ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কোলাজেন মাস্কে কি সত্যিই বয়স থামে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের যত্নে নতুন নতুন প্রসাধনী যোগ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নাইট ক্রিম ও স্লিপিং মাস্কের পর এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কোলাজেন মাস্ক। প্রচার করা হচ্ছে, এটি ত্বককে মসৃণ, নরম ও টানটান রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোলাজেন মাস্ক কি সত্যিই ত্বকের বয়স ধরে রাখতে পারে? আর ত্বকে কমে যাওয়া কোলাজেন কি এই মাস্ক ব্যবহারে ফিরে আসে?

হারানো কোলাজেন কি ফিরবে?

কোলাজেন এক ধরনের প্রোটিন, যা ত্বককে টানটান ও মসৃণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা ও সূক্ষ্মরেখা দেখা দিতে পারে।

তবে চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের উপর কোলাজেন মাস্ক ব্যবহার করলেই হারিয়ে যাওয়া কোলাজেন ফিরে আসে না। কারণ, অধিকাংশ কোলাজেন মাস্কে থাকা কোলাজেনের অণু আকারে বড়। ফলে তা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। ত্বকের উপরিভাগে ব্যবহৃত কোলাজেন ত্বকের স্বাভাবিক আবরণ ভেদ করে ভেতরে গিয়ে হারানো কোলাজেন পূরণ করতে পারে না।

আরও পড়ুন

তা হলে কোলাজেন মাস্কের কাজ কী?

কোলাজেন মাস্ক একেবারে কাজ করে না, এমনও নয়। এটি মূলত ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ব্যবহারের পর ত্বক কিছুটা নরম, সতেজ ও মসৃণ দেখাতে পারে।

এছাড়া ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে সূক্ষ্মরেখা ও বলিরেখা বেশি স্পষ্ট দেখা যায়। কোলাজেন মাস্ক ত্বকে আর্দ্রতা জোগালে এসব রেখা সাময়িকভাবে কম দৃশ্যমান হতে পারে। তবে এই ফল দীর্ঘস্থায়ী নয়।

কোন ত্বকে ব্যবহার করা যায়?

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক বা পানিশূন্য হয়ে যায়, তারা কোলাজেন মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক সাময়িকভাবে আর্দ্র ও সতেজ থাকতে পারে।

তবে তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কিছু ধরনের কোলাজেন মাস্ক ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। এতে ব্রণ বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বয়স কি সত্যিই থামানো যায়?

কোলাজেন মাস্ককে বয়স ধরে রাখার উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। সময়ের সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা পড়বে, ত্বকের টানটান ভাবও কিছুটা কমবে।

তবে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও পানিশূন্য হয়ে পড়লে বয়সের ছাপ তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও বেশি স্পষ্ট দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোলাজেন মাস্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে সাময়িকভাবে ত্বককে সতেজ ও মসৃণ দেখাতে সাহায্য করতে পারে।

ব্যবহারের আগে যা জানা জরুরি

কোলাজেন মাস্ক ত্বকের হারানো কোলাজেন ফিরিয়ে আনে না। এর প্রধান উপকার হলো ত্বকে আর্দ্রতা যোগানো, ত্বককে নরম রাখা এবং সাময়িকভাবে সূক্ষ্মরেখা কম দৃশ্যমান করা।

তাই ত্বকের ধরন বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে কোনো মাস্ক ব্যবহারের আগে এর উপাদান সম্পর্কে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

এক নজরে

  • কোলাজেন মাস্ক হারানো কোলাজেন ফিরিয়ে আনতে পারে না।
  • এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ব্যবহারের পর ত্বক সাময়িকভাবে নরম ও সতেজ দেখাতে পারে।
  • সূক্ষ্মরেখা ও বলিরেখা কিছুটা কম দৃশ্যমান হতে পারে।
  • খুব শুষ্ক ত্বকে এটি উপকারী হতে পারে।
  • তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
  • কোলাজেন মাস্ককে বয়স থামানোর উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, মাস্কের তীব্র বিদ্রুপ
সন্তান লাভে শুক্রাণু দান করা সেই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন ইলন মাস্ক
চুল পাকার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন ইঙ্গিত
অসুস্থ হয়েও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের