ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

টাকা জমাতে পারছেন না? এই ৫ কৌশলেই বাড়বে সঞ্চয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে পরিকল্পনা করে সঞ্চয় করলে ধীরে ধীরে পূরণ হতে পারে বড় আর্থিক লক্ষ্য। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি কেনা, নতুন গাড়ি কেনা কিংবা পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার মতো বড় স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কিন্তু প্রতিদিনের নানা খরচের চাপে সেই স্বপ্নের জন্য টাকা জমানো কঠিন হয়ে পড়ে। কখনও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ, আবার কখনও হঠাৎ কোনো ব্যয় সঞ্চয়ের পরিকল্পনায় বাধা তৈরি করে।

তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব। অর্থ সঞ্চয়ের লক্ষ্য ঠিক রাখতে যে পাঁচটি বিষয় মেনে চলতে পারেন—

১. নিজের লক্ষ্য চোখের সামনে রাখুন

কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে টাকা জমালে সেই লক্ষ্যটি বারবার মনে করিয়ে দেওয়া কাজে আসে। আপনি যে কারণে টাকা জমাচ্ছেন, সেটি চোখের সামনে রাখুন। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ করার প্রবণতা কমবে এবং সঞ্চয়ের প্রতি মনোযোগ বাড়বে।

চাইলে নিজের লক্ষ্যের ছবি বা অন্য কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন এমন জায়গায় রাখতে পারেন, যেখানে নিয়মিত চোখে পড়ে। এই ধরনের মনে করিয়ে দেওয়া বিষয় সঞ্চয়ের পরিকল্পনায় স্থির থাকতে সাহায্য করবে।

২. অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলুন

পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যায়। তাই কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

বিশেষ করে যেসব খরচ নিয়মিত হয়, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সঞ্চয়ের সুযোগ সবচেয়ে বেশি তৈরি হয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সেই টাকা সঞ্চয়ে রাখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

৩. পছন্দের পণ্যের প্রতি অতিরিক্ত টান কমান

কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য পছন্দ বলে বারবার সেখান থেকেই কেনাকাটা করার অভ্যাস থাকলে সতর্ক হওয়া দরকার। একই পণ্যের অন্য কোথাও কম দাম পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা আগে দেখে নিন।

শুধু পছন্দের কারণে বেশি দাম দিয়ে পণ্য কেনা ঠিক নয়। কেনাকাটার আগে বিভিন্ন জায়গার দাম ও সুবিধা তুলনা করলে একই জিনিস কম খরচে কেনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

৪. ঋণ ও কার্ডের বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করুন

ঋণ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া সময়মতো এবং সম্ভব হলে পুরোপুরি পরিশোধ করা জরুরি। এতে অতিরিক্ত সুদ ও দেরিতে পরিশোধের খরচ এড়ানো যায়।

কখন টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা মনে রাখার জন্য আগে থেকেই তালিকা তৈরি করতে পারেন। শুধু সর্বনিম্ন পরিমাণ পরিশোধ না করে সুযোগ থাকলে তার চেয়ে বেশি টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করুন। এতে দীর্ঘমেয়াদে সুদের বোঝা কমে।

এ ছাড়া প্রয়োজন না হলে নতুন ঋণ নেওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। নিজের আয় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খরচের পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. সঞ্চয়ের জন্য পরিকল্পনা করুন

শুধু টাকা জমালেই হবে না, সঞ্চয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও থাকা দরকার। এমন সঞ্চয় ব্যবস্থা বেছে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে সহজে টাকা তুলে খরচ করার সুযোগ কম থাকে। এতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য টাকা জমিয়ে রাখা সহজ হয়।

ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা রাখার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য জীবনবিমার মতো ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা যায়। বর্তমানে কিছু জীবনবিমা পরিকল্পনায় সঞ্চয়ের সুবিধার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাও থাকে।

তবে কোনো আর্থিক পরিকল্পনা নেওয়ার আগে নিজের আয়, প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাসই ধীরে ধীরে বড় আর্থিক লক্ষ্য পূরণের পথ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: মেট লাইফ


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল
সঞ্চয়পত্রের টাকা পেতে ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ে চালু হচ্ছে এভিএস
জর্দার কৌটায় ১০ বছরের সঞ্চয়, খুলে দেখলেন সব শেষ
৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: কাদের জন্য, কী কী সুবিধা মিলবে