ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

গর্ভাবস্থায় পা ফুলছে? যে লক্ষণে সতর্ক হবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
গর্ভাবস্থায় পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া সাধারণ হলেও হঠাৎ অতিরিক্ত ফোলাভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি । ছবি: সংগৃহীত

গর্ভাবস্থায় পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে, দিনের শেষ দিকে কিংবা অতিরিক্ত গরমে এই ফোলাভাব বেশি দেখা দিতে পারে। সাধারণত শরীরে অতিরিক্ত তরল তৈরি হওয়া এবং বড় হয়ে ওঠা জরায়ুর চাপে পায়ের রক্ত চলাচল ধীর হয়ে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়।

তবে সব ধরনের ফোলাভাবকে স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে পা, হাত বা মুখ হঠাৎ বেশি ফুলে যাওয়া জটিল সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই কোন ফোলাভাব স্বাভাবিক আর কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, তা জানা জরুরি।

গর্ভাবস্থায় পা ফোলে কেন?

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত তরল তৈরি হয়। একই সঙ্গে বাড়তে থাকা জরায়ু পায়ের দিকের রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে পা থেকে রক্ত ওপরে ওঠার গতি কিছুটা কমে যায় এবং গোড়ালি ও পায়ের পাতার আশপাশে তরল জমে ফোলাভাব দেখা দেয়।

কখন সতর্ক হবেন?

পা ও গোড়ালি ধীরে ধীরে ফুললে সাধারণত খুব বেশি চিন্তার কারণ থাকে না। কিন্তু হঠাৎ করে মুখ, হাত বা চোখের চারপাশ অতিরিক্ত ফুলে গেলে সতর্ক হতে হবে। এটি গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপজনিত একটি জটিলতা, প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

আরও পড়ুন

এছাড়া একটি পা অন্য পায়ের তুলনায় বেশি ফুলে গেলে সেটিও অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিবর্তন রক্তনালিতে বাধা তৈরির ইঙ্গিত হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ফোলাভাব কমাতে যা করতে পারেন

গর্ভাবস্থায় পা ও গোড়ালির ফোলাভাব কিছুটা কমাতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না: একটানা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।

পা কিছুটা উঁচুতে রাখুন: বসার সময় পায়ের নিচে বালিশ বা টুল দিয়ে পা সামান্য উঁচুতে রাখতে পারেন। পা ক্রস করে বসা এড়িয়ে চলুন।

বাঁ দিকে ফিরে শুতে পারেন: বিশ্রাম বা ঘুমের সময় বাঁ দিকে ফিরে শুলে কিডনি ও বড় রক্তনালির ওপর চাপ কমতে পারে এবং রক্ত চলাচল ভালো হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পানি কম খেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং টিস্যুতে আরও তরল জমতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

সহায়ক মোজা ব্যবহার করা যেতে পারে: সকালে বিছানা থেকে ওঠার আগেই কোমর পর্যন্ত লম্বা সহায়ক মোজা পরা যেতে পারে।

হালকা হাঁটাচলা করুন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম, হাঁটাচলা বা সাঁতার কাটতে পারেন।

অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলুন: গরম ও আর্দ্র পরিবেশে ফোলাভাব বেশি স্পষ্ট হতে পারে। তাই সম্ভব হলে ঠান্ডা ও আরামদায়ক পরিবেশে থাকুন।

বেশি পানি খেলে কি পা আরও ফুলবে?

এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। পর্যাপ্ত পানি পান করলে বরং শরীরের অতিরিক্ত পানি ধরে রাখার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি সোডিয়াম ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দিতেও পানি সহায়তা করে। তাই পা ফুলছে বলে পানি খাওয়া কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

ফোলাভাব দেখলেই আতঙ্ক নয়, তবে অবহেলাও নয়

গর্ভাবস্থায় পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। কিন্তু ফোলাভাব যদি হঠাৎ বেড়ে যায়, মুখ, হাত বা চোখের চারপাশেও অতিরিক্ত ফোলা দেখা দেয়, অথবা একটি পা অন্যটির তুলনায় বেশি ফুলে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

তাই স্বাভাবিক ফোলাভাব নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে, অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে খাওয়া কি নিরাপদ?
গর্ভাবস্থায় কী খাবেন, কী এড়াবেন