ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

খাওয়া কমিয়েও ওজন কমছে না? মেনে চলুন ৫ সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ এএম
ওজন কমাতে শুধু খাবার কমানো নয়, বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সঠিক খাবার, শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি । ছবি: সংগৃহীত

ওজন কমাতে অনেকেই খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন। কেউ আবার সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন পরামর্শ দেখে শুরু করেন কঠোর খাদ্যাভ্যাস। কিন্তু সবার শরীর এক নয়। তাই অন্যের জন্য কার্যকর কোনো পদ্ধতি নিজের শরীরে একইভাবে কাজ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ভুলভাবে খাবার কমিয়ে দিলে শরীরের ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু কতটা খাচ্ছেন, সেটিই নয়; কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া কেমন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করে। বিপাকহার ভালো থাকলে শরীর তুলনামূলক দ্রুত শক্তি ব্যবহার করতে পারে। তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বিপাকহার ঠিক রাখাও জরুরি।

পাতে রাখুন বেশি প্রোটিন

ওজন কমাতে গিয়ে একেবারে কম খাওয়ার বদলে খাবারের মানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা যেতে পারে।

প্রোটিন হজম করতে শরীর তুলনামূলক বেশি শক্তি বা ক্যালোরি ব্যবহার করে। ফলে খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীরে পানির ঘাটতি থাকলেও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি।

বিশেষ করে ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত পানি পান শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম ঠিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন

শরীরচর্চার পাশাপাশি নড়াচড়া বাড়ান

নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে উচ্চমাত্রার বিরতিভিত্তিক শরীরচর্চা করা যেতে পারে। এ ধরনের শরীরচর্চায় শরীরের বেশি শক্তি প্রয়োজন হয়, ফলে বেশি ক্যালোরি খরচ হতে পারে এবং বিপাকহার বাড়তে পারে।

তবে শুধু নির্দিষ্ট সময় শরীরচর্চা করলেই হবে না। দিনের বড় একটা সময় এক জায়গায় বসে থাকলেও শরীরের শক্তি খরচ কমে যায়। তাই দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে হলে প্রতি ঘণ্টায় কিছুক্ষণ উঠে হাঁটাচলা করা ভালো।

ঘুমের দিকে নজর দিন

ওজন কমানোর চেষ্টায় খাবার ও শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ঘুমের সমস্যা হলে শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে স্থূলতা ও ডায়াবিটিসের মতো সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।

মানসিক চাপ কমান

অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় বেশি চাপের মধ্যে থাকলে কর্টিসল ও বিটাট্রফিন নামের হরমোনের নিঃসরণে পরিবর্তন হতে পারে, যা বিপাকক্রিয়ার গতি কমিয়ে দিতে পারে।

তাই ওজন কমানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করাও জরুরি। নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

শুধু কম খাওয়াই সমাধান নয়

ওজন কমাতে গিয়ে না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ কঠোর খাদ্যাভ্যাস শুরু করা সবসময় ভালো ফল দেয় না। বরং সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত জল, নিয়মিত শরীরচর্চা, ভালো ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এই কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই ওজন কমাতে চাইলে শুধু খাবারের পরিমাণ কমানোর দিকে নয়, শরীরের বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
আজ পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন
ছাগলে পাতা খাওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা
মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা, কিশোর গ্যাং সদস্য আটক
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো খাওয়ার সময় স্বামীকে হাতেনাতে ধরলেন বউ, অতঃপর...