
বাড়ি কেনা, নতুন গাড়ি কেনা কিংবা পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার মতো বড় স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কিন্তু প্রতিদিনের নানা খরচের চাপে সেই স্বপ্নের জন্য টাকা জমানো কঠিন হয়ে পড়ে। কখনও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ, আবার কখনও হঠাৎ কোনো ব্যয় সঞ্চয়ের পরিকল্পনায় বাধা তৈরি করে।
তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব। অর্থ সঞ্চয়ের লক্ষ্য ঠিক রাখতে যে পাঁচটি বিষয় মেনে চলতে পারেন—
১. নিজের লক্ষ্য চোখের সামনে রাখুন
কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে টাকা জমালে সেই লক্ষ্যটি বারবার মনে করিয়ে দেওয়া কাজে আসে। আপনি যে কারণে টাকা জমাচ্ছেন, সেটি চোখের সামনে রাখুন। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ করার প্রবণতা কমবে এবং সঞ্চয়ের প্রতি মনোযোগ বাড়বে।
চাইলে নিজের লক্ষ্যের ছবি বা অন্য কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন এমন জায়গায় রাখতে পারেন, যেখানে নিয়মিত চোখে পড়ে। এই ধরনের মনে করিয়ে দেওয়া বিষয় সঞ্চয়ের পরিকল্পনায় স্থির থাকতে সাহায্য করবে।
২. অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলুন
পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যায়। তাই কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
বিশেষ করে যেসব খরচ নিয়মিত হয়, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সঞ্চয়ের সুযোগ সবচেয়ে বেশি তৈরি হয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সেই টাকা সঞ্চয়ে রাখা যেতে পারে।
৩. পছন্দের পণ্যের প্রতি অতিরিক্ত টান কমান
কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য পছন্দ বলে বারবার সেখান থেকেই কেনাকাটা করার অভ্যাস থাকলে সতর্ক হওয়া দরকার। একই পণ্যের অন্য কোথাও কম দাম পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা আগে দেখে নিন।
শুধু পছন্দের কারণে বেশি দাম দিয়ে পণ্য কেনা ঠিক নয়। কেনাকাটার আগে বিভিন্ন জায়গার দাম ও সুবিধা তুলনা করলে একই জিনিস কম খরচে কেনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
৪. ঋণ ও কার্ডের বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করুন
ঋণ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া সময়মতো এবং সম্ভব হলে পুরোপুরি পরিশোধ করা জরুরি। এতে অতিরিক্ত সুদ ও দেরিতে পরিশোধের খরচ এড়ানো যায়।
কখন টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা মনে রাখার জন্য আগে থেকেই তালিকা তৈরি করতে পারেন। শুধু সর্বনিম্ন পরিমাণ পরিশোধ না করে সুযোগ থাকলে তার চেয়ে বেশি টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করুন। এতে দীর্ঘমেয়াদে সুদের বোঝা কমে।
এ ছাড়া প্রয়োজন না হলে নতুন ঋণ নেওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। নিজের আয় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খরচের পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. সঞ্চয়ের জন্য পরিকল্পনা করুন
শুধু টাকা জমালেই হবে না, সঞ্চয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও থাকা দরকার। এমন সঞ্চয় ব্যবস্থা বেছে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে সহজে টাকা তুলে খরচ করার সুযোগ কম থাকে। এতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য টাকা জমিয়ে রাখা সহজ হয়।
ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা রাখার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য জীবনবিমার মতো ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা যায়। বর্তমানে কিছু জীবনবিমা পরিকল্পনায় সঞ্চয়ের সুবিধার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও থাকে।
তবে কোনো আর্থিক পরিকল্পনা নেওয়ার আগে নিজের আয়, প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাসই ধীরে ধীরে বড় আর্থিক লক্ষ্য পূরণের পথ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: মেট লাইফ
আরটিভি/জেএমএ


