
ওজন কমাতে অনেকেই খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন। কেউ আবার সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন পরামর্শ দেখে শুরু করেন কঠোর খাদ্যাভ্যাস। কিন্তু সবার শরীর এক নয়। তাই অন্যের জন্য কার্যকর কোনো পদ্ধতি নিজের শরীরে একইভাবে কাজ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ভুলভাবে খাবার কমিয়ে দিলে শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু কতটা খাচ্ছেন, সেটিই নয়; কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া কেমন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করে। বিপাকহার ভালো থাকলে শরীর তুলনামূলক দ্রুত শক্তি ব্যবহার করতে পারে। তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বিপাকহার ঠিক রাখাও জরুরি।
পাতে রাখুন বেশি প্রোটিন
ওজন কমাতে গিয়ে একেবারে কম খাওয়ার বদলে খাবারের মানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা যেতে পারে।
প্রোটিন হজম করতে শরীর তুলনামূলক বেশি শক্তি বা ক্যালোরি ব্যবহার করে। ফলে খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরে পানির ঘাটতি থাকলেও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি।
বিশেষ করে ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত পানি পান শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম ঠিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।
শরীরচর্চার পাশাপাশি নড়াচড়া বাড়ান
নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে উচ্চমাত্রার বিরতিভিত্তিক শরীরচর্চা করা যেতে পারে। এ ধরনের শরীরচর্চায় শরীরের বেশি শক্তি প্রয়োজন হয়, ফলে বেশি ক্যালোরি খরচ হতে পারে এবং বিপাকহার বাড়তে পারে।
তবে শুধু নির্দিষ্ট সময় শরীরচর্চা করলেই হবে না। দিনের বড় একটা সময় এক জায়গায় বসে থাকলেও শরীরের শক্তি খরচ কমে যায়। তাই দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে হলে প্রতি ঘণ্টায় কিছুক্ষণ উঠে হাঁটাচলা করা ভালো।
ঘুমের দিকে নজর দিন
ওজন কমানোর চেষ্টায় খাবার ও শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ঘুমের সমস্যা হলে শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে স্থূলতা ও ডায়াবিটিসের মতো সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।
মানসিক চাপ কমান
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় বেশি চাপের মধ্যে থাকলে কর্টিসল ও বিটাট্রফিন নামের হরমোনের নিঃসরণে পরিবর্তন হতে পারে, যা বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে দিতে পারে।
তাই ওজন কমানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করাও জরুরি। নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
শুধু কম খাওয়াই সমাধান নয়
ওজন কমাতে গিয়ে না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ কঠোর খাদ্যাভ্যাস শুরু করা সবসময় ভালো ফল দেয় না। বরং সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত জল, নিয়মিত শরীরচর্চা, ভালো ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এই কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ওজন কমাতে চাইলে শুধু খাবারের পরিমাণ কমানোর দিকে নয়, শরীরের বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আরটিভি/জেএমএ


