ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সর্দি-কাশি না নিউমোনিয়া, বুঝবেন যে লক্ষণে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
জ্বর, কাশি ও সর্দির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা গভীর শ্বাসে বুকে ব্যথা হলে নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

ঋতু বদলের সময় সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হন অনেকেই। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ বাড়ায় সাধারণ সর্দি-কাশি, ভাইরাসজনিত জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা নিউমোনিয়ার মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা ও কাশি থাকলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, ঠিক কী ধরনের সংক্রমণ হয়েছে।

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণ। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণে এটি হতে পারে। এছাড়া ছত্রাকের কারণেও কখনও নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি নামের ব্যাকটেরিয়াও নিউমোনিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

জ্বর-কাশির সঙ্গে যে লক্ষণগুলো দেখবেন

নিউমোনিয়ার শুরুতে সাধারণ জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব উপসর্গের তীব্রতা বাড়তে থাকে।

জ্বর কমতে না চাওয়া এবং কাশি ক্রমশ বেড়ে যাওয়া নিউমোনিয়ার অন্যতম লক্ষণ। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে। সংক্রমণ যত বাড়ে, শ্বাসকষ্টও তত বাড়তে পারে।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে বুকে ব্যথাও হতে পারে। তবে এই ব্যথার একটি বিশেষ ধরন রয়েছে। সাধারণত গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা অনুভূত হয়। ফুসফুসে প্রদাহ তৈরি হওয়ার কারণেই এমন ব্যথা হতে পারে।

এর পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া, খাবারের প্রতি অনীহা এবং সারাক্ষণ বমি বমি ভাবও দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন

সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

নিউমোনিয়ার প্রথম দিকে সাধারণ সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতোই উপসর্গ দেখা যায়। এ কারণেই শুরুতে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

তবে কয়েক দিন পর যদি জ্বর না কমে, কাশি বাড়তে থাকে, শ্বাসকষ্ট শুরু হয় কিংবা বুকে ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাধারণ সর্দি-কাশিতে চিকিৎসা নেওয়ার পর তুলনামূলক দ্রুত উপসর্গ কমতে শুরু করতে পারে। নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে সবসময় এমনটা হয় না।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

এছাড়া ডায়াবেটিস, বাতের রোগ, কিডনির রোগ কিংবা এইচআইভি সংক্রমণ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের নিউমোনিয়া হলে জটিলতার আশঙ্কাও বেশি থাকতে পারে।

নিশ্চিত হতে কী পরীক্ষা করা হয়?

শুধু উপসর্গ দেখে নিউমোনিয়া নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে বুকের ছবি তোলার পরীক্ষা বা শরীরের ভেতরের বিস্তারিত ছবি দেখার পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে কোন রোগীর জন্য কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, তা রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই জ্বর-কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা উপসর্গ ক্রমশ বেড়ে গেলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
সর্দি-কাশি থেকে ডেঙ্গু, বর্ষায় শিশুকে যেভাবে রাখবেন সুরক্ষিত 
সর্দি-কাশিতে শিশুকে মধু খাওয়ান? আগে জানুন এই বিপদ
সর্দি-কাশির ঘরোয়া উপশমে কালোজিরার ভূমিকা
সর্দি-কাশি হোক বা পেট খারাপ, বর্ষায় সুস্থ থাকতে পাতে রাখুন ৭ সবজি