ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

লোকাল বাসে উচ্চস্বরে রিলস দেখা কী অভদ্রতা নয় 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
লোকাল বাসে উচ্চস্বরে মোবাইলে ভিডিও দেখলে বিরক্ত হতে পারেন আশপাশের যাত্রীরা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি 

নিজের বিনোদনের জন্য ফোনে ভিডিও দেখা স্বাভাবিক। কিন্তু লোকাল বাসে উচ্চস্বরে রিলস, গান বা নাটকের দৃশ্য চালিয়ে দিলে সেটি অন্য যাত্রীদের জন্য বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

লোকাল বাসে দীর্ঘ যানজট কিংবা একঘেয়ে যাত্রার সময় অনেকেই মোবাইল ফোনে রিলস, গান, নাটক বা বিভিন্ন ভিডিও দেখে সময় কাটান। যাত্রাপথে নিজের মতো বিনোদন নেওয়ার এই অভ্যাসে সমস্যা নেই। তবে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ফোনের শব্দ এতটাই জোরে থাকে যে আশপাশের সবাইকে বাধ্য হয়ে সেই ভিডিও শুনতে হয়।

একজন যাত্রীর কাছে কোনো ভিডিও মজার কিংবা উপভোগ্য মনে হতে পারে। কিন্তু পাশের আসনে থাকা অন্য ব্যক্তি সেটি শুনতে বা দেখতে আগ্রহী নাও হতে পারেন। লোকাল বাস একটি ভাগাভাগি করা জায়গা। এখানে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ একসঙ্গে যাতায়াত করেন। কেউ অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরছেন, কেউ অসুস্থ, আবার কেউ হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের চিন্তায় আছেন। এমন পরিস্থিতিতে একজনের ফোনের উচ্চ শব্দ অন্যদের স্বস্তি নষ্ট করতে পারে।

আরও পড়ুন

নিজের বিনোদন, কিন্তু শব্দটা সবার কেন?

মোবাইল ফোনে কী দেখা হবে, সেটি অবশ্যই ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু সেই ভিডিওর শব্দ যখন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিষয়টি আর শুধু ব্যক্তিগত থাকে না।

বিশেষ করে কোনো ভিডিওতে অশালীন ভাষা, বিব্রতকর সংলাপ কিংবা অনুপযুক্ত দৃশ্যের শব্দ থাকলে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অনেক সময় ভিডিওর শুরুতে স্বাভাবিক বিষয় থাকলেও হঠাৎ এমন কোনো সংলাপ বা শব্দ চলে আসে, যা প্রকাশ্যে শোনার মতো নয়। তখন আশপাশের যাত্রীরা ইচ্ছা না থাকলেও তা শুনতে বাধ্য হন।

একই বাসে ছোট শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা যাত্রী থাকতে পারেন। তাই ব্যক্তিগতভাবে কোনো ভিডিও দেখতে সমস্যা না থাকলেও সেটি প্রকাশ্য পরিবেশে উচ্চস্বরে চালানোর আগে অন্যদের কথা ভাবা জরুরি।

সহজ সমাধান হেডফোন

এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো হেডফোন বা কানে ব্যবহারের যন্ত্র ব্যবহার করা। এতে বাসে বসেই রিলস, গান, সিনেমা কিংবা অন্য কোনো ভিডিও নিজের মতো করে উপভোগ করা যায়। একই সঙ্গে আশপাশের যাত্রীরাও বিরক্ত হন না।

হেডফোন না থাকলেও ফোনের শব্দ বন্ধ করে ভিডিওর লেখা বা নিচের সংলাপ দেখে নেওয়া যায়। আর কোনো কারণে ফোনের শব্দ চালু রাখতেই হলে শব্দ যতটা সম্ভব কম রাখা উচিত।

তাহলে কি এটি অভদ্রতা?

প্রশ্নটি শুধু উচ্চস্বরে শব্দ করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অন্যের প্রতি সম্মান ও সামাজিক শিষ্টাচার।

কেউ হয়তো ইচ্ছা করে অন্যকে বিরক্ত করছেন না। নিজের ভিডিও দেখার সময় ফোনের শব্দ কতটা দূরে যাচ্ছে, সেটি অনেকের খেয়ালও থাকে না। তাই সব সময় এটিকে ইচ্ছাকৃত অভদ্রতা বলা যায় না।

তবে বিষয়টি বুঝতে পারার পরও যদি কেউ শব্দ কমানোর চেষ্টা না করেন, তাহলে সেটি অন্য যাত্রীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

একটু সচেতনতাই পারে যাত্রা স্বস্তির করতে

পাবলিক পরিবহনে চলাফেরার সময় ছোট কিছু অভ্যাস অন্যদের জন্য বড় স্বস্তি তৈরি করতে পারে। ফোনে কথা বলার সময় নিচু স্বরে কথা বলা, ভিডিও দেখার সময় হেডফোন ব্যবহার করা এবং উচ্চস্বরে গান বা রিলস না চালানো—এসবই নাগরিক শিষ্টাচারের অংশ।

অনেকে মনে করতে পারেন, ‘আমি তো নিজের ফোনেই দেখছি, সমস্যা কোথায়?’ কিন্তু সবার সামনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের স্বস্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কয়েক মিনিটের বিনোদনের জন্য আশপাশের মানুষকে অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই ভিডিওর শ্রোতা বানানোর প্রয়োজন নেই। আপনি যে ভিডিওটি দেখতে পছন্দ করছেন, অন্যরাও সেটি শুনতে বা দেখতে চাইবেন—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

তাই লোকাল বাসে রিলস বা ভিডিও দেখার সময় হেডফোন ব্যবহার করা কিংবা শব্দ একেবারে কমিয়ে রাখা সবচেয়ে ভদ্র ও বিবেচনাপূর্ণ অভ্যাস। এতে নিজের বিনোদনও হবে, আবার অন্য যাত্রীদের যাত্রাপথও অস্বস্তিকর হবে না।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহার বেড়েছে: বিবিএস
সিগারেট-ওষুধ-মোবাইলসহ ১১ খাতের জন্য এনবিআরের নতুন আদেশ 
মোবাইলের কিস্তি দিতে না পারায় যুবককে তুলে নিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ
কাপড়ের রোলের আড়ালে ৫ কোটি টাকার মোবাইলের চালান