ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সর্দি-কাশিতে শিশুকে মধু খাওয়ান? আগে জানুন এই বিপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

শিশুর সর্দি-কাশি হলেই অনেক বাবা-মা ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা করেন। এর মধ্যে মধু অন্যতম। তুলসীপাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ানো থেকে শুরু করে শিশুর কান্না থামাতে চুষনিতে মধু লাগিয়ে দেওয়ার চলও রয়েছে অনেক পরিবারে। মিষ্টি স্বাদের কারণে শিশু সহজেই মধু গ্রহণ করে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এই মিষ্টি খাবারটিই ডেকে আনতে পারে গুরুতর বিপদ।

এক বছরের আগে মধু নয়

অনেক বাবা-মা শিশুকে চিনি খাওয়ান না। মধুকে তারা চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেই মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু দেওয়া উচিত নয়।

কারণ, মধুর মধ্যে থাকা কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শিশুর অন্ত্রে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। এই সমস্যাকে বলা হয় ইনফ্যান্ট বটুলিজম। এর ফলে শরীরে এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়, যা শিশুর মাংসপেশি দুর্বল করে দিতে পারে।

আরও পড়ুন

কেন এতটা বিপজ্জনক?

শিশুর অন্ত্রে তৈরি হওয়া এই বিষাক্ত পদার্থ স্নায়ু, মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর শরীরের বিভিন্ন অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। এমনকি শ্বাস নেওয়ার পেশি দুর্বল হয়ে দমবন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

তাই শিশুর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মধু খাওয়ানোর ঝুঁকি কোনোভাবেই নেওয়া উচিত নয়।

মধু গরম করলেও কি নিরাপদ?

অনেকের ধারণা, মধু গরম করলে এর মধ্যে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণা ঠিক নয়। মধু গরম করলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। তাই গরম করে বা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া নিরাপদ নয়।

মধু খাওয়ার পর যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

শিশুকে মধু খাওয়ানোর পর যদি পেশি দুর্বল হয়ে যায়, খাবার গিলতে সমস্যা হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় কিংবা সামান্যতেই দ্রুত হাঁপিয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সর্দি-কাশিতে কী করবেন?

শিশুর সর্দি-কাশি হলেই নিজের মতো করে মধু, তুলসীপাতার রস কিংবা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান খাওয়ানোর আগে সতর্ক হওয়া দরকার। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে মধু একেবারেই দেওয়া যাবে না।

শিশুর সর্দি-কাশি হলে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক যে ওষুধ বা পরিচর্যার পরামর্শ দেবেন, সেটিই অনুসরণ করা উচিত।

শিশুর জন্য কোনো খাবার বা ঘরোয়া উপাদানকে প্রাকৃতিক বা স্বাস্থ্যকর মনে হলেই তা নিরাপদ—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বয়স অনুযায়ী কোন খাবার শিশুর জন্য নিরাপদ, তা জানাই সবচেয়ে জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
দুধ খেতে গিয়েই হাঁপিয়ে যায় শিশু, যে বিপদের সংকেত 
সর্দি-কাশি থেকে ডেঙ্গু, বর্ষায় শিশুকে যেভাবে রাখবেন সুরক্ষিত 
সর্দি-কাশি না নিউমোনিয়া, বুঝবেন যে লক্ষণে
শিশু একদিকে হেলে হাঁটছে? মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়ার লক্ষণ কি না বুঝবেন যেভাবে