ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

চিনির বদলে চায়ে গুড়-মধু, ভুল করছেন না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
চিনির বদলে চায়ে গুড় বা মধু ব্যবহার করলেই তা স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না; পরিমাণের দিকেও নজর রাখা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

চায়ে চিনি খাওয়া ভালো নয়—এ কথা এখন অনেকেই জানেন। তাই চিনি বাদ দিয়ে গুড় বা মধু মিশিয়ে চা খাওয়ার অভ্যাস করছেন অনেকে। তাদের ধারণা, চিনি পরিশোধিত হওয়ায় ক্ষতিকর, কিন্তু গুড় ও মধু প্রাকৃতিক এবং এতে কিছু খনিজ উপাদান থাকায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

তবে চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। চিনি, গুড় কিংবা মধু—তিনটিই শরীরে গিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই চিনির বদলে গুড় বা মধু ব্যবহার করলেই যে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই।

চিনি, গুড়, মধু—পার্থক্য কতটা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনি, গুড় ও মধু—তিনটিই শরীরে প্রায় একই ধরনের প্রভাব ফেলে। তিনটিতেই শর্করা ও ক্যালোরি রয়েছে এবং এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে।

অর্থাৎ চায়ের মধ্যে চিনি বাদ দিয়ে গুড় বা মধু দিলেই সেটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হয়ে যায় না। অতিরিক্ত পরিমাণে যেকোনো মিষ্টিজাতীয় উপাদান খাওয়াই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আরও পড়ুন

দিনে কতটা মিষ্টি খাবেন?

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন কতটা বাড়তি চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, দৈনিক মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম চিনি থেকে আসা উচিত।

সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে দিনে ৭ থেকে ৮ চা চামচ পর্যন্ত চিনি গ্রহণকে সীমার মধ্যে ধরা হলেও, দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি মিষ্টি কমিয়ে রাখাই ভালো। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব, জন্মদিন কিংবা অফিসের অনুষ্ঠানে হঠাৎ বেশি মিষ্টি খাওয়া হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত চিনি বা মিষ্টিজাতীয় উপাদান গ্রহণের ক্ষেত্রে দিনে ৩ থেকে ৪ চা চামচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নিরাপদ বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গুড়ে থাকা আয়রন কি শরীরের জন্য যথেষ্ট?

সাদা চিনির তুলনায় গুড়ে সামান্য আয়রন ও অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে—এই কারণে অনেকেই গুড়কে বেশি উপকারী মনে করেন। কিন্তু গুড়ে থাকা আয়রনের পরিমাণ এতটাই কম যে, তা শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের চাহিদা পূরণ করার মতো যথেষ্ট নয়।

শুধু আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য বেশি করে গুড় খাওয়া তাই ঠিক নয়। এতে প্রয়োজনীয় আয়রন পাওয়ার আগেই শরীরে অতিরিক্ত শর্করা ও ক্যালোরি জমতে পারে।

আয়রনের ঘাটতি থাকলে গুড়ের ওপর নির্ভর না করে আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

চায়ে গুড় বা মধু মানেই স্বাস্থ্যকর নয়

চিনি বাদ দিয়ে গুড় বা মধু খাওয়ার অভ্যাসকে একেবারে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তিনটিই বাড়তি মিষ্টিজাতীয় উপাদান হিসেবে শরীরে শর্করা ও ক্যালোরি যোগ করে।

তাই চা মিষ্টি করে খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু চিনির বদলে কী ব্যবহার করছেন, সেটিই নয়—কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টি কম খাওয়ার অভ্যাসই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য বেশি কার্যকর।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
আরও পড়ুন
কচুয়ায় অবসরপ্রাপ্ত ও মরণোত্তর ৮৪ শিক্ষক-কর্মচারীকে সম্মাননা প্রদান
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
জাবি অধ্যাপকের কাছে চাঁদা দাবি, সন্তানকে অপহরণের হুমকি
প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বাবা-মা, হতাশায় কূপে ঝাঁপ তরুণের