ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

লোকাল বাসে উচ্চস্বরে রিলস দেখা কী অভদ্রতা নয় 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
লোকাল বাসে উচ্চস্বরে মোবাইলে ভিডিও দেখলে বিরক্ত হতে পারেন আশপাশের যাত্রীরা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি 

নিজের বিনোদনের জন্য ফোনে ভিডিও দেখা স্বাভাবিক। কিন্তু লোকাল বাসে উচ্চস্বরে রিলস, গান বা নাটকের দৃশ্য চালিয়ে দিলে সেটি অন্য যাত্রীদের জন্য বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

লোকাল বাসে দীর্ঘ যানজট কিংবা একঘেয়ে যাত্রার সময় অনেকেই মোবাইল ফোনে রিলস, গান, নাটক বা বিভিন্ন ভিডিও দেখে সময় কাটান। যাত্রাপথে নিজের মতো বিনোদন নেওয়ার এই অভ্যাসে সমস্যা নেই। তবে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ফোনের শব্দ এতটাই জোরে থাকে যে আশপাশের সবাইকে বাধ্য হয়ে সেই ভিডিও শুনতে হয়।

একজন যাত্রীর কাছে কোনো ভিডিও মজার কিংবা উপভোগ্য মনে হতে পারে। কিন্তু পাশের আসনে থাকা অন্য ব্যক্তি সেটি শুনতে বা দেখতে আগ্রহী নাও হতে পারেন। লোকাল বাস একটি ভাগাভাগি করা জায়গা। এখানে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ একসঙ্গে যাতায়াত করেন। কেউ অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরছেন, কেউ অসুস্থ, আবার কেউ হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের চিন্তায় আছেন। এমন পরিস্থিতিতে একজনের ফোনের উচ্চ শব্দ অন্যদের স্বস্তি নষ্ট করতে পারে।

আরও পড়ুন

নিজের বিনোদন, কিন্তু শব্দটা সবার কেন?

মোবাইল ফোনে কী দেখা হবে, সেটি অবশ্যই ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু সেই ভিডিওর শব্দ যখন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিষয়টি আর শুধু ব্যক্তিগত থাকে না।

বিশেষ করে কোনো ভিডিওতে অশালীন ভাষা, বিব্রতকর সংলাপ কিংবা অনুপযুক্ত দৃশ্যের শব্দ থাকলে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অনেক সময় ভিডিওর শুরুতে স্বাভাবিক বিষয় থাকলেও হঠাৎ এমন কোনো সংলাপ বা শব্দ চলে আসে, যা প্রকাশ্যে শোনার মতো নয়। তখন আশপাশের যাত্রীরা ইচ্ছা না থাকলেও তা শুনতে বাধ্য হন।

একই বাসে ছোট শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকা যাত্রী থাকতে পারেন। তাই ব্যক্তিগতভাবে কোনো ভিডিও দেখতে সমস্যা না থাকলেও সেটি প্রকাশ্য পরিবেশে উচ্চস্বরে চালানোর আগে অন্যদের কথা ভাবা জরুরি।

সহজ সমাধান হেডফোন

এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো হেডফোন বা কানে ব্যবহারের যন্ত্র ব্যবহার করা। এতে বাসে বসেই রিলস, গান, সিনেমা কিংবা অন্য কোনো ভিডিও নিজের মতো করে উপভোগ করা যায়। একই সঙ্গে আশপাশের যাত্রীরাও বিরক্ত হন না।

হেডফোন না থাকলেও ফোনের শব্দ বন্ধ করে ভিডিওর লেখা বা নিচের সংলাপ দেখে নেওয়া যায়। আর কোনো কারণে ফোনের শব্দ চালু রাখতেই হলে শব্দ যতটা সম্ভব কম রাখা উচিত।

তাহলে কি এটি অভদ্রতা?

প্রশ্নটি শুধু উচ্চস্বরে শব্দ করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অন্যের প্রতি সম্মান ও সামাজিক শিষ্টাচার।

কেউ হয়তো ইচ্ছা করে অন্যকে বিরক্ত করছেন না। নিজের ভিডিও দেখার সময় ফোনের শব্দ কতটা দূরে যাচ্ছে, সেটি অনেকের খেয়ালও থাকে না। তাই সব সময় এটিকে ইচ্ছাকৃত অভদ্রতা বলা যায় না।

তবে বিষয়টি বুঝতে পারার পরও যদি কেউ শব্দ কমানোর চেষ্টা না করেন, তাহলে সেটি অন্য যাত্রীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

একটু সচেতনতাই পারে যাত্রা স্বস্তির করতে

পাবলিক পরিবহনে চলাফেরার সময় ছোট কিছু অভ্যাস অন্যদের জন্য বড় স্বস্তি তৈরি করতে পারে। ফোনে কথা বলার সময় নিচু স্বরে কথা বলা, ভিডিও দেখার সময় হেডফোন ব্যবহার করা এবং উচ্চস্বরে গান বা রিলস না চালানো—এসবই নাগরিক শিষ্টাচারের অংশ।

অনেকে মনে করতে পারেন, ‘আমি তো নিজের ফোনেই দেখছি, সমস্যা কোথায়?’ কিন্তু সবার সামনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের স্বস্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কয়েক মিনিটের বিনোদনের জন্য আশপাশের মানুষকে অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই ভিডিওর শ্রোতা বানানোর প্রয়োজন নেই। আপনি যে ভিডিওটি দেখতে পছন্দ করছেন, অন্যরাও সেটি শুনতে বা দেখতে চাইবেন—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

তাই লোকাল বাসে রিলস বা ভিডিও দেখার সময় হেডফোন ব্যবহার করা কিংবা শব্দ একেবারে কমিয়ে রাখা সবচেয়ে ভদ্র ও বিবেচনাপূর্ণ অভ্যাস। এতে নিজের বিনোদনও হবে, আবার অন্য যাত্রীদের যাত্রাপথও অস্বস্তিকর হবে না।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
১ জানুয়ারি থেকে শনাক্ত হবে অননুমোদিত মোবাইল
অজু ছাড়া মোবাইল স্ক্রিনে কোরআনের আয়াত স্পর্শ করা যাবে?
রাবিতে ঢুকে শিক্ষার্থীর মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে