
চায়ে চিনি খাওয়া ভালো নয়—এ কথা এখন অনেকেই জানেন। তাই চিনি বাদ দিয়ে গুড় বা মধু মিশিয়ে চা খাওয়ার অভ্যাস করছেন অনেকে। তাদের ধারণা, চিনি পরিশোধিত হওয়ায় ক্ষতিকর, কিন্তু গুড় ও মধু প্রাকৃতিক এবং এতে কিছু খনিজ উপাদান থাকায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
তবে চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। চিনি, গুড় কিংবা মধু—তিনটিই শরীরে গিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই চিনির বদলে গুড় বা মধু ব্যবহার করলেই যে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই।
চিনি, গুড়, মধু—পার্থক্য কতটা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনি, গুড় ও মধু—তিনটিই শরীরে প্রায় একই ধরনের প্রভাব ফেলে। তিনটিতেই শর্করা ও ক্যালোরি রয়েছে এবং এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে।
অর্থাৎ চায়ের মধ্যে চিনি বাদ দিয়ে গুড় বা মধু দিলেই সেটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হয়ে যায় না। অতিরিক্ত পরিমাণে যেকোনো মিষ্টিজাতীয় উপাদান খাওয়াই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
দিনে কতটা মিষ্টি খাবেন?
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন কতটা বাড়তি চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, দৈনিক মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের কম চিনি থেকে আসা উচিত।
সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে দিনে ৭ থেকে ৮ চা চামচ পর্যন্ত চিনি গ্রহণকে সীমার মধ্যে ধরা হলেও, দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি মিষ্টি কমিয়ে রাখাই ভালো। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব, জন্মদিন কিংবা অফিসের অনুষ্ঠানে হঠাৎ বেশি মিষ্টি খাওয়া হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত চিনি বা মিষ্টিজাতীয় উপাদান গ্রহণের ক্ষেত্রে দিনে ৩ থেকে ৪ চা চামচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নিরাপদ বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গুড়ে থাকা আয়রন কি শরীরের জন্য যথেষ্ট?
সাদা চিনির তুলনায় গুড়ে সামান্য আয়রন ও অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে—এই কারণে অনেকেই গুড়কে বেশি উপকারী মনে করেন। কিন্তু গুড়ে থাকা আয়রনের পরিমাণ এতটাই কম যে, তা শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের চাহিদা পূরণ করার মতো যথেষ্ট নয়।
শুধু আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য বেশি করে গুড় খাওয়া তাই ঠিক নয়। এতে প্রয়োজনীয় আয়রন পাওয়ার আগেই শরীরে অতিরিক্ত শর্করা ও ক্যালোরি জমতে পারে।
আয়রনের ঘাটতি থাকলে গুড়ের ওপর নির্ভর না করে আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত।
চায়ে গুড় বা মধু মানেই স্বাস্থ্যকর নয়
চিনি বাদ দিয়ে গুড় বা মধু খাওয়ার অভ্যাসকে একেবারে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তিনটিই বাড়তি মিষ্টিজাতীয় উপাদান হিসেবে শরীরে শর্করা ও ক্যালোরি যোগ করে।
তাই চা মিষ্টি করে খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু চিনির বদলে কী ব্যবহার করছেন, সেটিই নয়—কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টি কম খাওয়ার অভ্যাসই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য বেশি কার্যকর।
আরটিভি/জেএমএ


