
নিজের বিনোদনের জন্য ফোনে ভিডিও দেখা স্বাভাবিক। কিন্তু লোকাল বাসে উচ্চস্বরে রিলস, গান বা নাটকের দৃশ্য চালিয়ে দিলে সেটি অন্য যাত্রীদের জন্য বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
লোকাল বাসে দীর্ঘ যানজট কিংবা একঘেয়ে যাত্রার সময় অনেকেই মোবাইল ফোনে রিলস, গান, নাটক বা বিভিন্ন ভিডিও দেখে সময় কাটান। যাত্রাপথে নিজের মতো বিনোদন নেওয়ার এই অভ্যাসে সমস্যা নেই। তবে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ফোনের শব্দ এতটাই জোরে থাকে যে আশপাশের সবাইকে বাধ্য হয়ে সেই ভিডিও শুনতে হয়।
একজন যাত্রীর কাছে কোনো ভিডিও মজার কিংবা উপভোগ্য মনে হতে পারে। কিন্তু পাশের আসনে থাকা অন্য ব্যক্তি সেটি শুনতে বা দেখতে আগ্রহী নাও হতে পারেন। লোকাল বাস একটি ভাগাভাগি করা জায়গা। এখানে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ একসঙ্গে যাতায়াত করেন। কেউ অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরছেন, কেউ অসুস্থ, আবার কেউ হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের চিন্তায় আছেন। এমন পরিস্থিতিতে একজনের ফোনের উচ্চ শব্দ অন্যদের স্বস্তি নষ্ট করতে পারে।
নিজের বিনোদন, কিন্তু শব্দটা সবার কেন?
মোবাইল ফোনে কী দেখা হবে, সেটি অবশ্যই ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু সেই ভিডিওর শব্দ যখন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিষয়টি আর শুধু ব্যক্তিগত থাকে না।
বিশেষ করে কোনো ভিডিওতে অশালীন ভাষা, বিব্রতকর সংলাপ কিংবা অনুপযুক্ত দৃশ্যের শব্দ থাকলে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অনেক সময় ভিডিওর শুরুতে স্বাভাবিক বিষয় থাকলেও হঠাৎ এমন কোনো সংলাপ বা শব্দ চলে আসে, যা প্রকাশ্যে শোনার মতো নয়। তখন আশপাশের যাত্রীরা ইচ্ছা না থাকলেও তা শুনতে বাধ্য হন।
একই বাসে ছোট শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা যাত্রী থাকতে পারেন। তাই ব্যক্তিগতভাবে কোনো ভিডিও দেখতে সমস্যা না থাকলেও সেটি প্রকাশ্য পরিবেশে উচ্চস্বরে চালানোর আগে অন্যদের কথা ভাবা জরুরি।
সহজ সমাধান হেডফোন
এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো হেডফোন বা কানে ব্যবহারের যন্ত্র ব্যবহার করা। এতে বাসে বসেই রিলস, গান, সিনেমা কিংবা অন্য কোনো ভিডিও নিজের মতো করে উপভোগ করা যায়। একই সঙ্গে আশপাশের যাত্রীরাও বিরক্ত হন না।
হেডফোন না থাকলেও ফোনের শব্দ বন্ধ করে ভিডিওর লেখা বা নিচের সংলাপ দেখে নেওয়া যায়। আর কোনো কারণে ফোনের শব্দ চালু রাখতেই হলে শব্দ যতটা সম্ভব কম রাখা উচিত।
তাহলে কি এটি অভদ্রতা?
প্রশ্নটি শুধু উচ্চস্বরে শব্দ করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অন্যের প্রতি সম্মান ও সামাজিক শিষ্টাচার।
কেউ হয়তো ইচ্ছা করে অন্যকে বিরক্ত করছেন না। নিজের ভিডিও দেখার সময় ফোনের শব্দ কতটা দূরে যাচ্ছে, সেটি অনেকের খেয়ালও থাকে না। তাই সব সময় এটিকে ইচ্ছাকৃত অভদ্রতা বলা যায় না।
তবে বিষয়টি বুঝতে পারার পরও যদি কেউ শব্দ কমানোর চেষ্টা না করেন, তাহলে সেটি অন্য যাত্রীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবেই দেখা যেতে পারে।
একটু সচেতনতাই পারে যাত্রা স্বস্তির করতে
পাবলিক পরিবহনে চলাফেরার সময় ছোট কিছু অভ্যাস অন্যদের জন্য বড় স্বস্তি তৈরি করতে পারে। ফোনে কথা বলার সময় নিচু স্বরে কথা বলা, ভিডিও দেখার সময় হেডফোন ব্যবহার করা এবং উচ্চস্বরে গান বা রিলস না চালানো—এসবই নাগরিক শিষ্টাচারের অংশ।
অনেকে মনে করতে পারেন, ‘আমি তো নিজের ফোনেই দেখছি, সমস্যা কোথায়?’ কিন্তু সবার সামনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের স্বস্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কয়েক মিনিটের বিনোদনের জন্য আশপাশের মানুষকে অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই ভিডিওর শ্রোতা বানানোর প্রয়োজন নেই। আপনি যে ভিডিওটি দেখতে পছন্দ করছেন, অন্যরাও সেটি শুনতে বা দেখতে চাইবেন—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
তাই লোকাল বাসে রিলস বা ভিডিও দেখার সময় হেডফোন ব্যবহার করা কিংবা শব্দ একেবারে কমিয়ে রাখা সবচেয়ে ভদ্র ও বিবেচনাপূর্ণ অভ্যাস। এতে নিজের বিনোদনও হবে, আবার অন্য যাত্রীদের যাত্রাপথও অস্বস্তিকর হবে না।
আরটিভি/জেএমএ


