ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সর্দি-কাশি থেকে ডেঙ্গু, বর্ষায় শিশুকে যেভাবে রাখবেন সুরক্ষিত 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বর্ষায় সর্দি-কাশি, পেটের সংক্রমণ ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ছবি : সংগৃহীত

বর্ষা এলেই শিশুদের নিয়ে বাড়ে দুশ্চিন্তা। কখনও সর্দি-কাশি, কখনও জ্বর, আবার কখনও দেখা দেয় পেটের নানা সমস্যা। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল থাকায় বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। এর মধ্যে সর্দি-কাশি, পেটের সংক্রমণ, টাইফয়েড থেকে শুরু করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগও দেখা দিতে পারে।

তাই বর্ষায় শিশুকে সুস্থ রাখতে শুধু বৃষ্টিতে ভেজা এড়ানোই যথেষ্ট নয়। খাবার, পানি, পরিচ্ছন্নতা এবং মশার উপদ্রব নিয়েও বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।

সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ

বর্ষায় শিশুদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সর্দি-কাশি ও জ্বরের সমস্যা। বৃষ্টিতে না ভিজলেও এই সময়ে শিশুরা জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। কারণ, ঋতু পরিবর্তনের সময় কিছু জীবাণু বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে সহজেই বিভিন্ন ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাড়ির কারও সর্দি-কাশি থাকলে শিশুর কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজন হলে মুখে আবরণ ব্যবহার করাও যেতে পারে।

আরও পড়ুন

দূষিত পানিতে পেটের সংক্রমণ

বর্ষায় শিশুদের মধ্যে পেটের সংক্রমণের সমস্যাও বাড়তে পারে। দূষিত পানি পান করলে হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, জন্ডিস ও পেট খারাপের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই শিশুকে সবসময় নিরাপদ পানি পান করানো জরুরি। পেটের সমস্যা থাকলে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খাওয়ানো ভালো। পাশাপাশি বর্ষায় বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলাও জরুরি।

মশার কামড়ে বাড়ে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি

বর্ষায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই শিশুকে মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে ঘরের পাশাপাশি বাড়ির আশপাশও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।

শিশুকে মশারির মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস করাতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ির কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

শিশুকে সুস্থ রাখতে যা করবেন

বর্ষায় শিশুর যত্নে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি—

১. বাইরে থেকে ফিরে হাত-পা ভালোভাবে ধোয়ার অভ্যাস করান।
২. খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুতে শেখান।
৩. নিরাপদ ও পরিষ্কার পানি পান করান।
৪. বর্ষায় বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৫. বাড়ির কারও সর্দি-কাশি হলে শিশুকে দূরে রাখুন।
৬. ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করুন।
৭. বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

শিশুর জ্বর তিন থেকে চার দিন পরেও না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো জীবাণুনাশক ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়।

পেট খারাপের সঙ্গে শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এ ধরনের উপসর্গের পেছনে হেপাটাইটিস, টাইফয়েড বা জন্ডিসের মতো সমস্যাও থাকতে পারে।

বর্ষায় শিশুর অসুস্থতা পুরোপুরি ঠেকানো সবসময় সম্ভব নয়। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাবার ও পানি, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ—এই কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে অনেকটাই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে ৩ মাসের বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়ালো
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভাকে ডেঙ্গুর ‘রেড জোন’ ঘোষণার দাবি 
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একদিনে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩১