়তে পারে সমস্যা
স্কোলিয়োসিসের চিকিৎসা সময়মতো না হলে মেরুদণ্ডের বাঁক ধীরে ধীরে আরও বেড়ে যেতে পারে। গুরুতর অবস্থায় পাঁজরের হাড়ের গঠনেও পরিবর্তন আসতে পারে। এতে ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে হৃদ্যন্ত্রের ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই শিশুর মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কীভাবে পরীক্ষা ও চিকিৎসা হয়?
শিশুর মেরুদণ্ডে বক্রতা আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে সাধারণত এক্স-রে করা হয়। সমস্যা কতটা গুরুতর, তা দেখে চিকিৎসক চিকিৎসার পদ্ধতি ঠিক করেন।
বক্রতা কম হলে অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে বিশেষ ধরনের বেল্ট পরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও শিশুর অবস্থার পরিবর্তন দেখা হয়।
তবে মেরুদণ্ডের বক্রতা বেশি হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
শিশুর হাঁটা, বসা ও দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে তাই অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। সময়মতো সমস্যা শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়।
আরটিভি/জেএমএ

